নিউজটি পড়া হয়েছে 60

বিদ্যালোকে মঈনপুরের যাত্রাধ্বনি : মোঃ আখলাকুর রহমান

(পর্ব-০৮) আমাদের এলাকা থেকে বিভিন্ন পাবলিক পরিক্ষায় ছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহণের পর্বটাও ছিলো করুণ ও কষ্টসাধ্য। এক সময়ে সিলেটে পরে সুনামগঞ্জে এরপর ছাতক এবং সর্বশেষ গোবিন্দগঞ্জে গিয়ে তাদের পাবলিক পরীক্ষা দিতে হতো। এতে অভিভাবকদের প্রচুর অর্থ ব্যয়, পরিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ ও দুর্ভোগের চিত্রটা ছিলো বড়ো বেশি পীড়াদায়ক। প্রচলিত নিয়মানুযায়ী কোন প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে ১০০ জন পরিক্ষার্থী না হলে সেখানে পরীক্ষা কেন্দ্র চালু করা যায় না। এ মোক্ষম সুযোগটা আমাদের প্রথম তৈরি হয় ২০১১ সালের এইচএসসি পরিক্ষায়। এ সময় জনতা কলেজ থেকে পরিক্ষার্থি ছিলো ১১০ জন। কাল বিলম্ব না করে আমরা উদ্যেগ গ্রহণ করি এবং একই সাথে মঈনপুর হাইস্কুলকেও সম্পৃক্ত করে ২০১২ সাল থেকে মঈনপুরে এসএসসি ও এইচএসসি পরিক্ষাকেন্দ্র চালু করতে সক্ষম হই। অবশ্য এর আগে চালু হওয়া পিএসসি ও জেএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রগুলো শুরু থেকেই এখানে চালু হয়ে আসছিলো এ ক্ষেত্রে সরকারি নীতি নির্ধারণের নিয়মে। এখন তাই আমাদের এলাকার সমস্ত ছাত্রছাত্রী নিজেদের বাড়ীতে অবস্থান করেই বিভিন্ন ফাইনাল পরিক্ষায় সহজেই অংশগ্রহণ করতে পারছে। তবে ডিগ্রি (পাস) কোর্স গুলোর পরিক্ষার্থিরা এখন গোবিন্দগঞ্জ কেন্দ্রে পরিক্ষা দিচ্ছে। এ সংখ্যা ১০০ জনে উন্নীত হওয়ার পরপরই জনতা মহাবিদ্যালয়ে ডিগ্রি পরিক্ষা কেন্দ্র চালু করা সম্ভব হবে। সূচনা লগ্ন থেকে জনতা মহাবিদ্যালয়ের হাল ধরেছিলাম আমি। আজো একে জড়িয়ে স্বপ্নের জাল বুনা অব্যাহত রয়েছে আমার। আমার এমন স্বপ্ন দেখার মূল ভিত্তি হচ্ছে, আমাদের এলাকা চির সুবিধা বঞ্চিত সুবৃহৎ জনগোষ্ঠির জন্য যুগোপযোগি আলোকোজ্জ্বল জীবনধারায় অবগাহনের সুযোগ তৈরি করে দেয়া। জনতা মহাবিদ্যালয়ে আমরা এর মধ্যে প্রক্রিয়া শুরু করেছি আগামি ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে অনার্স কোর্স চালু করার। এতে প্রথমেই আমরা বিএসএস বিভাগের অর্থনীতি, সমাজবিজ্ঞান ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ের কোর্সগুলো শুরু করার উদ্যেগ গ্রহণ করেছি। অনার্স কলেজ হিসেবে অধিভুক্তির পর ধারাবাহিকভাবে কলা ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখার বিষয়গুলো সংযোজনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখতেও আমরা আগ্রহী। আমাদের এখন বিভিন্ন বিভাগের অন্ততঃ ২০টা বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু করার প্রাক-যোগ্যতা রয়েছে। অন্যদিকে অনার্স অধিভুক্তির চার বৎসর পর থেকে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর মাস্টার্স কোর্স গুলো চালু করা যেতে পারে স্বাভাবিক নিয়মেই। আর এ পর্যায়ে পৌঁছানোর পরই কেবল নিশ্চিত হতে পারে এ পশ্চাদ এলাকার প্রত্যেকটা শিশুকে নিজের এলাকায় অবস্থান করে একেবারে শিশু শ্রেণি থেকে শুরু করে উচ্চ শিক্ষার সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছুনোর চৌহদ্দি। পাশাপাশি অবশ্য আমাদেরকে সারাদেশ ও বিশ্বের সালে তাল মিলিয়ে যথাযথ ও মানসম্মত শিক্ষা লাভের ক্ষেত্রটাও তৈরি করার প্রয়োজন হবে আগামি ২০৩০ সাল পর্যন্ত বেঁধে দেয়া টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা SDG এর সময়কালের মধ্যে। এ ব্যাপারে আমাদের প্রস্তুতির কাজও আমরা ইতোমধ্যে শুরু করেছি। জনতা মহাবিদ্যালয়ের গভর্ণিং কমিটি ২০১৫ সাল থেকেই ICT & QUALITY EDUCATION ENHANCEMENT PROGRAMME শীর্ষক একটা প্রকল্প গ্রহণ করে এর আওতায় শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ প্রদান, অত্যাধুনিক একটা ICT LAB, একটা আধুনিক বিজ্ঞানাগার, প্রিন্টেড বুক সমৃদ্ধ একটা সুবৃহৎ লাইব্রেরি ও একটা মাল্টিপারপাস ডায়নামিক ওয়েবসাইট তৈরি করে নিয়েছে। চলতি ২০১৭ সালের শুরুতে কলেজের পুরো প্রশাসনিক ও একাডেমিক ব্যবস্থাপনা সম্পূর্ণভাবে ডিজিট্যা- লাইজড করা হয়েছে। এর আওতায় কলেজের সব ধরনের কার্যক্রম অনলাইনে সম্পন্ন করা হবে। ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা সংযোগ সহজলভ্য হওয়ার পর পরই কলেজ ক্যাম্পাসকে ওয়াই-ফাই ফ্রি জোনে রূপান্তরিত করা যাবে। নিকট ভবিষ্যতে সবগুলো ক্লাশ রুমকে মাল্টিমিডিয়া ক্লাশ রুমে রূপান্তরিত করারও উদ্যেগ গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া অনলাইনে সহজলভ্য সব ধরনের ই-বুক সংগ্রহে রাখার জন্যে এখন কলেজের ওয়েব সাইটের সাথে সংযুক্ত করে একটা সমৃদ্ধ ভার্চ্যুয়েল লাইব্রেরি গড়ে তোলার কাজও প্রায় সম্পন্ন করা হয়েছে। বিশ্বমানের শিক্ষা লাভ সহ গুণগত ও যুগোপযোগি মান সম্পন্ন শিক্ষার পরিবেশ তৈরির চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় পর্যায়ক্রমে প্রস্তুত হচ্ছে জনতা কলেজের ডিজিটাল ক্যাম্পাস। পাশাপাশি মঈনপুর বহুমুখি উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটিও অনুসরণ করছে জনতা মহাবিদ্যালয়কে। প্রাথমিক বিদ্যালয়টা সম্পূর্ণ সরকারি থাকায় সরকারের নির্ধারিত কর্মসূচি অনুসরণ করেই অগ্রসর হবে সেটা। আমরা আশাবাদি, আমরা স্বপ্নবাজ। আমরা স্বপ্ন দেখি, আমরা স্বপ্ন দেখাতেও আগ্রহী। আমাদের এমন মনোস্পৃহা তৈরি করে দিয়ে গেছেন আমাদের পূর্বসুরিরা। তারা প্রাণান্তকর চেষ্টা চালিয়ে শত প্রতিকূলতা ডিঙিয়েই আমাদের এ বর্তমান অবস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রেখেছিলেন। আর তাদের দেখানো পথেই আজ এগিয়ে যাওয়ার সাহস ও অপ্রতিরোধ্য শক্তি সঞ্চয় করেছি আমরা। (চলবে) 

ফেসবুক মন্তব্য
xxx