Monday, 22 July, 2019

তারুণ্যের কন্ঠস্বর, প্রবীণদের আশার আলো।


১৯৫২ সাল ছিল বাঙালির ভাষা আন্দোলনের সাল।এটা ছিল বাঙালির অস্তিত্বের সাল। নিজের মাতৃভাষাকে পাকিস্তানি হায়নাদের কাছ থেকে ছিনিয়ে আনার সাল। রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে আমরা পেয়েছিলাম আমাদের প্রাণের ভাষা আ’মরি বাংলা ভাষা। আর এটা হয়েছে বর্তমানে ইউনিস্কো কর্তৃক স্বীকৃত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা। কিন্তুু এই ভাষার জন্য যাদের অবদানকে বাঙালি কখনো অস্বীকার করতে পারবে না। তারা সবাই ছিলেন তরুণ প্রজন্ম। তাদের কন্ঠেই উচ্চারিত হয়েছিল মাতৃভাষা বাংলা চাই। তারাই বজ্র কন্ঠে হুংকার দিয়েছিলেন। এই তরুণ প্রজন্মই তাদের বুকের তাজা রক্তে নিজের ভাষার জন্য রাজপথ ভাসিয়ে ছিল। তারা তৈরি করেছিল দেশের জন্য ও প্রবীণদের জন্য নতুন ইতিহাস। তরুণদের মধ্যে রয়েছে সাহস, মেধা, পরিশ্রম করার মনোভাব ও প্রবীণদের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা । তাইতো তরুণরা জয় করেছিল নিজের ভাষাকে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমেই বাঙালির স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন ঘনীভূত হয়। তারপর ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ। এই যুদ্ধেও তরুণদের ভূমিকা ছিল বর্নণাতীত। বাঙালির অতীতেও ছিল তরুণদের ভূমিকা। আর বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সব জায়গায়তেই তারুণ্যের জয়গান হবে। তরুণরা হচ্ছে দেশ, মা- মাটি, সমাজ, পরিবার ও প্রবীণদের আশার আলো। তাদের মধ্যেই সুষ্ঠু, সুন্দর, সন্ত্রাসমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত সমাজের প্রতিছবি পরিলক্ষিত হয়। তরুণ মানেই নতুনত্ব। জীর্ণতাকে ছেড়ে দিয়ে নতুনের সাথে আলিঙ্গন করা। সৃষ্টি সুখের উল্লাসে নিজেদেরকে মাতিয়ে তোলা। প্রবীণদের পথের আলো হয়ে থাকা। আর বর্তমান বিশ্বের রাজনীতির, মানবতার ও উন্নয়নের রোল মডেল গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্ঠেও তারণ্যের জয়গান শোনা যায়। তাই তো তিনি তার মন্ত্রী সভায়ও তরুণদের প্রাধান্য দিয়েছিলেন। হয়তো আগামী নির্বাচনেও তরুণদের ওপরই তিনি ভরসা ও আস্থা রাখবেন। তরুণদের মাধ্যমেই তিনি নির্বাচনে জয়ের আত্ম তৃপ্তি উপভোগ করতে চান। আজ যে দিকে তাকাই সে দিকেই শুনি তারুণ্যের জয়গান, তারাই রাখবে সুষ্ঠু রাজনীতির মান। ঠিক এমনই একজন তারুণ্যের জয়গান করবো। যিনি হযরত শাহজালাল (র.), শাহপরান (র.) ও শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর সিলেটের এই পুণ্যভূমির সন্তান।  যে ছোট বেলা থেকেই স্বপ্ন দেখতো দেশের জন্য, সমাজের অসহায় নিপীড়িত মানুষের জন্য ও প্রবীণদের জন্য কিছু করবে। মানবতার কল্যাণে এগিয়ে আসবে। সমাজ ও সংস্কৃতির জায়গায় বিশাল ভূমিকা রাখবে। নতুন প্রজন্মকে শিক্ষা-দীক্ষায়, আচার-আচরণে ও ইতিবাচক মানসিকতায় তৈরি করবে আগামীর জন্য। পূরণ করতে চায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলার স্বপ্ন। আর তিনি বুঝতে পেরেছিলেন তার এই স্বপ্নগুলো পূরণের জন্য চাই জনপ্রতিনিধি হওয়া। জনগনের সাথে সম্পৃক্ততা ও জনগনের সাথে সখ্যতা। তা না হলে স্বপ্ন শুধু স্বপ্নই থেকে যাবে। তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন জনপ্রতিনিধি হতে। তাইতো গত সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হয়েছিলেন। যদিও অশুভ শক্তির কাছে হেরে গিয়েছিলেন। কিন্তুু তিনি দমে থাকেন নি। তিনি ২নং ওয়ার্ডের প্রতিটা পাড়ায়-পাড়ায়, অলিতে -গলিতে ও বাসায় বাসায় চষে বেরিয়েছেন। ২নং ওয়ার্ডের দাড়িয়াপাড়া, ক্ষেএীপাড়া, পুলের মুখ, সরসপুর ও কাজী ইলিয়াস সহ সব জায়গায়ই তার পদচারণা ছিল। তিনি এবারও নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করছেন। আগামী ৩০ জুলাই ২০১৮ সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ২নং ওয়ার্ডের একজন কাউন্সিলর পদপ্রার্থী। জনগনের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি সবার সুখে-দু:খে পাশে থাকতে চান। একজন তরুণ সমাজসেবী ও সাংস্কৃতিক কর্মী হিসেবে ইতিমধ্যে সবার মন জয় করে নিয়েছেন। সুদর্শন, শান্ত ও স্বল্পভাষী এই মানুষটি যুব সমাজের কাছে একজন আইকন হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। নিজের ওয়ার্ডকে নিয়ে তার অনেক স্বপ্ন। তিনি জনগনকে সাথে নিয়ে ২৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২নং ওয়ার্ডকে একটি মডেল ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তুলতে চান। ছোট এই ওয়ার্ডটি হবে একটি ব্যতিক্রমী ওয়ার্ড। গতানুগতিক রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি ওয়ার্ডবাসীর জন্য কাজ করতে চান না। তিনি নিজের সাথে নিজেই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ যে তিনি যা বলবেন তা সম্পূর্ণ পূরণ করার জন্য কাজ করবেন। প্রতিদিন নিজের কাজগুলোকে ছাড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবেন। জনগনের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণই হবে তার চাহিদা। সরকার ও সিটি কর্পোরেশনের সহযোগীতা পেলে তিনি ওয়ার্ডবাসীকে যা উপহার দিতে চান তা হলো:

১) ওয়ার্ডের শিক্ষামূলক কার্যক্রমে সহযোগীতা ও বস্তিসহ ছিন্নমূল শিশুদের শিক্ষায় সম্পৃক্তকরণ।
২) ওয়ার্ডের প্রতিবন্ধীদের স্বাবলম্বী হতে সহযোগীতা।
৩) যুব সমাজকে নেশাগ্রস্থ, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের জীবন থেকে ফিরিয়ে আনার জন্য নানা উদ্দীপনামূলক কার্যক্রম গ্রহণ।
কিন্তুু বর্তমানে এই কার্যক্রম নাই। যার ফলে যুব সমাজ বিপথগামী হচ্ছে।
৪) সব ধর্মের ধর্মীয় কাজে সহযোগীতা।
৫) খেলাধুলায় অনুপ্রেরণা ও বিভিন্ন টুর্নামেন্টের ব্যবস্থা করা। যা বর্তমানে অনুপস্থিত।
৬) ওয়ার্ডে সিটি কর্পোরেশনের পাশাপাশি প্রতিনিয়ত নিজ উদ্যোগে পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্নতার কার্যক্রম গ্রহণ।
৭) সাধারন জনগনের সুবিধার্থে ওয়ার্ডে একটি পাবলিক টয়লেট নির্মাণের উদ্দ্যোগ গ্রহণ।
৮)বস্তিবাসীসহ অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো।
৯) সাপ্লাইয়ের পানি সরবরাহে নিয়মিত তদারকি।
১০। রাস্তা প্রসস্থকরণ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার আরো উন্নয়ন।
১১। জনগনের নিরাপদে চলার সুবিধার্থে রাস্তার বাতিগুলোর নিয়মিত তদারকি
১২) নারীদের স্বাবলম্বী করতে বিভিন্ন ধরনের হাতের কাজ বিনামূল্যে শিখানোর ব্যবস্থা গ্রহণ
১২) অসহায় ও গরীবদের জন্য বিভিন্ন ধরনের ভাতা নিশ্চিতকরণ
১৩। ওয়ার্ডের প্রবীণদের নামে বিভিন্ন স্মরণ সভার আয়োজনে সহযোগিতা।
১৪। সর্বোপরি ওয়ার্ডের যে কোন কাজে নিজেকে সম্পৃক্তকরণ ও সবাইকে নিয়ে মিলেমিশে থাকা।
তার শয়নে-স্বপনে, চিন্তা-চেতনায় শুধুই কাজ করে জনগনের উন্নয়ন,যুব সমাজের উন্নয়ন ও প্রবীণদের জন্য কিছু করা । তিনি মনে করেন, জনগনের সেবা করতে পারলেই দেশের সেবা করা হয়। তিনি তার জীবনকে জনগন ও মানবতার কল্যাণে উৎসর্গ করতে চান। জনগনের ভালবাসা পাওয়াই তার মূল লক্ষ্য। তিনি নিজেকে জনগনের বিশ্বস্ত ও আস্থার মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে চান। ওয়ার্ডবাসী যেন তার কাছে এসে শান্তি পায়। তাদের প্রয়োজনীয় কাজগুলো খুব সহজে করে নিতে পারে । তিনি একজন নিবেদিত জনপ্রতিনিধি হতে চান। তিনি আশা করেন ওয়ার্ডবাসী তাকে নির্বাচিত করলে তাদের সব দাবি-দাওয়া গুলো পূরণ করার চেষ্টা করবেন। ওয়ার্ডকে সিটি কর্পোরেশনের সবচেয়ে সুন্দর ও আধুনিক ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তুলতে চান।

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে যুক্ত আছেন। তিনি বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সহ – সভাপতি, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও চৈতালী সংঘের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন । মানুষের সাথে অান্তরিকতার সম্পর্ক গড়ে তোলাই তার নিরন্তর প্রচেষ্টা। তার চিন্তা -চেতনা,ধ্যান-ধারনা মানুষকে ঘিরে। স্বপ্ন একটাই নবীণ, প্রবীণ ও জনগনের সেবক হওয়া। জনগনের প্রতিনিধি হওয়ার স্বপ্নের মানুষটির জন্ম ১৯৭৮ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি সিলেটের দাড়িয়াপাড়ার এক সাংস্কৃতিক পরিবারে। তার পিতার নাম হল বিনয় ভূষন কর আর মাতা হলেন অনিতা রানী পাল। তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি হলেন সবার বড় । একান্নবর্তী পরিবারে সবাইকে নিয়ে তিনি সুখেই আছেন । তিনি রসময় মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস.এস সি এবং মদনমোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে এইচ.এস. সি ও বি.কম পাশ করেন । শিক্ষা জীবন থেকেই তার জনপ্রতিনিধি হওয়ার স্বপ্নটা ঘনীভূত হয়। আর পরিবারের সর্বাত্মক সহযোগীতার কারণেই তার স্বপ্ন পূরনের পথে অগ্রসর হওয়া। ওয়ার্ডবাসীর সহযোগীতায় পূরণ হউক তার স্বপ্ন। আর সিটি কর্পোরেশন পাবে একজন শিক্ষিত, স্বল্পভাষী, পরিশ্রমী ও জনগনের কল্যাণে নিয়োজিত একজন সক্রিয় কাউন্সিলর। তারুণ্যের কন্ঠস্বর, প্রবীণদের আশার আলো এই তরুণ সমাজসেবীর নাম হচ্ছে সবার পরিচিত মুখ ২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী বিক্রম কর সম্রাট। জয় হউক সম্রাটের, জয় হউক তারুণ্যের, জয় হউক সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের। ঘরে ঘরে হউক সম্রাটের জয়গান,এবার হবে জনগনের সকল সমস্যার সমাধান।

অমিতাভ চক্রবর্ত্তী রনি
লেখক: কলামিস্ট ও সাংবাদিক
১৮/০৬/১৮

0 comments on “তারুণ্যের কন্ঠস্বর, প্রবীণদের আশার আলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *