ডাকাতের হামলায় আওয়ামীলীগ নেতা আহত, সাহেবের বাজারে ঘন ঘন ডাকাতি ২জন আটক, জনমনে আতংক

মো. মতিউর রহমান, বিমানবন্দর থেকেঃ সিলেট সদর উপজেলার খাদিমনগর ইউনিয়নের এয়ারপোর্ট থানাধীন শহরতলী সাহেবের বাজার এলাকায় গত ৯ দিনে একাধিক ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে। সর্বশেষ ২৯ জুন শুক্রবার রাত প্রায় আড়াইটার দিকে এয়ারপোর্ট থানাধীন লিলাপাড়া গ্রামে কামাল মিয়ার বাড়ীতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাতির সময় হাতেনাতে এলাকাবাসী ২ ডাকাতকে আটক করে। জানা যায়, লিলাপাড়া গ্রামের আওয়ামীলীগ নেতা কামাল মিয়ার বাড়িতে ৮/১০ জনের একটি ডাকাত দল ডাকাতির প্রস্তুতি কালে ২ ডাকাত দলের সদস্যকে এলাকাবাসী আটক করে। এসময় ডাকাতের হামলায় গুরুতর আহত হন আওয়ামীলীগ নেতা এয়ারপোর্ট থানার লীলাপাড়া গ্রামের তেরা মিয়ার ছেলে কামাল মিয়া (৩০), একই গ্রামের তাহির আলীর ছেলে দিলোয়ার হোসেন (২৫) আব্দুল বারির ছেলে আল আমিন (২১) ও জসিম উদ্দীন (২৪)। বর্তমানে তারা সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এসময় তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে ডাকাত দলকে প্রতিরোধ করে। এক পর্যায়ে ডাকাতরা পালিয়ে যাওয়ার সময় জনতা ২ ডাকাতকে আটক করে। পরে তাদেরকে এয়ারপোর্ট পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ২ ডাকাত বর্তমানে ওসমানী মেডিকেলে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তারা হলেন জালালাবাদ থানার ধখড়ি গ্রামের মৃত জমসিদ আলীর পুত্র চেরাগ আলী (৩৫) ও বিশ্বনাথ থানার বন্ধুয়া গ্রামের মৃত মখন মিয়ার পুত্র রাজু উরফে কাঘা রাজু (২৩)।
এদিকে সাহেবের বাজার ৯ দিনের ব্যবধানে এলাকায় ৩টি ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে। এলাকার মানুষ ঘন ঘন ডাকাতির ফলে এলাকার সাধারণ জনগনের মাঝে দেখা দিয়েছে চরম আতংক। গত ২৩ জুন ফড়িংউরা গ্রামের শাহাদাত মিয়ার বাসা বাড়ীতে ডাকাত দল হানা দেয়। ঘরে ভিতরে ডাকাত প্রবেশ করে শাহাদাত মিয়ার স্ত্রীকে বেধড়ক মারপিট করে। ঘরে থাকা নগদ টাকা ও বিভিন্ন জিনিসপত্র নিয়ে যায়। একই ভাবে ২২ জুন রাতে কালাগুল গ্রামের মৃত আব্দুর রুফ এর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে এসময় ডাকাতরা পরিবারের সকল সদস্যদের মারপিট করে বেঁধে ফেলে। ঘরে থাকা নগদ ৩০ হাজার টাকা সহ ৬টি মোবাইল সেট নিয়ে পালিয়ে যায়। পর পর ৩টি ডাকাতির ঘটনার সাধারণ মানুষকে ভাবিয়ে তুলছে।
এলাকাবাসী দাবি ঘন ঘন ডাকাতির ফলে মানুষের মধ্যে আতংক দেখা দিয়েছে। তারা জানিয়েছেন চেরাগ আলী ও রাজু মিয়াকে জিজ্ঞাসা করলে আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে এই এলাকার কারা ডাকাতের সাথে জড়িত। এই সব এলাকার অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবী জানান।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কামাল উদ্দীন জানান, গভীর রাত আড়াইটার দিকে ৮/১০ জনের একটি ডাকাত দল তাদের বাড়িতে হানা দেয়। ঘরের মহিলারা চিৎকার শুনে অন্যরা সাহায্যে এগিয়ে এলে ডাকাতরা আমাদের উপর প্রাণে মারার উদ্দেশ্যে হামলা চালায়। এসময় আমি সহ ৪ জন আহত হয়েছি।
এয়ারপোর্ট থানার ওসি গৌসুল হোসেন জানান, ডাকাত দুজনকে আটক করা হয়েছে। মামলা নেওয়া হচ্ছে। তবে ডাকাত কিনা এবিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, সম্ভবত এরা চুর। গরু চুরি করতে এসে ধরা খেয়েছে। তবে তদন্ত চলছে আসল রহস্য তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে।

ফেসবুক মন্তব্য