নিউজটি পড়া হয়েছে 34

পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ঘুরছে পাঁচ হাজার স্যাটেলাইট।

সিলনিউজ অনলাইন ডেস্ক ::: পৃথিবী কেন্দ্র করে ঘুরছে প্রায় পাঁচ হাজার স্যাটেলাইট। তবে এর মধ্যে কার্যকর স্যাটেলাইটের সংখ্যা দুই হাজারেরও কম। গোয়েন্দা কার্যক্রম থেকে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ- নানা কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে এসব স্যাটেলাইট।

সর্বাধুনিক প্রযুক্তির কৃত্রিম স্যাটেলাইট মানুষের তৈরি অন্যতম জটিল এক যন্ত্র। ১৯৫৭ সালের ৪ অক্টোবর সোভিয়েত ইউনিয়নের পাঠানো স্পুটনিক ওয়ান পৃথিবীর সামনে খুলে দেয় বিস্ময়ের এক নতুন অধ্যায়।

গত শতাব্দীর শীতল যুদ্ধের সময়ে মহাকাশে পাঠানো স্যাটেলাইটের বেশিরভাগ ব্যবহৃত হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি ও সামরিক কাজে। আর এর শুরু ১৯৫৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি। ওইদিন প্রথম স্পাই স্যাটেলাইট ডিসকভারার- ওয়ান কক্ষপথে পাঠায় যুক্তরাষ্ট্র।

১৯৬০ সালের ১ এপ্রিল টাইরস-ওয়ান কক্ষপথে পাঠায় যুক্তরাষ্ট্র। এটি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণে সক্ষম প্রথম স্যাটেলাইট। টাইরস-ওয়ানের পাঠানো ছবি বিশ্লেষণ করে মেঘ সঞ্চারিত হওয়ার প্রক্রিয়া ও ঝড়ের পূর্বাভাস দেয়ার উপায় জানতে পারেন বিজ্ঞানীরা।

ভূতাত্ত্বিক গঠন, ভূমির বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের জন্য বিশেষায়িত স্যাটেলাইটের নাম ল্যান্ডস্যাট। ১৯৭২ সালের ২৩ জুলাই ল্যান্ডস্যাট- ওয়ান উৎক্ষেপণ করে যুক্তরাষ্ট্র। ভূত্বকের চ্যুতিরেখা চিহ্নিত করা থেকে শুরু করে বনভূমি-কৃষিজমির পরিমাপ, নগর মানচিত্র তৈরি- সবকিছুই সম্ভব এই সিরিজের স্যাটেলাইট দিয়ে।

গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম বা জিপিএস হলো বিশেষায়িত বেশকিছু স্যাটেলাইটের এক নেটওয়ার্ক, যার নাম ন্যাভস্টার। এটি পরিচালনা করছে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনী। এ ধরনের প্রথম স্যাটেলাইট ব্লক-ওয়ান কক্ষপথে পাঠানো হয় ১৯৭৮ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি।

বিশ্বের প্রথম যোগাযোগ স্যাটেলাইট ইকো- ওয়ান ১৯৬০ সালের ১২ আগস্ট কক্ষপথে পাঠায় মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। আর তিন বছর পর জিওস্টেশনারি অরবিটে যাওয়া প্রথম যোগাযোগ স্যাটেলাইটের নাম সিনকম- টু। বঙ্গবন্ধু ওয়ানও আধুনিক প্রযুক্তির এক জিওস্টেশনারি যোগাযোগ স্যাটেলাইট, যা ঘুরবে পৃথিবী থেকে ৩৬ হাজার কিলোমিটার দূরের কক্ষপথে।

জাতিসঙ্ঘের গত বছরের আগস্ট মাসের তথ্য অনুযায়ী, ৪ হাজার ৬৩৫টি স্যাটেলাইট রয়েছে কক্ষপথে। এর মধ্যে ১ হাজার ৭৩৮টি স্যাটেলাইট কার্যকর, বাকি সবগুলোই অকেজো বা ধ্বংসাবশেষ।

সবশেষ হিসাব অনুযায়ী, সক্রিয় স্যাটেলাইটের ৭৮৮টি বাণিজ্যিকভাবে, ৪৬১টি সরকারি কাজে, ৩৬০টি সামরিক প্রয়োজনে এবং ১২৯টি বেসামরিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। আর সবচেয়ে বেশি ৮০৩টির মালিক যুক্তরাষ্ট্র, দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা চীনের রয়েছে ২০৪টি, এরপর রাশিয়ার আছে ১৪২টি স্যাটেলাইট।

সুত্র: ইন্ডিপেনডেন্ট টিভি

ফেসবুক মন্তব্য