সড়ক দূর্ঘটনা কেন হয়? : নিজাম উদ্দিন

সড়ক দূর্ঘটনা কেন হয় ?

বাংলাদেশের সড়ক-মহাসড়কে দূর্ঘটনা ঘটার প্রধান কারণ হল গাড়ির মালিকের গাড়ি এবং ড্রাইভারদের ড্রাইভিং সম্পর্কে রীতিমতো অজ্ঞতা।গাড়ির ফিটনেস সমস্যা, ড্রাইভিং পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হওয়া অদক্ষ ড্রাইভার দ্বারা গাড়ি চালানো, সড়ক মহাসড়কে গরু, ছাগ্‌ ঘোড়া, বেঁড়ার অবাধ  বিচরণ, পথচারিদের যত্রতত্র রাস্তা পারাপার।

পৃথিবীর উন্নত দেশে অনেকের জন্য বড় আনন্দ এবং সৌভাগ্যের বিষয় হল মোটর ড্রাইভিংয়ে পাস করা। সভ্যতার মানদন্ডে সামর্থ্যবান ব্যক্তির গাড়ি থাকবে নিজে ড্রাইভিং করব, দর্শনীয় স্থানে ঘুরবে, প্রিয়জনকে সাথে নিয়ে ইহা পরম আনন্দ সম্মানের। ইউরোপের যে কোন দেশে প্রায় প্রত্যেকের গাড়ি আছে, কিন্তু ড্রাইভিং পাস করতে এক অথবা একাধিক বার পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়, যখন উত্তীর্ণ হয় তার নিজের এবং প্রিয়জনের আনন্দ উল্লাসে মনে হবে সে যেন রাজ্য জয় করে পেলেছে। অনেক আছে সারা জীবনে ড্রাইভিং পাস করতে পারেনি, সেখানে তারা পৃথিবীর সব চাইতে অসহায় মানুষ। বাংলাদেশ ছাড়া এশিয়া ইউরোপের অন্যান্য দেশে গাড়ি দূর্ঘটনার সংবাদ খুব একটা শোনা যায় না। দূর্ঘটনার হার অনেক নিচে তার কারণ হল তাদের সততা দেশপ্রেমের কাছে অনৈতিক টাকা ক্ষমতাসীনদের দাপট সুপারিস অচল, বাংলাদেশে প্রতিদিন শতাধিক দূর্ঘটনায় মৃত্যুর সংবাদ শোনে মানুষের গা সয়ে গেছে।

গত বৎসর কোন একদিন বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির সিলেট অফিসে আমি ড্রাইভিং পরীক্ষায় প্রায় ১৫০জন পেশাদার অপেশাদার ড্রাইভিং পরীক্ষার্থীদের সাথে নিজে অংশ গ্রহন করি। যথাযত সঠিক পরীক্ষা হলে ২জন পাস করতো কি না সন্দেহের বিষয়। আমি তাজ্জব হলাম সম্ভবত সবাই পাস করেছে।যতারীতি আমিও পাস করলাম অনেকটি পরীক্ষায় প্রশ্নবিদ্ধ অংশগ্রহন করে। জীবনে অনেক পরীক্ষায় পাস করে গর্বিত প্রশংসিত হয়েছি, দুঃখের বিষয় এই পরীক্ষা পাসের কোন আনন্দ মন থেকে অনুভব করিনি। রাষ্ট্রের অতিব জন গুরুত্বপূর্ণ একটি শাখায় আজগুবি কান্ড, দেশের সমস্ত মানুষ ধারাবাহিক ভাবে তাদের কারনে নামকা ওয়াস্তে ব্যবহৃত ড্রাইভিং পাস করা অদক্ষ ড্রাইভারদের দ্বারা প্রতিদিন আহত নিহত হচ্ছে।মনে হচ্ছে এদেশে জন্মানোর অপরাধে দূর্ঘটনায় পড়তে হবে। একটি মাত্র ডিপার্টম্যান্টের কিছু কর্মকর্তার অনৈতিক কিছু সুবিধার কারনে প্রতিদিন বাংলাদেশে সড়ক দূর্ঘটনায় শত শত মায়ের বুক খালি হচ্ছে। এ থেকে উত্তরণের জন্য গাড়ির মালিকের ড্রাইভারের পরীক্ষা আরো বেশি দায়িত্ব নিয়ে দেখতে হবে, অন্তত কিছু কর্মকর্তাকে দেশ এবং তাদের সন্তানের চিন্তা দেশপ্রেম হৃদয় দিয়ে ভাবতে হবে।


সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী সিলেটের গর্ব এম সাইফুর রহমান, সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা ইফতেখার আহমদ শামীম,  সাংবাদিক নির্মাতা মিশুক মুনির, তারেক মাসুদ, জাহানারা কাঞ্চন, সুনামগঞ্জের লক্ষ মানুষের প্রিয় দেওয়ান মুমিনুল মউজ উদ্দিনসহ নাম না জানা লক্ষ মানুষের মৃত্যুর শোক সইবার শক্তি দাও মাবুদ। নিরাপদ সড়ক হউক দেশের ১৬ কোটি মানুষের অধিকার, দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের দেশপ্রেমে বলিয়ান হোক এই প্রত্যাশা।

লেখকঃ নিজাম উদিন,সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান

ফেসবুক মন্তব্য
xxx