নিউজটি পড়া হয়েছে 41

জগন্নাথপুরে কুশিয়ারার বাঁধ ভেঁঙ্গে তলিয়ে গেছে শতাধিক বাড়িঘর, অবর্ণনীয় দূর্ভোগে এলাকাবাসী।

জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ জগন্নাথপুরে ভয়াল কুশিয়ারা নদীর প্রবল স্রোতে বিকল্প বাঁধ ভেঙ্গে পানি প্রবেশ করায় ৫/৬টি গ্রামের শতাধিক বাড়ি ঘর তলিয়ে যাওয়ায় অবর্ণনীয় দূর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বাপাউবো’র তত্ত্বাবধানে কাবিটা প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২০লাখ ৯৯হাজার ৮শ ২০টাকা ব্যায়ে নির্মিত জগন্নাথপুর উপজেলার পাইলগাঁও ইউনিয়নের মধ্যদিয়ে বহমান কুশিয়ারা নদীর ডান তীরে কাতিয়া লঞ্চঘাট এলাকায় বিকল্প বাধ নির্মাণে অনিয়মের ফলে কুশিয়ারা নদীর পানির প্রবল স্রোতে প্রথমে বাঁধ উপচে এবং পরে বাধ ভেঙ্গে পানি প্রবেশ করায় পাইলগাঁও ইউনিয়নের নতুন কসবা, অলইতলী, কাতিয়াসহ আশে পাশের গ্রামগুলোর প্রায় শতাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। সেই সাথে এলাকার শত শত জনসাধারন অবর্ণনীয় দুর্ভোগে পড়েছেন।

সরেজমিন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে স্কুল কলেজে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি জনসাধারণ এবং জলমগ্ন বাড়িঘর থেকে লোকজন যাতায়াত করতে পাছেন না। তলিয়ে যাওয়ায় বাড়ি ঘরের পরিবারগুলোর মধ্যে অসংখ্য লোকজন দরিদ্র। ফলে এসব পরিবারগুলো মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

নতুন কসবা গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মুজিবুর রহমান, একই গ্রামের শামল মিয়া, মনির মিয়া, আলা উদ্দিন, মো: আওলাদ হোসেন, আরব আলী, মনর মিয়া এবং পল্লীগঞ্জ বাজার কমিটির সভাপতি হাজি মহিম খান, পল্লীগঞ্জ বাজার কমিটির সেক্রেটারী, দিঘলবাক উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজ উন্নয়ন কমিটির সদস্য, কাতিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষানুরাগী সদস্য মো: আবুল খয়ের, অলইতলী গ্রামের বিশিষ্ট মুরব্বী হাজী জিতু মিয়া, ছাদ মিয়া, জমশেদ মিয়া ও দুলু মিয়াসহ অসংখ্য লোকজন তাদের দুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরে বলেন- পাইলগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ৮নং ওয়ার্ড সদস্য মো: দুরুদ মিয়া কাতিয়া লঞ্চঘাট হতে পূর্ব জালালপুর কবরস্থান পর্যন্ত আড়াই কিলোমিটার বিকল্প বাঁধ নির্মান কমিটির সভাপতি হওয়ার সুবাদে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নিতীর ফলে সঠিকভাবে বাঁধের নির্মান কাজ করা হয়নি। ফলে কুশিয়ারা নদীর পানি কয়েক দফা বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় প্রথমে বাধ উপচে এবং পরে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ফুট এলাকা জুড়ে বাধ ভেঙ্গে পানি প্রবেশ করায় এলাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্টানসহ বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে যায়।

ইউপি সদস্য দুরুদ মিয়া বিকল্প বাঁধ নির্মানে ব্যাপক অনিয়মের কারনে এলাকার শত শত লোকজন ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। এ ব্যাপারে বাঁধ নির্মাণ কাজের পিআইসি কমিটির সভাপতি ইউপি সদস্য দুরুদ মিয়া বাঁধ নির্মাণে অনিয়মের বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ড’র সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের তদারকির মাধ্যমে সঠিকভাবে বাধ নির্মান কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।

এদিকে গত বছরের আকস্মিক বন্যায় কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় জগন্নাথপুর, শিবগঞ্জ, পাইলগাঁও, আশারকান্দি, ফেছি, বেগমপুর সড়কের অধিকাংশ স্থান ভেঙ্গে তলিয়ে যাওয়ায় জগন্নাথপুর উপজেলার দক্ষিনাঞ্চল রানীগঞ্জ, পাইলগাঁও ও আশারকান্দি ইউনিয়নের কয়েক হাজার লোকজনদের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থান থেকে যাতায়াতকারী জনসাধারনের সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় চরম দূর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

এছাড়াও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন থাকায় কাতিয়া বাজার, ফেছির বাজারসহ আশপাশের ছোট বড় বাজারগুলোতে ক্রেতাদের উপস্থিতি তেমন একটা নেই। ফলে ব্যবসায়ীরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। পল্লীগঞ্জ বাজার কমিটির সেক্রেটারী মো: আবুল খয়ের জানান, কুশিয়ারা নদীর তীরবর্তী পাইলগাঁও ইউনিয়নের পাইলগাঁও বিএন উচ্চ বিদ্যালয় হতে বেগমপুর পর্যন্ত এলজিইডি সড়কের অধিকাংশ স্থানে কুশিয়ারা নদীর ভাঙ্গনের কবলে পড়ায় দীর্ঘদিন ধরে সরাসরি যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে জনসাধারনের মধ্যে দেখা দিয়েছে অবর্ননীয় দুর্ভোগ। বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা পড়েছেন বিপাকে। সেই সাথে অসহায় দরিদ্র পরিবারগুলো মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

নদী ভাঙ্গনের কবল থেকে রাস্তাসহ গ্রাম রক্ষায় সরকারিভাবে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দেয়া হলেও সঠিকভাবে কাজ না হওয়ায় এলাকার জনসাধারন ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। সম্প্রতি আড়াই কিলোমিটার বিকল্প বাঁধ নির্মানে ইউপি সদস্য দুরুদ মিয়া কর্তৃক অনিয়ম ও পুকুর চুরির ঘটনায় এলাকাবাসী এর তীব্র নিন্দা জানিয়ে সুষ্টু তদন্তের দাবী জানিয়েছেন।

তিনি আরো জানান, কুশিয়ারা নদীর তীরবর্তী অলইতলী শাহী ঈদগাহ হতে জগন্নাথপুর-বেগমপুর সড়কের অলইতলী গ্রামের লেচু মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ১ কিলোমিটার বিকল্প বাঁধ নির্মানের ব্যবস্থা নেয়া হলে এলাকার লোকজন দুর্ভোগ থেকে কিছুটা হলেও মুক্তি পাবেন। এব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন।

ফেসবুক মন্তব্য
xxx