জানুয়ারিতে চালু হচ্ছে ‘মাদার অব হিউম্যানিটি-সমাজকল্যাণ পদক’

সিলনিউজ অনলাইন ডেস্কঃ ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে চালু হচ্ছে ‘শেখ হাসিনা মাদার অব হিউম্যানিটি-সমাজকল্যাণ পদক’। প্রতি বছর ২ জানুয়ারি জাতীয় সমাজসেবা দিবসে  সমাজ উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবে পাঁচটি ক্ষেত্রে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এই পদক দেওয়া হবে। সম্প্রতি প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটির সভায় এ সংক্রান্ত নীতিমালা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সমন্বয় ও সংস্কার সচিব এনএম জিয়াউল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটির বৈঠকে প্রস্তাবিত নীতিমালার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।’

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বাজেট, কার্যক্রম ও মূল্যায়ন) ড. মো. নাসির উদ্দিন  বলেন, ‘সচিব কমিটির সভায় প্রস্তাবিত নীতিমালার অনুমোদন মিলেছে। যতদ্রুত সম্ভব নীতিমালাটি প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিশ্ব ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ ঘোষণা করেছে। সারাবিশ্বে তিনি সম্মান পেয়েছেন, আমরাও তার সম্মানে এই পদক চালু করছি। আগামী বছর ২ জানুয়ারিতে এই পদক দেওয়া হবে।’

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নীতিমালাটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হলে গত ১৬ সেপ্টেম্বর প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটির সভায় উত্থাপন করা হয়। পরে সভায় নীতিমালাটি অনুমোদন পায়।

প্রস্তাবিত নীতিমালায় বলা হয়েছে, সুবিধাবঞ্চিত অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর সামাজিক সুরক্ষা, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সমন্বিত সম-উন্নয়ন, সামাজিক ন্যায়বিচার পুনঃএকত্রীকরণ এবং আর্থসামজিক উন্নয়নে সমাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠাসহ পাঁচটি ক্ষেত্রে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এ পদক দেওয়া হবে। তবে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কোনও বছর প্রার্থী না পাওয়া গেলে পদক সংখ্যা কমানো বা পুরস্কারের নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত হলে পদক সংখ্যা বাড়ানো হবে।

ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া পদক তৈরি করা হবে ১৮ ক্যারট মানের ২৫ গ্রাম সোনা দিয়ে। এছাড়া পুরস্কারপ্রাপ্তদের দেওয়া হবে দুই লাখ টাকার চেক ও সম্মাননা সনদ। প্রস্তাবিত নীতিমালায় এই পদক ও পদক অনুষ্ঠানে প্রাথমিকভাবে ব্যয় ধরা হয়েছে ২২ লাখ ৫১ হাজার ৫০০ টাকা। মরণোত্তর পুরস্কারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে নীতিমালায়।

প্রতিবছর ৫ জুলাই পদক প্রদানের জন্য মনোনয়ন আহ্বান করা হবে। ৩১ আগস্টের মধ্যে জেলা কমিটি যাচাই-বাছাই শেষে মনোনীত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে পদকের জন্য সুপারিশ করবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগ সরকারি প্রতিষ্ঠান ২৩ আগস্টের মধ্যে মনোনয়ন চূড়ান্ত করবে। পরে ১৫ অক্টোবরের মধ্যে জাতীয় কমিটি মনোনয়ন চূড়ান্ত করবে এবং ৩১ অক্টোবরের মধ্যে সুপারিশ জাতীয় পুরস্কার সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বিবেচনার জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠাবে।সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন নিয়ে পদক দেওয়া হবে প্রতি বছর ২ জানুয়ারি। তবে নীতিমালা চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত নির্ধারিত এ তারিখ পরিবর্তন হতে পারে।

প্রস্তাবিত নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে- পদক দেওয়ার জন্য প্রার্থী বাছাইয়ে প্রতিটি জেলায় একটি করে কমিটি থাকবে। জেলা কমিটির সভাপতি থাকবেন জেলা প্রশাসক এবং সদস্য সচিব হবেন জেলা সমাজসেবা অফিসার। এছাড়া সিভিল সার্জন, পুলিশ সুপার, জেলা শিক্ষা অফিসার, জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, যুব উন্নয়নের উপ-পরিচালক ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের জেলা কমান্ডার কমিটির সদস্য হিসেবে থাকবেন।

ফেসবুক মন্তব্য
xxx