সিলেট সিটিতে বিভেদ ভুলে কামরানের পক্ষে উজ্জীবিত আওয়ামী লীগ, দলীয় প্রার্থী নিয়ে দোদুল্যমান বিএনপি।

নিজস্ব প্রতিবেদক ঃঃ আসন্ন সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ইতিমধ্যেই আওয়ামী লীগের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি বদর উদ্দিন আহমেদ কামরান পান নৌকার টিকেট। গত ২২ জুন প্রধানমন্ত্রীর সরকারী বাসভবন গণভবনে সিলেট জেলা ও মহানগরের ৪১ নেতার সাথে বৈঠক করেন দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কামরানসহ মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশি অপর চার নেতা আসাদ উদ্দিন আহমদ, অধ্যাপক জাকির হোসেন, ফয়জুল আনোয়ার ও সিটি কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ। বিকেলে দলীয় প্রার্থী হিসেবে বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের নাম ঘোষণা করা হয়।

সিসিক নির্বাচনকে ঘীরে দলীয় প্রার্থী নিয়ে সিলেট আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে কয়েকটি বলয় সৃষ্টি হলেও দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার নির্দেশের পর সব বলয়ের অবসান ঘটে, পাল্টে যায় দৃশ্যপট। মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন চাওয়া সব প্রার্থীরা নিজ নিজ ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে এবং সরাসরি দেখা করে আওয়ামী লীগ প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে মাঠে নেমেছেন আটঘাট বেধে। জরুরী বৈঠক করেছেন সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ নেতারা। আজ (রোববার) থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে বদর উদ্দিন আহমেদ কামরানকে নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছে সিলেট আওয়ামী লীগ। দলীয় প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নেমে পড়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীরা। মিছিলে মিছিলে নৌকার পক্ষে অনানুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করেছে তারা। দলের সিদ্ধানের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে মেয়র পদে বদর উদ্দিন আহমদ কামরানকে জয়ী করতে একাট্টা আওয়ামী লীগ, জানিয়েছেন নেতা কর্মীরা। 

অন্যদিকে সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের জন্য এখনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা করতে পারেনি বিএনপি। ২১ জুন দলীয় মনোনয়ন পেতে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে জমা দিয়েছেন বর্তমান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীসহ বিএনপি নেতা বদরুজ্জামান সেলিম, নাসিম হোসাইন, প্যানেল মেয়র রেজাউল হাসান কয়েস লোদী ও সালাউদ্দিন রিমন। 

এদিকে বর্তমান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন ওপর প্রাথীরা। প্রকাশ্য অবস্থান না নিলেও ক্ষোভ রয়েছে পর্দার আড়ালে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে মহানগরের এক নেতা জানিয়েছেন, কেন্দ্রের দিকে চেয়ে আছেন তারা। শেষ পর্যন্ত কাকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয় তার উপর নির্ভর করছে আগামীতে সিলেট বিএনপির অবস্থান। দলীয় যেকোন সিদ্ধান্ত মেনে নেবেন জানিয়ে তিনি বলেন, প্রার্থী যে-ই হোন না কেন দলীয় বিভেদ ভাঙতে কেন্দ্রকে এগিয়ে আসতে হবে। তা না হলে এর প্রভাব পড়বে সিটি নির্বাচনে।

উল্লেখ্য আগামী ৩০ জুলাই সিলেট সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ২৮ জুন পর্যন্ত মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা,  ১ ও ২ জুলাই মনোনয়নপত্র বাছাই এবং প্রার্থীতা প্রত্যাহার ৯ জুলাই।

সিলনিউজ/আই/কে/২৪জুন২০১৮

ফেসবুক মন্তব্য
xxx