Monday, 22 July, 2019

ফেসবুকে সামাজিক বিচারকদের নিয়ে কটাক্ষের প্রতিবাদে নবীগঞ্জে প্রতিবাদ সভা।


স্টাফ রিপোর্টারঃ নবীগঞ্জ উপজেলার দেবপাড়া ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ড মেম্বার জাকারিয়া চৌধুরী কর্তৃক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে তার আইডিতে সামাজিক বিচার পঞ্চায়েতকে নিয়ে কটুক্তি এবং গ্রামের অধিকাংশ লোকজন স্বল্প শিক্ষিত অশিক্ষিত কুসংস্কারাচ্ছন্নসহ একটি স্ট্যাটাসে আরও অনেক কিছু লিখেন গত ১৩ জুন রাত ২টা ৫৫ মিনিটে। এতে দেশ বিদেশ থেকে অনেকই পক্ষে বিপক্ষে অনেক রকম মন্তব্য করেন। এই বিষয় স্থানীয় ওয়ার্ডবাসীর নজরে আসলে আজ (শনিবার) বিকেল ৪টায় স্থানীয় সারং বাজারে এ নিয়ে বিশাল এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্টিত হয়।

সারং বাজার কমিটির সভাপতি ছালামত খানের সভাপতিত্বে এতে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন ১০ নং দেবপাড়া ইউপি’র সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নাজমুল আলম চৌধুরী বাবুল (সাবেক মেম্বার), বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি লিটন মিয়া, মুক্তিযোদ্ধা আমীর আলী, বিশিষ্ট মুরব্বি গেদা মিয়া, আব্দাল খান, আকল মিয়া, ছানু মিয়া, কয়েছ মিয়া, লেবু মিয়া, মছদ্দর মিয়া, নবীর আলী, আব্দাল মিয়া, আলমগীর খান, খোকন চৌধুরী, খোর্শেদ মিয়া, মোজাহিদ মিয়া, মোতাহির মিয়া প্রমূখ।

সভায় এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কালাভরপুর, আলীনগর, প্রজাতপুর ও হাইতুন্দি গ্রামসহ আশপাশ এলাকার সহস্রাধিক জনতা।

উপস্থিত জনতা ইউপি সদস্য জাকারিয়া চৌধুরীর এই স্ট্যাটাসের তীব্র সমালোচনা করে এর তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানান। পরিশেষে বক্তাগণ বলেন যদি আগামী ৫ জুলাইয়ের মধ্যে জাকারিয়া চৌধুরী এর জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থণা না করেন প্রয়োজনে ওয়ার্ডবাসী কটোর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে।

নিচে ইউপি সদস্য জাকারিয়া চৌধুরী কর্তৃক তার ফেসবুকের স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো…….
আমার দুই বছরের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি আমার ইউনিয়ন নিয়ে।

আমি জাকারিয়া চৌধুরী ইউপি সদস্য  5 নং ওয়ার্ড 10 নং দেবপাড়া ইউপি নবীগঞ্জ হবিগঞ্জ।

১) দুঃখজনক হলেও সত্য কথা আমার গ্রাম সালিশ ব্যবস্থা এখন অর্থহীন মানুষকে পোষণের অন্যতম হাতিয়ার।
২) গ্রামে অধিকাংশ মানুষ স্বল্প শিক্ষিত অশিক্ষিত কুসংস্কারচ্ছন্ন, ফলে সেই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে কুচক্রী লোকেরা কুপরামর্শে গ্রামটাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

৩) গ্রাম সালিশগন যে সমস্যা এক দিনে সমাধান করতে পারে তা না করে বারবার বসে এবং দুই পক্ষ থেকে টাকা আত্মসাৎ করে বাদী-বিবাদী পৃথক পৃথকভাবে টাকা দিয়ে নিজের জন্য অন্য গ্রাম থেকে সালিশ ভাড়া করে আনে
এ ক্ষেত্রে দেখা যায় যে গ্রামে গ্রামে নামকরা সালিশ করার ব্যক্তি আছে যাদের এক একজনের এক সালিশের রেট একেক রকম। 500 থেকে ২০০০ হাজার টাকার বেশিও হয়ে থাকে।
অনেক সময় সালিশগন বংশ প্রীতি বা এলাকা প্রীতি করেন ফলে ন্যায়বিচার থেকে মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে।

৪) একজন মেম্বার চাইলে আপনার ন্যায্য বিচার করে দিতে পারবে না। যদি বিচারকগণ না চায়। আমাকে অযথা দোষারোপ না করে
দোয়া করেন আল্লাহ যেন আমাদেরকে হেদায়েত দান করেন এবং খোলাফায়ে রাশেদীন এর মত বিচারকার্য করার তৌফিক দান করেন আমিন।

(ফেসবুক স্ট্যাটাস এর স্ক্রিনশট কপি)

 

0 comments on “ফেসবুকে সামাজিক বিচারকদের নিয়ে কটাক্ষের প্রতিবাদে নবীগঞ্জে প্রতিবাদ সভা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *