বাংলাদেশ ভারত যৌথ প্রকল্পে কী কী থাকছে?

সিলনিউজ অনলাইনঃ বাংলাদেশ-ভারত যৌথ অর্থায়ন ও এলসিও ঋণ সহায়তার আওতায় রেলওয়ের দু’টি উন্নয়ন প্রকল্পসহ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় আন্তঃবিদ্যুৎ সংযোগ গ্রিড এইচভিডিসি (২য় ব্লক) প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম উদ্বোধন করেছেন দু’দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং নরেন্দ্র মোদি।

আজ (সোমবার) বিকালে ভিডিও কনফারেন্স যোগে তারা (হাসিনা-মোদি) নিজ নিজ দেশ থেকে প্রকল্প গুলো উদ্বোধন করেন। 

উদ্বোধনকালে উভয় সরকার প্রধান, প্রতিবেশি দুই রাষ্ট্রের অভিন্ন স্বার্থ; পারস্পরিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিদ্যমান সৌহার্দ্যের চিত্র তুলে ধরেন। সঙ্গে প্রত্যাশা রাখেন সৌহার্দ্যের এ সম্পর্ক সামনের দিনগুলোতে আরো উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী এবং ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ স্বাগত বক্তব্য রাখেন। এরপর বক্তব্য রাখেন ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব এবং আগরতলা থেকে অংশ নেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

শুরুতে ভেড়ামারা এইচভিডিসি সেকেন্ড ফেজ ভারত প্রতিশ্রুত ওয়ান বিলিয়ন ডলার লাইন অব ক্রেডিট-এলসিও ঋণের আওতায় সম্পন্ন করার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক-এডিবি’র অর্থায়ন এবং নিজস্ব তহবিল থেকে সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

বাংলাদেশ-ভারত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার আওতায় ভারত থেকে এ বিদ্যুৎ আমাদানি করা হচ্ছে। সামনের দিন গুলোতে যা আরও বাড়ানোর চিন্তা-ভাবনা রয়েছে সরকারের। আগামী ২১ সালে জাতীয় গ্রিডে ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের সঞ্চালন নিশ্চিত করতে চায় সরকার। যার ১০ শতাংশ ভারত থেকে আমাদানি করার পরিকল্পনা রয়েছে।

দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে উৎপাদনকে পেছনে সরিয়ে আমদানিকে সহজ সমাধান মনে করছে সরকারের নীতিনির্ধারনী মহল। তারা ভাবছে, নিজস্ব উৎপাদনের জায়গায় আমদানি করলে ভূমি, জ্বালানী ও এককালীন বিশাল বিনিয়োগের ঝামেলা মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

এমত অবস্থা সামনের দিনগুলোতে ভারতের পাশাপাশি নেপাল, ভুটান, চীন ও মিয়ানমার থেকেও বিদ্যুৎ আমদানি করার কথা ভাবা হচ্ছে সরকারের নীতিনির্ধারণী মহল থেকে।

তৃতীয় দফা ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি: তৃতীয় দফায় ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে উদ্বোধনকৃত কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় নব-নির্মিত এই এইচভিডিসি (২য় ব্লক) প্রকল্প। ৩০০ মেগাওয়াট দিয়ে শুরু করলেও নব-নির্মিত এ হাই-ভোল্টেজ ডিরেক্ট কারেন্ট (এইচভিডিসি) স্টেশনটি দিয়ে ৫০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ আমদানি করা সম্ভব হবে

১০ সেপ্টেম্বর (রোববার) দিবাগত রাত ১২টার পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গের বহরমপুর গ্রিড দিয়ে ভেড়ামারা আন্তঃবিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনে বিদ্যুতের প্রবাহ শুরু হয়। পর্যায়ক্রমে চাহিদা, গ্রিড সমন্বয় (সিনক্রোনাইজেশন) সহ পারিপার্শ্বিক বিষয় বিবেচনা করে পাওয়ার স্টেশনটিকে পূর্ণ সক্ষমতায় নেওয়া হবে।

জাতীয় গ্রিডে নতুন এ ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের অন্তর্ভুক্তিতে, ভারত থেকে আমদানিকৃত মোট বিদ্যুতের পরিমাণ দাঁড়ালো ৯৬০ মেগাওয়াট। এইচভিডিসি’র সেকেন্ড ফেস সম্পূর্ণ রূপে কাজ শুরু করলে তা ১১৬০ মেগাওয়াটে দাঁড়াবে।

ইতিপূর্বে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বহরমপুর গ্রিড থেকে ভেড়ামারা এইচভিডিসি (১ম ব্লক) দিয়ে ৫০০ এবং ত্রিপুরা রাজ্য থেকে কুমিল্লা বিদ্যুৎ গ্রিড দিয়ে ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করে আসছিল বাংলাদেশ।

নতুন এই ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের মধ্যে ৩০০ মেগাওয়াট কেনা হবে ভারতীয় সরকারি খাত ‘ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার প্লান্ট’ আর বাকি ২০০ মেগাওয়াট আসবে বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদন কোম্পানি ‘পাওয়ার ট্রেডিং করপোরেশন’ থেকে। আমদানিতে বাংলাদেশকে স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদে বিদ্যুৎ পাওয়ার জন্য আলাদা আলাদা মূল্য পরিশোধ করতে হবে। দু’দেশের চুক্তির আওতায় ২০১৯ সালের শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ সাড়ে চার টাকার কিছু বেশিতে এ বিদ্যুৎ আমদানি করতে পারবে। আর দীর্ঘ মেয়াদে ২০২০’র শুরু থেকে ২০৩৩’র মে পর্যন্ত সাড়ে ৬ টাকা হারে মূল্য পরিশোধ করতে হবে।

১ হাজার ৭১ কোটি ৩৭ লাখ টাকার প্রকল্পটিতে ৭০০ কোটি টাকার যোগান আসেছে এডিবি ঋণ সহায়তা থেকে। ২৮৮ কোটি টাকা নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় করে সরকার। প্রকল্পটিতে বাদবাকি ৮৩ কোটি ৩৭ লাখ টাকার যোগান দিয়েছে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ লি. (পিজিসিবি)।

রেলওয়ে প্রকল্প: উদ্বোধনকৃত বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রকল্প দুটি হচ্ছে ‘কুলাউড়া-শাহবাজপুর সেকশন পুনর্বাসন’ ও ‘আখাউড়া-আগরতলা ডুয়েল গেজ রেল সংযোগ নির্মাণ (বাংলাদেশ অংশ)’।

প্রথম প্রকল্পের আওতায় কুলাউড়া-শাহবাজপুর অংশের ৫৩ কিলোমিটারে উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হবে। এ প্রকল্পের প্রাক্কলিত (আনুমানিক) ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৭৮ কোটি ৫০ লাখ ৭৯ হাজার টাকা। যার সিংহভাগই (৫৫৫ কোটি ৯৮ লাখ ৭৬ হাজার টাকা) আসবে ভারত সরকার প্রতিশ্রুত (ওয়ান বিলিয়ন ডলার লাইন অব ক্রেডিট) এলসিও ঋণ থেকে দ্বিতীয় প্রকল্পে আখাউড়া থেকে আগরতলা মোট ১০ কিলোমিটার ডুয়েলগেজ রেল সংযোগের বাংলাদেশ অংশের কাজ উদ্বোধন করা হয়। এ প্রকল্পের আওতায় রেল লাইন ও এর আনুসাঙ্গিক থেকে শুরু করে ইমিগ্রেশন ভবনসহ সকল প্রকার যাত্রী সুবিধা সৃষ্টি করা হবে। প্রকল্পের প্রাক্কলিত (আনুমানিক) ব্যয় ধরা হয়েছে ২৪০ কোটি ৯০ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। যার পুরোটাই আসবে ভারতীয় মঞ্জুরি সহায়তার আওতায়।

সূত্রঃ চ্যানেল আই

ফেসবুক মন্তব্য
xxx