নিউজটি পড়া হয়েছে 47

সিলেট সদর উপজেলায় ঘন ঘন লোডশেডিং এ অতিষ্ঠ গ্রাহকরা।

মো. মতিউর রহমানঃ- সিলেট শহরতলী খাদিমনগর ইউনিয়ন সহ সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পবিত্র রমজান মাস শুরুর পর থেকে পল্লী বিদ্যুত এর আওতাধীন গ্রাহকরা চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। রমজান মাসে লোডশেডিং নামের এই লুকোচুরি খেলা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। ঘন্টার পর ঘন্টা বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে রাখা যেনো রমজান মাসের নিয়মে পরিণত হয়ে গেছে। এনিয়ে উপজেলার গ্রাহকদের মাঝে দেখা দিয়েছে চরম ক্ষোভের। ঘন ঘন লোডশেডিং এ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জন জীবন, সব মিলিয়ে এ উপজেলায় ভেঙ্গে পড়েছে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। তবে বিয়ানীবাজার ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হলে এ থেকে মুক্তি পাবে গ্রাহকরা। এরি মধ্যে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি পরীক্ষামূলক ভাবে চালু করা হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ উপজেলায় যে সকল এলাকায় পল্লি বিদ্যুৎ রয়েছে সেই সব এলাকায় রমজান মাস থেকে বিদ্যুৎ সমস্যা চরম আকার ধারন করছে বাসিন্দাদের অভিযোগ ইফতার তারাবী ও সেহরির সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে যার ফলে রোজাদার মানুষের কষ্টের শেষ নেই। দিন ও রাতের বেলায় বেশীর ভাগ সময় বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখা হয়। বিদ্যুৎ এর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়ছেন চাহিদার চাইতে কম পরিমান বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ থেকে পাওয়ায় সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। অল্প দিনের মধ্যে এ সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব হবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। বিদ্যুৎ বিভ্রান্ত সৃষ্টির ফলে হুমকির মুখে রয়েছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিশেষ করে কাপড়ের বিতান, সেলুন ইত্যাদি তারা জানিয়েছেন ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছেন বিশেষ করে রাতের বেলায় ঘনঘন লোডশেডিং এর ফলে বিদ্যুৎ না থাকায় তারা আতংকের মধ্যে রয়েছেন। ব্যবসায়ীরা ঈদের যে কয়েক দিন বাকী রয়েছে সেই সব দিনে নিরিবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবি জানান। এ দিকে নিরিবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবীতে উপজেলার খাদিমনগর ইউনিয়নের গ্রাহকরা ঘন ঘন লোডশেডিং এর প্রতিবাদে ফুসে উঠেছেন। স্থানীয় সাহেবের বাজারে পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-২ এর আওতাধীন গ্রাহকরা ঘণ ঘণ লোডশেডিং বন্ধ ও নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবিতে গত শুক্রবার রাতে সাহেবের বাজার- হরিপুর সড়ক রাত ৯টা থেকে দুই ঘন্টা অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেছে স্থানীয় এলাকাবাসী। এ সময় অবরোধ কারীরা সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ২ এর জেনারেল ম্যানেজার আবু হানিফের অপসারণ চেয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এতে খাদিমনগর ইউনিয়নের ফতেগড়, সাহেবের বাজার, কোনাটিলা, গোড়ামারা, রামপুর, দেবাইর বহর, ছালিমহল, পাঠানগাও, কান্দিরপথ, ছান্দাই, চানপুর, মোটরঘাট, ফড়িংউরা, ছড়ারপাড়, টিল্লাপাড়া, বড়বন, কান্দিপাড়া, হানাপাড়া, আলীনগরসহ বেশ কয়কটি গ্রামের প্রায় বিপুল সংখ্যক গ্রাহক বিভিন্ন মসজিদের মুসল্লি সহ সর্বস্থরের জনতা অবরোধ অংশ নেয়।পরে রাত ১১ টার দিকে স্থানীয় মেম্বার মো. আনছার আলী বিদ্যুৎ বিভাগের সাথে কথা বলে অবরোধ কারীদের আশ্বাস দিলে অবরোধ কারীরা অবরোধ তুলে নেয়। এসময় ২ ঘন্টা সড়ক বন্ধ থাকায় সড়কের দুই পাশে অসংখ্য গাড়ী আটকা পড়ে। এলাকাবাসী দাবি করেন প্রতিদিন রাত ও দিনের বেলায় বেশির ভাগ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে।রমজান মাস শুরু থেকে বিশেষ করে ইফতার তারাবীহ ও সেহরির সময় বন্ধ থাকে বিদ্যুৎ সংযোগ। বর্তমানে এ পরিস্থিতি আরও ভয়ংকর অবস্থা ধারণ করেছে। ফলে ব্যবসায়ীরা ঠিকমতো ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারছে না। এ নিয়ে সাহেবের বাজার ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ ফুসে উঠেছেন। এর প্রেক্ষিতে শুক্রবার রাতে তারা রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করে। খাদিমনগর ইউনিয়নের মোক্তার খাঁ , কান্দিগাও ইউনিয়নের আব্দুল মুতলিব, মোগলগাও ইউনিয়নের সামছুল ইসলাম জানান, দেশে পর্যাপ্ত পরিমান বিদ্যুৎ থাকার পরেও, বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন উঠে পড়ে লেগেছে। রমজান মাসে দিন ও রাতের বেশির ভাগ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় গ্রাহকদের মাঝে অসন্তুষ্টের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় সাধারন জনগন আন্দোলন করছে। এ পরিস্থিতি দ্রুত সমাধান না হলে পরিস্থিতি আর ভয়াবহ হবে বলে তারা জানান। উপজেলায় নিরিবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রতি আহবান জানান। এ বিষয়ে সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ২ এর জেনারেল ম্যানেজার আলহাজ্ব আবু হানিফ জানান, বর্তমানে বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যা হচ্ছে স্বীকার করে গাছপালা ও হাওর অঞ্চল ঘেরা এলাকাকে দায়ী করে তিনি বলেন, পল্লী বিদ্যুৎ ২ এর আওতায় প্রায় ৩ হাজার আট শত কিলোমিটার লাইন রয়েছে বেশির ভাগ লাইন হাওর অঞ্চল এর উপর দিয়ে যাওয়ার ফলে বিদ্যুৎ সমস্যা বেশি হয় এবং এ অঞ্চলে রেকর্ড সংখ্যক প্রচুর গাছপালা থাকায় সামান্য বাতাস বা বৃষ্টি হলে সমস্যা আর বেড়ে যায়। যে কারণে লাইন মেরামত করতে হিমশিম খেতে হয়।সিলেট বিয়ানিবাজার ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রর কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। আমরা এ ফিডার থেকে পল্লী বিদ্যুৎ ২ এর বিদ্যুৎ সরবরাহ করব এটি চালু হলে আর লোডশেডিং থাকবেনা, বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি পরীক্ষা মূলক চালু করা হয়েছে, আমরা আশা করছি ১৫ জুনের মধ্যে এটি চালু হয়ে যাবে। বর্তমানে আমরা চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ বরাদ্ধ কম পাচ্ছি। যার জন্য লোডশেডিং না করে উপায় নেই। তারপরও আমাদের চেষ্টা থাকে ইফতার, সেহেরী ও তারাবি নামাজের সময়ে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে। আশা করছি কিছু দিনের মধ্য এ সমস্যা থেকে মুক্তি পাবে গ্রাহকরা।

ফেসবুক মন্তব্য