নবীগঞ্জে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ।

স্টাফ রিপোর্টারঃ নবীগঞ্জের পল্লীতে লিমা আক্তার (১৪) নামের এক কিশোরীকে দোকান ঘরে প্রায় ৭ ঘন্টা আটক রেখে কয়েক দফা জোর পূর্বক ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত নুরুল ইসলাম নাহিদ (৩০) নামের লম্পটের বিরুদ্ধে নবীগঞ্জ থানায় ধর্ষণ মামলা রেকর্ড ভুক্ত করেছে থানা পুলিশ।

ধর্ষককে গ্রেফতার করতে গত সোমবার দিবাগত রাতেই পুলিশ ষাড়াশি অভিযান চালিয়েছে। তবে লম্পট নাহিদ গ্রেফতার এড়াতে গা ঢাকা দিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল সোমবার সন্ধ্যা রাতে। নির্যাতিতা লিমা আক্তার জানায়, তার বাবা পেশায় একজন দিন মজুর, সে উপজেলার দীঘলবাক ইউনিয়নের দাউদপুর গ্রামের গোলজার মিয়ার কন্যা। গতকাল দুপুর ১ টার দিকে লিমা আক্তার সে তার এক ছোট ভাই নুরুজ্জামান ৬ নামের শিশুকে খেলার মাট থেকে বাড়ীতে আনার জন্য যাওয়ার পথিমধ্যে একই গ্রামের মৃত ওহাব উল্লার পুত্র নুরুল ইসলাম নাহিদের দোকানের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় নাহিদের ভাবী আংছার মিয়ার স্ত্রী রিনা বেগম তাকে ডেকে নেয় দোকানের পাশে। লিমা সেখানে যাওয়ার পরেই তার ভাবী সেখান থেকে চলে যায়, তার ভাবী চলে যাওয়ার পরপরই সুচতুর নাহিদ দোকান ঘরের বাহিরে তালাবদ্ধ করে ঘরের ভেতরে লিমাকে ঝাপটে ধরে হাত মুখ বেঁধে রাখে।

পরে তাকে জোর পূর্বক মুখ বেধে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জিম্মি করে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কয়েক দফা ধর্ষণ করে। এদিকে লিমাকে ৭ ঘন্টা ধরে বাড়িতে না পেয়ে তার মা বাবা ও আত্মীয় স্বজন পাগলের ন্যায় সাড়া গ্রাম তথা আত্মীয় স্বজনদের বাড়িতে খোঁজ খবর নিয়েও তার কোন সন্ধান না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েন। অপর দিকে সন্ধ্যা রাত অনুমান ৮টার দিকে লিমা নাহিদের হাতে পায়ে ধরে জীবন ভিক্ষা চেয়ে ও কৌশলে দৌড়াইয়া পালিয়ে প্রতিবেশী সাংবাদিক এম, মুজিবুর রহমানের বাড়ীতে গিয়ে আশ্রয় নেয়।

তখনকার সময় সাংবাদিক এম, মুজিবুর রহমান বাড়িতে ছিলেননা। তাঁর মা ও বোনেরা লিমা তাদের বাড়িতে এসে আশ্রয় নিয়েছে বলে তাকে মোবাইল ফোনে কল দিয়ে জানালে মেয়ের বাবা ও স্থানীয় ইউপি সদস্য ফখরুল ইসলাম জুয়েলসহ তাদের আত্মীয় স্বজনকে খবর দেন সাংবাদিক এম, মুজিবুর রহমান।

পরে লিমার পিতার কাছে লিমাকে সমজিয়ে দেওয়া হয়। এসময় উপস্থিত গ্রামবাসী সবার সামনে তার ধর্ষণের ঘটনার বিবরণ প্রকাশ করে লিমা আক্তার। এ বিষয়ে তাৎক্ষনিক নবীগঞ্জ থানায় অভিযোগ দিলে মেয়েকে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদের পর প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে থানায় ধর্ষণ মামলা রেকর্ড ভুক্ত করা হয়।

এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ থানার ওসি এস এম আতাউর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আসামীকে ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা ইনাতগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (ওসি) সামছুদ্দিন খান বলেন, আসামী যতই প্রভাবশালী হোক তাকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে। এই ঘটনায় এলাকায় তুলপাড় সৃস্টি হয়েছে।

কে এই নুরুল ইসলাম নাহিদ? সে নবীগঞ্জ উপজেলার দীঘলবাক ইউনিয়নের দাউদপুর গ্রামের মৃত ওহাব উল্লার পুত্র। তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ, মাদক, চুরি রাহাজানি, প্রতারণাসহ রয়েছে আরও অহরহ অভিযোগ। ২০১৪ সালের জুন মাসের প্রথম দিকে একই গ্রামের দিন মজুর ওয়ারিশ মিয়ার স্ত্রীর সাথে পরকিয়া সম্পর্ক গড়ে তোলে ওয়ারিশকে মারপিট করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়। এক পর্যায়ে ওয়ারিশ মিয়ার মেয়ের সাথেও লম্পট নাহিদ অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। গ্রামবাসী এঘটনার প্রতিবাদ করতে গেলে নাহিদ নিজে ওয়ারিশের ঘর আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছাঁই করে দেয়।

এ ঘটনায় ওয়ার্ডের ও গ্রামের তৎকালীন মেম্বার আশিক মিয়া ও স্থানীয় সাংবাদিকসহ তাদের আত্মীয় স্বজনের বিরুদ্ধে সে ওয়ারিশকে এক পর্যায়ে তার নিয়ন্ত্রনে নিয়ে আদালতে একটি মিথ্যা ঘর জ্বালানো মামলা দায়ের করে। এই মামলাটি নবীগঞ্জ থানা পুলিশ ও হবিগঞ্জ ডিবি পুলিশ দুই দফায় তদন্তকরে আদালতে মিথ্যা হিসাবে চার্জশিট প্রদান করায়। পরিশেষে ওয়ারিশ তার ভুল বুঝে মামলাটি নিঃশর্তে আদালত থেকে মামলা তুলে নেয়।

এছাড়াও সম্প্রতি বিবিয়ানা বিদ্যুৎ প্লান্টে চুরির ঘটনায় একটি মামলায় সে দীর্ঘদিন হাজতবাস করে। এছাড়া নাহিদ সে তার পিতৃ বসতভিটা তার অপর ভাইদের সাথে বিক্রয় করে তারই চাচাত বোন মৃত নোয়াব উল্লার মেয়ে আজিজুল বেগম ও ভাতিজা আরিছ মিয়া গংদের জায়গা জোর পূর্বক দখল করে দুইটি ঘর নির্মান করে গ্রামে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। এই জবর দখলকৃত জায়গায় দোকান ঘরের নাম দিয়ে জোয়া, মদসহ অসামাজিক কার্যকলাপের আখড়া তৈরি করেছে। তার বিরুদ্ধে এছাড়াও রয়েছে আরও গুরুতর অভিযোগ। তার বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে স্থানীয় ও জাতীয় পত্র-পত্রিকায় একাধিক সংবাদ প্রকাশ হলেও বহু কর্মের হোতা নাহিদ রয়েছে বহাল তবিয়তে।

দেশের বৃহত্তম গ্যাস ফিল্ড বিবিয়ানায় চাকুরী দেয়ার নাম ধরে ও সে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বেকার যুবকদের কাছ থেকে প্রতারণা করে লক্ষ লক্ষ টাকাও হাতিয়ে নিয়েছে। তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন এলাকাবাসী।

সিলনিউজ/ন/প/১৭জুলাই

ফেসবুক মন্তব্য
xxx