নিউজটি পড়া হয়েছে 227

বিদ্যালোকে মঈনপুরের যাত্রাধ্বনি : মোঃ আখলাকুর রহমান

পর্ব -০৯

আমাদের সৌভাগ্য হলো, মঈনপুরের মঙ্গলযাত্রায় বেশ কিছু মহৎপ্রাণ মানুষের সমাবেশ ঘটেছিলো, এর উর্বর প্রাংগণে। ভেতর থেকে তো রয়েছেই বাইরে থেকে এসে সম্পৃক্ত হওয়া নিবেদিত প্রাণ ক’ জন মানুষের সর্বাত্মক সহযোগিতা আমাদের কে চির কৃতজ্ঞতার পাশে আবিষ্ট করে রেখেছে। প্রথম পর্যায়ে মাদ্রাসা ও প্রাথমিক স্কুল স্থাপনে এক অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করেন রেঙ্গা-দাউদ পুরের আসকর আলী (ছাবাল পীর), যিনি তার জীবনের সিংহভাগ সময় কাটিয়েছেন মঈনপুরে। তার একাগ্রতায় ঐ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ধারাবাহিকতা রক্ষা ও সরকারি অনুমোদনের মাধ্যমে ধাপে ধাপে উত্তরণ ঘটেছিলো। এরপর সুর ঝিগলী নিবাসি মুন্সি মো. আসকির উনিশ শতকের মধ্যভাগে এসে আত্মনিয়োগ করেছিলেন ধর্মীয় শিক্ষা বিস্তারে। তিনি নিজের অল্প আয় জমিয়ে জমিয়ে বর্তমান মঈনপুর মসজিদের ভূমির একাংশ ক্রয় করে দান করেছিলেন। তার চেষ্টায়ই জুম্মা বাড়িতে মঈনপুরের প্রথম মসজিদ নির্মিত হয়েছিলো। পরে তা ১৯৬৩ সনে তিন গম্বুজ বিশিষ্ট সুবৃহৎ মসজিদের আকারে বর্তমান কম্পাউন্ডে নির্মিত হয়। ৩০ বছর পর ২০০৫ সালে যা জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় এবং মুসুল্লীদের স্থান সংকুলানে অপর্যাপ্ত হয়ে যাওয়ায় তা ভেঙে ফেলে বর্তমান ১০৫ ফুট দীর্ঘ ও ৭০ ফুট প্রস্থ বিশিষ্ট নুতন মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে। বাদে ঝিগলী নিবাসী সেকালের প্রখ্যাত রাজনীতিক, ইসলামি চিন্তাবিদ ও সমাজ সংস্কারক মাওলানা নুরুল হক ১৯৫২ সালে এসে যোগ দিয়েছিলেন মঈনপুর এমই মাদ্রাসায়। যা পরে জুনিয়র হাই স্কুল ও হাই স্কুলে রূপান্তরিত হলে তিনি ধর্মীয় শিক্ষক হিসেবে তার পুরো কর্ম জীবনের শেষাংশ কাটিয়ে দেন মঈনপুরে। একই সাথে তিনি জামে মসজিদের খতিব হিসেবেও একটানা প্রায় ৩০ বৎসর দায়িত্ব পালন করেন। তিনি এ দীর্ঘ সময়ে মঈনপুর বাসির এক অন্যতম অভিভাবকের ভূমিকায় ছিলেন। এর আগে প্রায় দু’যুগ সময় তিনি আসামে শিক্ষকতা পেশায়ই নিয়োজিত ছিলেন। এমই স্কুলকে নিম্ন মাধ্যমিক স্কুলে রূপান্তর এবং পরে এ প্রতিষ্ঠান কে উচ্চ বিদ্যালয়ে রূপান্তরে তার ঐকান্তিকতা তাকে এসব কাজের অন্যতম নিয়ামকের ভূমিকায় স্থান করে দেয়। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি বয়সের ভারে ন্যুজ্ব হয়ে পড়েন। পরে তার একমাত্র ছেলে মাওলানা আবুল ফযল কে তার স্থলাভিষিক্ত করা হয় এবং জীবনের শেষ দিনগুলো তিনি নিজ বাড়িতে কাটিয়ে দেন। ১৮৯৭ সালের ১৩ নভেম্বর জন্ম নেয়া ক্ষণজন্মা পুরুষ মাওলানা নুরুল হক ৮৮ বছর বয়সে ১৯৮৫ সালের ৩১ অক্টোবর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মঈনপুরের শিক্ষাযাত্রার ইতিহাসে আরেক দীর্ঘস্থায়ী কর্মবীর ছিলেন প্রধান শিক্ষক মো. ফজলুল হক।ময়মনসিংহ জেলা তার জন্মস্থান হলেও কর্মজীবনের দীর্ঘ ৩৩ বছর তিনি অতিবাহিত করেছেন মঈনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে। বলা যায়, এ এলাকার মাটি ও মানুষের সাথে তিনি একাত্ম হয়ে গিয়েছিলেন। ১৯৮০ সালে যোগদান করে ১৯১৩ সালে চাকুরির বয়স অতিক্রান্ত হলে তিনি বিদায় নেন। বর্তমানে তিনি তার নিজের গ্রামের বাড়িতে অবসর জীবন কাটাচ্ছেন। মঈনপুরে মাধ্যমিক শিক্ষার চৌকষ উত্থানে তিনি এক যুগান্তকারি ও অনবদ্য ভূমিকা পালন করেন। মঈনপুর এলাকাভিত্তিক শিক্ষার অগ্রযাত্রা ও সার্বিক কল্যাণমুখি কর্মযজ্ঞে এক সুদক্ষ সিপাহসালার ছিলেন এর পার্শ্ববর্তী বারগোপী গ্রামের মরহুম একরাম উদ্দিন আহমদ। তার কৈশোর জীবন কেটেছে মঈনপুর হাইস্কুলের শিক্ষার্থি হিসেবে। শিক্ষাজীবন শেষে এলাকার নানাবিধ সামাজিক কর্মকান্ডে তিনি আত্মনিয়োগ করেছিলেন ধীরে ধীরে। শিক্ষার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন এক দক্ষ সংগঠক। তিনি প্রথমে মঈনপুর হাইস্কুলের ম্যানেজিং কমিটিতে সদস্য হিসেবে যোগ দেন পরে দু’মেয়াদে এর সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। একই সময়ে তিনি দোলার বাজার মাদ্রাসা এবং পালপুর উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায়ও মূখ্য ভূমিকা রাখেন। যোগাযোগের ক্ষেত্রে জালালপুর-লামারসুলগঞ্জ সড়ক নির্মাণে তার অগ্রগামি ভূমিকা ছিলো। সুনামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুত সমিতি গঠনেও অন্যতম উদ্যেক্তার ভূমিকায় ছিলেন তিনি। তিনি সুনামগঞ্জ পবিস এর প্রতিষ্ঠাতা কালিন সভাপতি সহ আরো তিন টার্ম এর নির্বাচিত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দক্ষিণ ছাতক এলাকায় বিদ্যুতায়ন কাজের প্রধান কর্তা ব্যক্তি ও ছিলেন একরাম উদ্দিন আহমদ।(চলবে)

ফেসবুক মন্তব্য
xxx