নিউজটি পড়া হয়েছে 256

‘আধুলি’ ম্যাগাজিন পাঠক রিভিউ : অমিতাভ চক্রবর্তী রনি

আধুনিক সৃষ্টিশীল সাহিত্যের ধারক ও বাহক ‘আধুলি’ ম্যাগাজিন। শ্রীহট্টের সাহিত্যের ইতিহাস অনেক পুরনো। সুপ্রাচীন কাল থেকেই সাহিত্য সমাজের বিশাল জায়গা জুড়ে অবস্থান করে আছে। সাহিত্যের রসবোধ ছাড়া যেন আমাদের জীবন অচল। পেটের ক্ষুধা নিবারণের জন্য যেমন আমরা ভাত খাই তেমনি সবার মনের ক্ষুধা নিবারণের জন্য দরকার সৃষ্টিশীল সাহিত্যের রসবোধ বা স্পর্শ। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর রাতে ঘুমানোর আগ পর্যন্ত কোন না কোনভাবে সাহিত্য যেন আমাদের হৃদয়ে একবার হলেও আলিঙ্গন করে যায়। এ আলিঙ্গন ভারাক্রান্ত হৃদয়ে সুখের অনুভূতি বিলিয়ে দেয়। যা আস্বাদন করে আমরা আত্মতৃপ্ত হই। যে আত্মতৃপ্তি টাকা দিয়ে কেনা যায়না। কারো কাছ থেকে ধার নেওয়া যায় না। কথায় আছে, মাতৃত্বের স্বাদ যেমন পুরুষ জাতি কখনো আস্বাদন করতে পারেনা তেমনি সাহিত্য না পড়ে সাহিত্যের স্বাদ কখনো কেউ আস্বাদন করতে পারেনা। সাহিত্য যেমন তরুণ প্রজন্মকে আধুনিক সভ্যতায় এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা দেয়, তেমনি বৃদ্ধ বয়সে সবার অবসর জীবনের সঙ্গী হিসেবে কাজ করে। আবার সাহিত্য আমাদেরকে নব কিছু সৃষ্টির তাড়া দেয়। যেখানে আধুনিক সভ্যতা খুঁজে নেয় নিত্য দিনের চলার পথের প্রয়োজনীয় খোরাক।
সাহিত্য হচ্ছে সভ্যতার সাক্ষী। পুরনো সাহিত্যের ইতিহাস বাদ দিয়ে আধুনিক সাহিত্যের ইতিহাস কখনো কল্পনা করা যায়না। তাইতো পুরনো সাহিত্যের ইতিহাসকে আমাদের সম্মুখে নিয়ে আসতে জন্ম হয়েছে আধুনিক সৃষ্টিশীল সাহিত্যের ম্যাগাজিন ‘আধুলি’। মোড়ক উন্মোচনের আগেই ম্যাগাজিনটি সবার মনে কৌতূূহল সৃষ্টি করেছে। পাড়া-মহল্লা, অফিস-আদালত ও রাজনীতির টেবিলে আধুলি’র জয়গান। সিলেট ছাড়িয়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গার ঈদে ঘরমুখো মানুষের জন্য ‘আধুলি’ হয়েছে অন্যরকম এক ঈদ উপহার। গাড়িতে বসে, ঈদের নামাজ শেষে বা নাস্তার টেবিলে বসে চা পান করতে করতে একটু আধুলির দিকে চোখ বুলিয়ে নেওয়া। হয়তো একটা গল্প, প্রবন্ধ ও কবিতা নিজের জীবনের ফেলে আসা শৈশবের স্মৃতিগুলোর সাথে মিশে যাওয়া। যা আধুনিক যান্ত্রীকতার জীবনে একটু হলেও সুখের অনুভূতি বিলিয়ে দিবে । নামমাত্র টাকা দিয়ে কেনা ম্যাগাজিনটা হয়তো লাখ টাকার কাজ করবে। হয়তো অসুস্থ মানুষগুলোর ঔষধ হিসেবে কাজ করবে। হয়তো নতুন প্রজন্মের জ্ঞান অর্জনের হাতিয়ার হবে। আজ যে দিকে তাকাই সে দিকেই শুনি আধুলির জয়গান, ফিরে আনবে তারা পুরনো সাহিত্যের সম্মান/ মান।
 
আধুলি’ কেন এই অপ্রচলিত নাম। হাজার হাজার নামের মাঝে কেন ম্যাগাজিনের কর্ণধাররা এই নামটি বেছে নিয়েছেন। এই নামকরণের সার্থকতা কি? পুরনো নামকে কেন তারা আকঁড়ে ধরেছেন। চলুন জানা যাক। ‘আধুলি’ মানে কী? এর অর্থ হচ্ছে এক টাকার আধল বা অর্ধেক মূল্যের মুদ্রা, পঞ্চাস পয়সার মুদ্রা বা আট আনি। ১৯৭৩ সালে প্রথম গোলাকৃতির আধুলি বাজারে আসে। যার ওজন ছিল ৪গ্রাম। জাতীয় প্রতীক শাপলা ও শান্তির প্রতীক পায়রার আদলে ধাতব মুদ্রাটি বাজারে প্রচলিত থাকে। কিন্তুু সময়ের সাথে সাথে মুদ্রার নামটি ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। তাহলে কেন এই নাম? মূল বিষয় হচ্ছে পুরনো একটা শব্দকে আকঁড়ে ধরে পুরনো ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের কাছে নিয়ে আসা। যাতে তারা সাহিত্য, প্রথা ও বাঙালির সাংস্কৃতিক ইতিহাসকে জানতে পারে। বর্তমান প্রজন্ম পুরনো সাহিত্য, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক রীতি নীতিকে প্রায় ভুলেই যাচ্ছে। মাঝে মাঝেই দেখা যায় ইতিহাস বিকৃত হচ্ছে। গান থেকে শুরু করে সোস্যাল মিডিয়া পর্যন্ত আমাদের প্রাণের বাংলা ভাষার বিকৃত ব্যবহার হচ্ছে। ফলে নতুন প্রজন্ম খারাপের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে খুব দ্রুত। সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় হচ্ছে। মানুষের মাঝে আন্তরিকতা ও সামাজিকতা কমে যাচ্ছে। যার প্রভাব পড়ছে সাহিত্যের ওপর। আর এই অবস্থার জন্য দায়ী হচ্ছে সাহিত্য ও সংস্কৃতির চর্চার অভাব এবং অপব্যবহার। কিন্তুু আধুলির সম্পাদকবৃন্দ উদ্দ্যোগ নিয়েছেন এই অবস্থার পরিবর্তনের। আধুলির সম্পাদক কাশফিয়া আখি, সহ-সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম ও ইকবাল এইচকে খোকনের সম্পাদনায়, মো: আলীম মৃধার প্রচ্ছদে, বিকাশ বিশ্বাসের অক্ষর বিন্যাস ও অলংকরণে ম্যাগাজিনটি সবমহলে প্রশংসিত হচ্ছে। তাদের সৃজনশীল চিন্তা চেতনা ও সুপরিচিতির কারণে ম্যাগাজিনে স্থান পেয়েছে বিভিন্ন লেখক, সাংবাদিক ও কবিদের লেখা। এখানে লিখেছেন বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত ড. এ. কে আব্দুল মোমেন, পুলিশের এডিশনাল ডিআইজি এম সাখাওয়াত হোসাইন,  হামদর্দ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. মো: ইসমাইল জবিউল্লাহ্, কবি কালাম আজাদ, কায়েস চৌধুরী, এপোলো হসপিটালের ডা: আসিফুর রহমান, জহীর মুহাম্মদ, সোহেল রিয়াজুল, রোকেয়া ইসলাম, রওশন রুবী, সাঈদা নাঈম, আসাদ জুবায়ের, মোস্তফা হাবীব, মুজিব রহমান, ছালেহা খানম জুবিলী  ঝর্না রহমান, অনু ইসলাম, শাহ আলমগীর, হোসাইন আহমদ হোসেন আরো অনেকে। নতুন লেখক ও কবি যারা লিখেছেন তাদের মাঝে এক অন্যরকম অনুভূতি কাজ করছে। আবার অনেকের এটা ছিল জীবনের প্রথম লিখা। সবদিক থেকে ম্যাগাজিনটি একটা ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে আধুনিক সাহিত্য অঙ্গনে।
 
ম্যাগাজিনটি হচ্ছে ঈদ সংখ্যা, জুন ২০১৮। সম্পাদকবৃন্দ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বছরে তারা চারটি সংখ্যা বের করবেন। যাতে করে সবাই লেখার সুযোগ পায়। সাহিত্যের অলি গলিতে প্রবেশ করতে পারে। ম্যাগাজিনের সহ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম ও ইকবাল এইচকে খোকন বলেছেন আগামী সংখ্যাগুলোতে থাকবে বাংলাদেশের স্বনামধন্য লেখক আনিসুল হক, জাফর ইকবাল,পীর হাবিবুর রহমান সহ ,ক্রিকেটার, ডাক্তার, কলামিস্ট, সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের লেখা। যা ম্যাগাজিনকে নিয়ে যাবে এক অনন্য উচ্চতায়। তাদের ব্যতিক্রমি লেখার মাধ্যমে সবাই সুযোগ পাবে সাহিত্য চর্চার। শুরু হবে পরিবর্তনের হাওয়া। মানুষ খুৃঁজে পাবে সুখ শান্তির একটু ছোঁয়া সৃষ্টিশীল সাহিত্যের ধারক ও বাহক ‘আধুলির’ মাঝে। সাহিত্যের জানা অজানা জানতে তাই সবাই চোখ রাখুন ‘আধুলির’ পরবর্তী সংখ্যায়। এই জুন সংখ্যার পর আসবে ” ভালবাসা ” সংখ্যা। আধুলির সংখ্যাগুলোর আপডেট জানতে প্রতিনিয়ত পরিদর্শন বা লগিং করুন নিউজ পোর্টাল সিলনিউজ২৪.কম অথবা https://www.facebook.com/আধুলি-246859122545059/ আপনাদের সবার ভালবাসা ও সহযোগীতায় আধুলি এগিয়ে যাক এই প্রত্যাশা করি। পুরনো সাহিত্যকে নতুনভাবে পাই আমরা আধুলির মাধ্যমে। জয় হউক আধুলির, জয় হউক সৃষ্টিশীল সাহিত্যের।
 
অমিতাভ চক্রবর্ত্তী রনি
লেখক, কলামিস্ট ও সাংবাদিক
ফেসবুক মন্তব্য
xxx