নিউজটি পড়া হয়েছে 160

শিক্ষকদের এত অপমান কেমনে সইবে দেশ? : জহীর মুহাম্মদ

শিক্ষকদের এত অপমান কেমনে সইবে দেশ?
জহীর মুহাম্মদ

 (০১)

প্রিয় এই দেশ। প্রিয় এই মাতৃভুমি। যেখানে পালাক্রমে সবাইকে কমবেশ লাঞ্চনার শিকার হতে হয়। এখানে খুন হয়,গুম হয়,মানহানি হয়। প্রশাসন অপরাধী-নিরপরাধীকে গ্রেপ্তার করে। হাতকড়া-ডান্ডাবেড়ি পড়িয়ে জেল হয়। অত:পর আইনের মারপ্যাঁচে বেল হয়। এ দেশে একজন দাগী অপরাধী যেমনি বুক ফুলিয়ে হাঁটার অধিকার রাখে, পক্ষান্তরে নিরপরাধ ফজলু মিয়ারা বিনা দোষে বাইশ-বাইশটি বছর হাজতে গলেপঁচে মরে। যতবড় ঘটনাই ঘটুক প্রথম কিছুদিন তা নিয়ে তুমুল হৈ-হুল্লড় হয়। মিডিয়া পাড়া সরব হয়। প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। দেশশুদ্ধ ঝড় উঠে আলোচনার টেবিলে। তার অন্য আরেকটি জগন্য ঘটনার রেশে চাপা পড়ে সদ্য গঠিত আসল ঘটনা। কোন অপরাধ সংগঠিত হলে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে যে জিনিসটি জাতি উপহার পায়, তা হল- তদন্ত কমিটি। আদালতপাড়ায় একদম সুবিচার যে হয় না তা নয়। সুবিচার হয়, তবে যে ঘটনাগুলো জাতিশুদ্ধ সবার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ করে তাৎক্ষণিক তার কোন সুরাহা হয় না। তদন্তকারীর তদন্ত উদ্ধারের নৈপুন্যে বাসি হয়ে যায় সুবিচার। সংগত কারনেই কিছু-কিছু অপরাধের তাৎক্ষণিক (২৪ ঘন্টার মধ্যে) শাস্তির ব্যবস্থা রাখা বাঞ্ছনীয়। এ ক্ষেত্রে বিজ্ঞ আইন প্রণেতাদের ভুমিকাই মুখ্য। ধরা যাক, রমজান মাসের সকালবেলা নির্মমভাবে “রাজনহত্যা” সম্পন্ন হলো। মিডিয়ার কল্যাণে জাতি এহেন মধ্যযুগীয় বর্বরতা দেখল। বিশ কোটি কলিজায় রক্তক্ষরণ হল। চল্লিশ কোটি নয়নে অশ্রুকণা ঝরল। সাথে-সাথেই যদি রাজনের খুনিদের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের আওতায় এনে ফায়ারিং করে অথবা ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মারা হত, তবে জাতি হিসেবে আমরা তার দ্বিগুণ ফলাফল পেতাম। এক. জাতির হৃদয়ের রক্তক্ষরণ দূর হত। দুই. তাৎক্ষণিক বিচারের ফলে এ ধরণের অপরাধ করতে দুষ্কৃতিকারীদের দৌরাত্ম কমে যেত। সুবিচারের সুমিষ্ট ফল বাসিপঁচা করে লাভ কি? টাটকা-টাটকা ভোগেই তো প্রশান্তি!

(০২)

সেই স্বাধীনতাত্তোর কাল থেকে এদেশে বরাবরই পরাজিত শক্তিরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সেই বেপরোয়া হিংস্রদৃশ্য কখনো রাজপথে,কখনো ক্যাম্পাসে,কখনো স্কুল-কলেজ,মাদরাসায় কিবা প্রশান্ত জনপদে-জনপদে রিহার্সাল হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ার বদৌলতে হালের সবচাইতে ঘৃন্যদৃশ্যটি জাতি দেখল বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জের কাঁঠালিয়ায়। পঞ্চাষোর্ধ শিক্ষাগুরু আবু হানিফা। একজন ইমাম,একজন আলিম সর্বোপরি একজন শিক্ষকের নাম। মেহেদিরাঙ্গা সফেদ দাড়ি, মাথায় সুন্নতী তাজ। গায়ে পবিত্রতম জুব্বা। যাকে দেখলেই শ্রদ্ধায় মাথা নত হয়ে যায়। স্পষ্টতই চোখে-মুখে যার সরলতার ছাপ। মানব গড়ার সুমহান এই কারিগরকে পরাজিত শক্তি জাহাঙগীর গংয়েরা মাথায় মল মাখিয়ে নাস্তানাবুদ করল, এই ঘটনা আগে কেউ কখনো দেখেছে কিনা জানিনা। তবে বেজন্মারা কাঁঠালিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার প্রিন্সিপ্যাল মাওলানা আবু হানিফার মাথায় মল মাখেনি। মল ছিটিয়েছে পুরো শিক্ষক জাতির পবিত্র মস্তকে। এই ঘটনাকারী কারা? অথবা নেপথ্যে কারা? ইতিমধ্যেই জাতি জেনে ফেলেছে। তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিবেচনায় নয়, মানবিক বিচারেই প্রকৃত দোষীদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দিতে হবে। তদন্ত কমিটির কচ্ছপ গতির দিকে না তাকিয়ে ভিডিও ফুটেজের সুত্র ধরে অপরাধী ও তাদের মদদ দাতাদের মল মাখিয়ে প্রকাশ্যে বিচার করলেই, জাতির ক্ষোভ আর রক্তক্ষরণ কিছুটা হলেও লাঘব পাবে। কিছুটা হলেও শান্তি পাবে এদেশের শিক্ষক সমাজ। একজন আলেমের অপমান। একজন মুরাব্বীর অপমান সর্বোপরি একজন শিক্ষকের অপমান কেমনে সইবে দেশ? জাতির বিবেক শিক্ষকদের অপমান এ দেশে নতুন নয়। গরমাগরম শাস্তি না হলে অনাগত আগামীতে আমাদেরকে আরো শিক্ষক লাঞ্চনার স্থিরচিত্র দেখতে হবে। সইতে হবে প্রবঞ্চনা। বইতে হবে লাঞ্চনা-অপমানের খড়গ। গায়ে মেখে নিতে হবে বঞ্চনার থুথু-মলমুত্র! আমি একজন শিক্ষক হিসেবে বাকেরগঞ্জে ঘটে যাওয়া পৈচাশিক কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে দোষীদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দাবি করছি। সচেতন প্রজন্ম বেজন্মার ললাটে ছুড়ে দাও ঘেন্নার মল! এখনই ওদের প্রতিরোধ না করতে পারলে; আর কবে? স্যালুট মাওলানা আবু হানিফা; ছবরের সাথে অপেক্ষা করুন এবং দেখতে থাকুন নরপিশাচের শেষ পরিণতি। আজ আপনি একা নন; সাথে আছে দেশের ২০ কোটি প্রতিবাদ মুখর জনতা..

ফেসবুক মন্তব্য
xxx