নিউজটি পড়া হয়েছে 36

নবীগঞ্জে বউ-শাশুরী হত্যা মামলা ডিবিতে হস্তান্তর, দ্রুত গতিতে চলছে তদন্ত কার্যক্রম।

এম.মুজিবুর রহমানঃ নবীগঞ্জে আলোচিত বউ-শ্বাশুড়ী খুনের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার তদন্তের দায়িত্ব ডিবি পুলিশে হস্তান্তর করা হয়েছে। গতকাল পুলিশ সুপার বিধান ত্রিপুরা এক আদেশে মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তর করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই ডিবির ওসি শাহ আলমের নেতৃত্বে ডিবি পুলিশ হত্যাকান্ডের ঘটনাস্থল সাদুল্লাপুর ও আশপাশ এলাকায় দিনভর তদন্তকার্যক্রম পরিচালনা করে। ডিবি পুুলিশ নিহত রুমি বেগমের পিত্রালয় আমতৈল গ্রামে গিয়ে খোজ খবর নেয়। পুলিশ মালা বেগম ও রুমী বেগম হত্যার মুটিভ বের করতে গতকাল পর্যন্ত প্রায় অর্ধশত ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। এর মধ্যে ৫জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
সূত্র মতে হত্যার রহস্য বের করতে ডিবি পুলিশ নারী ঘটিত, জায়গা সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ, চুরি কিংবা দূর্বূত্তায়ন একাধিক বিষয় মাথায় নিয়ে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
গতকাল মামলার বাদী ডাঃ নজরুল ইসলাম, রুমী বেগমের স্বামী আখলাক চৌধুরী গুলজার, রুমির পিতাসহ প্রতিবেশী, আত্মীয় স্বজনের সাথে কথা বলেছে ডিবি পুলিশ। পুরো বিষয়টি পুলিশ সুপার বিধান ত্রিপুরা মনিটরিং করছেন।
এদিকে গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১১ টায় সাদুল্লাপুর গ্রামের ঈদগাহ মাঠে নিহত মালা বেগম ও নিহত রুমী বেগমের জানাযা নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাদেরকে দাফন করা হয়েছে। নির্মমভাবে এই হত্যাকান্ডের শিকার পুত্রবধু রুমি বেগম এবং শ্বাশুড়ী মালা বেগমের জানাযার নামাজে সাদুল্লাপুর ছাড়াও বিভিন্ন স্থান থেকে আসা হাজার হাজার মানুষ অংশ গ্রহণ করেন। দাফন কাজে অংশ নিতে লন্ডন প্রবাসী পুত্র আখলাক চৌধুরী গোলজার, তার বড় ভাই আলতা মিয়া চৌধুরী সোমবার রাতেই দেশে ফিরেছেন।
এ ঘটনায় নিহত রুমি বেগমের বড় ভাই পল্লী চিকিৎসক নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামী করে সোমবার রাতে নবীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এদিকে পুলিশ ঘটনার দু’দিন অতিবাহিত হলেও খুনের উল্লেখযোগ্য কোন ক্লু-উদঘাটন করতে পেরেছে কি না তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। আটককৃত ৫জনকে গত দু’দিন ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের কাছ থেকে হত্যাকান্ডের কোন তথ্য বের হয়েছে কি না এ বিষয়ে পুলিশ সাংবাদিকদের কাছে মুখ খুলছেন না। তবে পুলিশ বলছে মামলার তদন্ত অনেকদুর এগিয়েছে। সহসাই হত্যাকারীদের মুখোশ উন্মোচন হবে। কিন্তু তদন্তের স্বার্থে মিডিয়ার সামনে প্রকাশ করা যাচ্ছে না। মামলা ডিবি পুলিশে হস্তান্তর করা হলেও নবীগঞ্জ থানা পুলিশসহ পিবিআই, ডিএসবি ও র‌্যাবসহ বিভিন্ন গোয়েস্থা সংস্থা ঘটনার রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে বলে জানা গেছে।
এদিকে জানাযার নামাজের পুর্বে দেয়া বক্তৃতায় নিহত রুমি বেগমের স্বামী ও মালা বেগমের একমাত্র সন্তান লন্ডন প্রবাসী আখলাক চৌধুরী গুলজার এবং রুমির পিতা সুজন মিয়া চৌধুরীসহ শোকার্ত গ্রামবাসী দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্মম এই হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনসহ প্রকৃত খুনিদের গ্রেফতার পুর্বক আইনের আওতায় নিয়ে আসার আহ্বান জানান।
মামলার বাদী নিহত রুমির বড় ভাই নজরুল ইসলাম বলেন, বোন হারিয়েছি, বোনের শাশুড়ী হারিয়েছি। তাই তিনি প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন। নজরুল ইসলাম আরও বলেন, তার বোন ও শাশুড়ী হত্যাকান্ডের সাথে বখাটে শুভ রহমান সহ একটি সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্ত জড়িত রয়েছে। পুলিশ শুভকে আটক করলেও তার কাছ থেকে কোন তথ্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয়নি।
এদিকে গতকাল মঙ্গলবার ভোর ৭ টার দিকে পুলিশ আটককৃত তালেব মিয়াকে সাথে নিয়ে তার দেয়া তথ্যমতে তার শয়ন কক্ষ থেকে ভেজা শর্ট পেন্ট ও গেঞ্জি উদ্ধার করেছে পুলিশ। হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি বা ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করতে চেষ্টায় রয়েছে পুলিশ। বিকাল থেকে ডিবি পুলিশের একটি টিম ওই ছুরা উদ্ধারে তৎপর রয়েছে।
এছাড়া এই হত্যাকান্ডের সময় যত যাচ্ছে ততই আটককৃত শুভ রহমানকে নিয়ে আলোচনার ঝড় উঠছে। ধীরে ধীরে শুভ রহমান এবং তালেব মিয়ার দিকে তীর এগুচ্ছে বলে অনেকেই ধারনা করছেন।
কে এই শুভ? বউ-শাশুড়ী নির্মম হত্যাকান্ডের ঘটনায় সন্দেহ জনকভাবে আটককৃত শুভ রহমানের বাড়ী বাহুবল উপজেলার খাগাউড়া গ্রামে। সে ছোট বেলা থেকে সাদুল্লাপুর নানা মানিক মিয়ার বাড়িতে লালন পালন হয়েছে। লেখাপড়াও তেমন করেনি শুভ। বর্তমানে তার বয়স হবে প্রায় ২৪ বছর। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাঘাটে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছাত্রীদের উত্তোক্ত করে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। প্রায় দিনই তার বিরুদ্ধে ইভটিজিংয়ের অভিযোগ পাওয়া যেত বলে গ্রামবাসী জানান। এক কথায় শুভ ওই এলাকায় বখাটে ছেলে হিসেবেই পরিচিত। তার বেপরোয়া চলাফেরায় আতংকিত ছিল এলাকাবাসী। এছাড়া ঘটনার কিছুদিন পুর্ব থেকে নিহত রুমি বেগমের ফোন নাম্বারে বিভিন্ন নাম্বার থেকে ফোনে পরিচয় গোপন রেখে নানা অঙ্গভঙ্গিতে অসংলগ্ন কথা বার্তা বলতো। এ সব কথা রুমি তার ভাইদেরকে জানিয়েছিল বলেও জানা গেছে।
মামলার বাদী নিহত রুমি বেগমের ভাই নজরুল ইসলামেরও অভিযোগ এই নারকীয় হত্যাকান্ডে শুভ জড়িত রয়েছে। অপর দিকে বউ-শাশুড়ীর নির্মম এই হত্যাকান্ডের ঘটনার দু’দিন অতিবাহিত হলেও ঘটনার ক্লু উদঘাটিত হয়নি। কেন হত্যা করা হলো নিরপরাধ বউ-শাশুড়ীকে, কি কারন ছিল এমন লোমহর্ষক হত্যাকান্ডের, তা উদঘাটন করার জন্যই পুলিশ মরিয়া। দ্রুত গতিতেই তদন্ত কার্যক্রম চলছে বলে সূত্রে প্রকাশ।
উল্লেখ্য, গত রবিবার রাত ১১টায় সাদুল্লাপুর গ্রামে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তদের হাতে নির্মমভাবে খুন হন মৃত রাজা মিয়ার স্ত্রী মালা বেগম, পুত্রবধু রুমি বেগম। এ ব্যাপারে বাহুবল সার্কেল এসপি পারভেজ আলম চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, খুব শ্রীঘ্রই এই হত্যাকান্ডের মুটিভ উদ্ধার করা সম্ভব হবে।
ফেসবুক মন্তব্য