একজন আজাদ : তৃণমূল থেকে উঠে আসা এক সফল রাজনীতিবিদ ও জনপ্রতিনিধি

একজন চৌদ্দ বছরের বালক। রাজনৈতিক পরিবারে যার জন্ম ও বেড়ে ওঠা। নগরীর সৈয়দ হাতিম আলী উচ্চ বিদ্যালয়-এর ছাত্র থাকাকালীন চৌদ্দ বছর বয়সে তিনি স্বাধীন বাংদেশের অভ্যুদয়, ভাষা আন্দোলন, শিক্ষা আন্দোলন, ছয় দফা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পাঠ করে তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির প্রতি আকৃষ্ট হন। পরবর্তীতে নিজ শ্রম ও নিষ্টার দ্বারা সৈয়দ হাতিম আলী উচ্চ বিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। স্কুল জীবন শেষ করে সিলেটের ছাত্র রাজনীতির আতুরঘরখ্যাত সিলেট সরকারী কলেজে নিজের কলেজ জীবন শুরু করেন। সেখানেও নিজের ছাত্ররাজনীতির পারদর্শীতা দেখিয়ে সিলেট সরকারী কলেজ ছাত্রলীগ-এর সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। এরই ধারাবাহিতায় শুরু হয় তার জেলা পর্যায়ের ছাত্ররাজনীতি। সেখানেও নিজের নিপুণ রাজনৈতিক দক্ষতা প্রদর্শন করে সিলেট জেলা ছাত্রলীগ-এর সাংগঠনিক সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে সিলেট জেলা যুবলীগ-এর রাজনীতিতে সক্রিয় হলে সেখানেও নিজের সুনিপুণ দক্ষতা প্রদর্শন করে সিলেট জেলা যুবলীগ-এর সাধারণ সম্পাদক-এর দায়িত্ব পালন করেন দীর্ঘদিন। সময়ের পরিক্রমায় সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগ-এর রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হয়ে যান এবং পরবর্তীতে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগ-এর শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক-এর দায়িত্বে আসেন। এরপর ১/১১, একুশ আগষ্টের গ্রেনেড হামলা, জেল-জুলুম, হামলা-মামলার সম্মুখীন হয়েও সামনে এগিয়ে চলার মনোবল কখনো ভাঙ্গেনি তার। বিভিন্ন সময় তার ইমেজ নষ্ট করে তাকে দাবিয়ে রাখতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিহিংসা, ষড়যন্ত্র, চক্রান্তসহ আওয়ামী রাজনীতিতে একের পর এক অগ্নিপরীক্ষা দিয়ে দক্ষতার সাথে উত্তীর্ণ হয়ে একজন খাটি মুজিব সৈনিক হিসেবে নিজের নাম সিলেটের রাজপথে খোদাই করেন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় ও সময়ের প্রয়োজনে এক সময় টিলাগড় তথা ২০নং ওয়ার্ডের মাটি ও মানুষের টানে সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ২০নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর হিসেবে নিজের প্রার্থীতা ঘোষণা করলে জনগনের অগাধ আবেগ ও ভালোবাসার প্রমাণ স্বরুপ পর পর তিন বার ২০নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন এবং যার ফল স্বরুপ নিজের অক্লান্ত পরিশ্রম ও নিষ্টার মাধ্যমে ২০নং ওয়ার্ডকে নগরির একটি মডেল ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তুলেন। শুধু তাই নয় খেলাধুলার প্রতিও তার রয়েছে অগাধ আগ্রহ। যার ফল স্বরুপ বিভিন্ন সময় তরুণ সমাজকেও বিভিন্ন খেলাধুলা ও টুর্ণামেন্টের প্রতি উৎসাহ প্রধান করে থাকেন। নিজেও ছুটে গেছেন র‍্যাকেট হাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। অংশ নিয়েছেন বিভিন্ন টুর্নামেন্টে, জিতেছেন শিরোপা, সম্মান নিয়ে এসেছেন দেশের জন্য। এক সময় ঐতিহাসিক টিলাগড় ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক-এর দায়িত্বেও বহাল ছিলেন। নিজে যে স্কুলের ছাত্র ছিলেন সেই সৈয়দ হাতিম আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটিরও সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি। আর্তমানবতা সেবায় ছুটে গেছেন মায়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পাশে। এতো অর্জন অল্প দিনে হয়ে যায়নি। এগুলোর পিছনে রয়েছে দীর্ঘ ৩২টি বছরের ত্যাগ, শ্রম, নিষ্ঠা আর মনোবল এবং সেই সাথে জনগনের অগাধ দোয়া আর ভালোবাসা। এরকম একজন ‘আজাদুর রহমান আজাদ’ এর বিষয়ে লিখতে গেলে লিখে শেষ করা সম্ভব নয়। জনগণের অগাধ বিশ্বাস, নির্ভরশীলতা, আস্থা আর ভালোবাসাই যার রাজনীতির মূলধন তাকে থামিয়ে রাখবে কে!  রাজনীতির মূল লক্ষই হলো মানবতার সেবা আর জনগনের কল্যাণ। বরাবরের মতো এবারো তিনি জনগনের নি:শ্বার্থ আবেগ আর ভালোবাসার কারণে ২০নং ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর পদপ্রার্থী। জনগণ ও মানবতার এই ফেরিওয়ালাকে নিশ্চই জনগণই আবারো তাদের ভালোবাসার প্রমাণ দিয়ে বিজয়ের মুকুট পড়িয়ে আনবে। সেই বিশ্বাস আছে অযস্র নেতাকর্মী এবং এলাকার মানুষের। ইনশাআল্লাহ বিজয়ের হাসি আজাদুর রহমান আজাদ-এরই হবে।

লেখকঃ মনসুর মোর্শেদ
সিলেট জেলা ছাত্রলীগ।

০২/০৭/২-১৮

ফেসবুক মন্তব্য
xxx