নগরবাসীর প্রত্যাশা পূরণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ : অমিতাভ চক্রবর্ত্তী রনি

হযরত শাহজালাল ( রহ.), হযরত শাহপরান( রহ.) ও শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর পূণ্যভূমি এই সিলেট। এটি আবার আধ্যাত্বিক নগরী হিসেবে শুধু বাংলা নয় বিশ্বব্যাপি সমাদৃত। তাছাড়া বাংলাদেশের রাজনীতির এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে আন্তরিকতার জায়গা হচ্ছে পবিত্র এই সিলেট নগরী। সব রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হয় পবিত্র নগরীর মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে। রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘ দিন থেকে একটি রেওয়াজও প্রচলিত আছে, যে রাজনৈতিক দল সিলেট-১ আসন থেকে জাতীয় নির্বাচনে জয়লাভ করেন সেই দলই সরকার গঠন করেন ও রাষ্ট্র পরিচালনায় আসেন।

জাতীয় রাজনীতিতে সিলেটের নেতৃত্ব দিয়েছে মুক্তি বাহিনীর সর্বাধিনায়ক জেনারেল আতাউল গনি ওসমানী, প্রয়াত হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী, প্রয়াত এ।এ.এস.এম কিবরিয়া, প্রয়াত আব্দুস সামাদ আজাদ, প্রয়াত এম. সাইফুর রহমান, প্রয়াত ফরিদ গাজী, প্রয়াত বরুন রায়, প্রয়াত আচ্ছদর আলী, প্রয়াত বাবু সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, প্রয়াত সৈয়দ মহসিন আলী, সুলতান মনসুরের মতো জাদরেল নেতারা। বতর্মানে অর্থমন্ত্রী আব্দুল মাল আল মুহিত, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, অর্থ প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান, জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত ড. এ. কে আব্দুল মোমেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অন্যতম সাংগঠনিক সম্পাদক এড. মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট লুৎফুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদসহ সিলেট বিভাগের ১৯ আসনের সকল সংসদ সদস্য, আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর নেতারা রাজনীতিতে অনন্য ভূমিকা রাখছেন। অতীতে ও বর্তমানে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের যোগ্য নেতারা জাতীয় নেতৃত্বে ছিলেন ও আছেন। সুতরাং রাজনীতির প্ল্যাটফর্মে সিলেটের গুরুত্ব অপরিসীম।

বর্তমানে সিলেটের রাজনীতির প্রেক্ষাপটে অধ্যাপক জাকির হোসেন হলেন সত্যিকারের একজন আইকন। সবার মুখে মুখে একটি নাম উচ্চারিত হয় সেটি হল তিনি। যিনি সব সময় পর্দার আড়ালে থাকেন। যার সহজ সরল হাসি, সততা, মেধা, প্রজ্ঞা, রাজনৈতিক বিচক্ষণতা সকলকে খুব সহজেই আকৃষ্ট করে। ইতিমধ্যে যিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে চমৎকার ইমেজ তৈরি করেছেন। যিনি সবার জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। একেবারে সাধারণ জীবনযাপন করেন। নেই তার অর্থের প্রতি মোহ, লোভ, লালসা। ধনী-গরীব সব ধরনের মানুষের সাথে তার সখ্যতা রয়েছে। রাজনৈতিক ক্ষমতা থাকা স্বত্বেও ক্ষমতার অপব্যবহার করেননি। ক্ষমতা ব্যবহার করে মানুষকে নিয়ে ছিনিমিনি ও কুক্ষিগত করেননি। আছেন সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে। যে পদটি পাওয়ার জন্য মানুষের অনেক ইচ্ছা থাকে। সেই পদে অসীন হয়েও নিজের পদের ও পদবীর জন্য কখনো দম্ভবোধ করেন না । নিজের রাজনৈতিক পদ ও পদবীর ক্ষমতা ব্যবহার করে তৈরি করতে পারতেন বিভিন্ন গ্রুপ ও বাহিনী। কিন্তু তিনি তা করেননি। তিনি সব সময় উনার ভিতরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে লালন করেন। তাই কোন অপশক্তিই তাকে স্পর্শ করতে পারেনি।

তিনি ছাত্র জীবন থেকেই ছাত্র রাজনীতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। ছাত্র রাজনীতির ময়দানে তিনি ছিলেন একজন সক্রিয় যোদ্ধা। পাকিস্তানের ধান্দাবাজ, ফটকাবাজ খন্দকার মুশতাককে সিলেট থেকে বিতাড়িত করতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদের সাথে তিনিও নেতৃত্বে ছিলেন। তিনি সিলেট জেলা ছাত্রলীগের পাঁচটি কমিটিতে ছিলেন। পাঁচটি কমিটিতে থাকা অবস্থায় সাংগঠনিক ও প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। অবশেষে তিনি হয়েছিলেন সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। তার সহকর্মীরা খুব উচ্ছস্বিত ছিল উনার মতো একজন কর্মঠ ও নির্লোভ নেতা পেয়ে। তিনি তার সহকর্মীদের ভালবাসা ও আন্তরিকতা দিয়ে কাছে টেনে নিতেন। তিনি তৈরি করেছেন স্বচ্ছ ও যোগ্য হাজার হাজার ছাত্রলীগ কর্মীদের। যারা ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, শ্রমিকলীগসহ বিভিন্ন সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি নিজেও মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি তার যোগ্য নেতৃত্বে এখনো তৈরি করে যাচ্ছেন হাজার হাজার কর্মীদের। তিনি ছাত্র সমাজ ও যুব সমাজকে খুব বেশি ভালবাসেন। তিনি বিশ্বাস করেন একদিন তারাই দেশ ও জাতিকে উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছে দিবে। তিনি মনে করেন ছাত্র সমাজ ও যুব সমাজকে গুরুত্ব না দিয়ে কোন জাতি উন্নতি লাভ করতে পারে না।তাদেরকে সঠিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলা দরকার। তাদেরকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানানো দরকার। কারণ তাদের মধ্যে থেকেই জাতীয় নেতৃত্ব বেরিয়ে আসবে। এই চিন্তা থেকে তিনি নিজেই ছাত্র ও যুব সমাজকে নিয়ে তৈরি করেছন হৃদয়ে ৭১’ ফাউন্ডেশন নামে একটি সংগঠন। মুক্তি সংগ্রামের ধারক ও বাহক এই সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে তিনি আছেন। উনার উৎসাহ ও উদ্দীপনায় সংগঠনটির চেয়ারম্যান রুহুল আলম চৌধুরী উজ্জ্বলের নেতৃত্বে সংগঠনটি এগিয়ে যাচ্ছে। শুধু এগিয়ে যাচ্ছে না বিভিন্ন জেলায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সংগঠনটি ছড়িয়ে পড়েছে। দেশের প্রতি অফুরন্ত ভালবাসার কারণে তিনি এই কাজগুলো করে যাচ্ছেন। কাজ করতে গিয়ে অনেক বাধা-বিপত্তির সম্মুখীন হয়েছেন। ২০০৪ সালের ৭ই আগস্ট সিলেট গুলশান সেন্টার-এ মহানগর আওয়ামী লীগের মিটিং শেষে জঙ্গিগোষ্ঠী কর্তৃক যে গ্রেনেড হামলা করা হয়েছিল সেখানে তিনিও হামলার শিকার হন। মারাত্মকভাবে আহত হয়েছিলেন। উনার শরীর থেকে ১৮টি স্প্রিন্ডার বের করা হয়েছিল। আজও তিনি এই যন্ত্রনা বয়ে বেড়াচ্ছেন। কিন্তু তিনি রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়াননি। বরং বিচলিত না হয়ে উনার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, বিচক্ষণতা ও বুদ্ধিমত্তা দিয়ে সব কিছু সামলে নিচ্ছেন।

তিনি শুধু রাজনৈতিক অঙ্গনেই সুপরিচিত নন, শিক্ষকতার মতো মহান পেশায়ও উনি সকলের কাছে পরিচিত ও শ্রদ্ধাভাজন। তিনি সিলেট শাহ খুররম ডিগ্রী কলেজে প্রতিষ্ঠাকালীন অধ্যাপক ও বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছেন । ছাত্র-ছাত্রীদের কাছেও তিনি অনেক জনপ্রিয়। সহকর্মীদের সাথে তার অনেক সখ্যতা রয়েছে। সবার সাথে মিলেমিশে কাজ করার চেষ্টা করেন। যদিও মাঝে মাঝে অনেকেই বুঝতে না পেরে তার ভাল কাজগুলোর বিরোধিতা করেন। তাতে তিনি কর্ণপাত না করে সামনের দিকে এগিয়ে যান। উনার সহকর্মীদের কাছ থেকে জানা যায় তিনি অত্যন্ত সৎ ও ভাল মানুষ।

রাজনীতি ও অধ্যাপনা দুই ক্ষেএেই তিনি সফল। বর্তমান পৃথিবীর দুর্নীতির অভয়ারণ্যে নিজেকে ধরে রেখে মাথা উঁচু করে যিনি এগিয়ে যাচ্ছেন। জাতির জনকের সুযোগ্য কন্যা ও বাংলাদেশের সফল রাষ্ট্রনায়ক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে স্বপ্ন ও প্রত্যাশা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন দুর্নীতিমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত বেকারমুক্ত বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সেখানে তিনি হলেন একজন অগ্রসৈনিক। তার সততা, নিষ্ঠা ও কর্ম দক্ষতার কারণে তিনি সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। তাই এখন সময় এসেছে উনার কাজের যোগ্য সম্মান দেওয়ার। উনাকে মূল্যায়ন করার। সিলেট আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ উনাকে যেভাবে মেয়র পদপ্রার্থীর তালিকায় রেখে সম্মান দিয়েছেন। ঠিক তেমনিভাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উনাকে মেয়র প্রার্থীর কার্ড দিয়ে নগরবাসীর প্রত্যাশা পূরণ করবেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করতে এবং মেয়রের আসনকে পুনরুদ্ধার করতে এই মুহূর্তে অধ্যাপক জাকির হোসেনকে খুবই দরকার। প্রকৃতপক্ষে উনাদের মত নেতারাই প্রমাণ করে দিচ্ছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ যে সততার, নিষ্ঠার, স্বচ্ছতার ও মানুষের কল্যাণের জন্য রাজনীতি করে। রাজনীতির স্বচ্ছতার এক জীবন্ত উদাহরণ হচ্ছেন তিনি। তিনিই রাজনীতির স্বচ্ছতার প্রতীক। উনার এই স্বচ্ছতার পথ চলা ছড়িয়ে পড়ুক সারা বাংলায়। সৃষ্টি হউক নতুন নেতৃত্বের। যারা এই সোনার বাংলাকে উন্নত রাষ্ট্রের পর্যায়ে নিয়ে যাবে। পূরণ হবে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন রচিত হবে আরেকটি স্বাধীনতারই গল্প।

রাজনীতির বাইরেও তিনি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, ক্লাব ও স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সাথে সম্পৃক্ত আছেন। তিনি মীরাবাজার মডেল হাই স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি আজীবন সদস্য হিসেবে আছেন (সিলেট ডায়াবেটিক এসোসিয়েশন, রেড ক্রিসেন্ট সিলেট, কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ সিলেট, নাটাব সিলেট ও জালালাবাদ এসোসিয়েশন ঢাকা)। এভাবেই তিনি বিভিন্ন সংগঠনের সাথে থেকে মানুষের কল্যাণে কাজ করে যেতে চান।

সহজ সরল ও স্বচ্ছ এই রাজনীতিবিদ ১৯৬৩ সালের ২৭ নভেম্বর সিলেটের রায়নগরের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহন করেন। তার পিতা ছিলেন মরহুম আলহাজ্ব মো: তাজিদ হোসাইন। তিনিও ছিলেন একজন রাজনীতিবিদ। তিনি ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সুবর্নজয়ন্তী উপলক্ষে সিলেট আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে পুরষ্কার গ্রহণ করেছিলেন। সুতরাং সবদিক বিবেচনা করে উনার মতো একজন খাঁটি আওয়ামী পরিবারের সন্তানকে অবশ্যই মেয়র প্রার্থী হিসেবে বেছে নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নগরবাসীর প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাবেন। আর ৩০শে জুলাই সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সবচেয়ে শক্তশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হবেন তিনি। শুধু তাই নয় নগরবাসীকে সাথে নিয়ে বিজয় ছিনিয়ে আনা একমাত্র উনার পক্ষেই সম্ভব। আজ যে দিকে তাকাই সে দিকেই শুনি, অধ্যাপক জাকির হোসেনের নামের ধ্বনি। যোগ্য মেয়র প্রার্থী জাকির ভাই শেখ হাসিনার ভয় নাই। আওয়াজ তুল নগরবাসীর দ্বারে দ্বারে , জাকির ভাই আসছেন সবার ঘরে ঘরে। সিলেট নগরবাসীর পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সকল নেতৃবৃন্দের কাছে একটাই দাবী আমরা অধ্যাপক জাকির হোসেনকে মেয়র প্রার্থী চাই। উনার সারা জীবনের রাজনীতির ত্যাগ-তীতিক্ষার কথা বিবেচনা করে তাকে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করা হউক। তিনি রাজনীতিতে শুধু দিয়ে গেছেন, কিছুই নেননি। তাই এখন একটা সুযোগ ও সময় এসেছে উনাকে ফিরিয়ে দেওয়ার। আমরা নগরবাসী অপেক্ষায় থাকবো উনার মতো সৎ, স্বচ্ছ ও ভাল মানুষকে মেয়র হিসেবে পাওয়ার জন্য। জয় হউক অধ্যাপক জাকির হোসেনের, জয় হউক মেয়র নির্বাচনের। নগরবাসীর প্রত্যাশা পূরণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সু-নজর বর্ষিত হউক এই প্রত্যাশা করি।

লেখকঃ অমিতাভ চক্রবর্ত্তী রনি
ভোটার, সিলেট সিটি কর্পোরেশন 

ফেসবুক মন্তব্য
xxx