নিউজটি পড়া হয়েছে 425

সিলেট সদরে স্বল্পমূল্যে কৃষিকাজে আধুনিক যন্ত্রপাতি পেয়ে স্বাবলম্বী কৃষকরা।

মো. মতিউর রহমানঃ- সিলেট সদরে কৃষকরা দিন দিন কৃষিকাজে আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। ধান কাটার মেশিন থেকে শুরু করে মাড়াই করা, বীজবুনা, চারা রোপন করা সহ আধুনিক সব যন্ত্রপাতি মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রয়েছে, দিন দিন এসব আধুনিক যন্ত্রপাতির দিখে ঝুকছেন কৃষকরা।সব ধরণের কৃষি উপকরণে সরকার ৭০ ভাগ ভর্তুকি দেওয়ায় ফলে সহজে যন্ত্রাপাতি নিতে পারছেন কৃষকরা।কম মুল্যে যন্ত্রপাতি সহজে পাওয়ায় নিম্ন মুখি কৃষকরা কৃষিকাজে আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারে এগিয়ে এসেছেন। বর্তমান সরকার বিভিন্ন উন্নত যন্ত্রপাতি আবিষ্কার করায় বর্তমানে কৃষকরা এই সব যন্ত্রপাতি ব্যবহারে এগিয়ে এসেছেন। কৃষি অফিস জানিয়েছে প্রতিটি নিম্ন মুখি কৃষকদের জন্য বিনামূল্যে ৪০ কেজি সার ৫ কেজি করে ধানের বীজ ও নগদ টাকা সহ বিভিন্ন উপকরণ বিনা মুল্যে বিতরণ করা হচ্ছে। সরোজমিনে সিলেট সদর উপজেলার শেষ প্রান্তে ঝিলকার হাওরে গিয়ে দেখা মিলে কৃষি অফিসার মোছা. কোহিনূর বেগম, উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নাদিয়া বেগম ও কামরুন নাহার, তারা পাকা ধান দ্রুত কাটতে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন। প্রতিদিন মাঠে ঘুরে কৃষি কর্মকর্তাররা তথ্য সংগ্রহ করছেন। কৃষকরা জানিয়েছেন বিগত বছর গুলোতে শ্রমিক দিয়ে পাকা ধান কাটানো খুবই কষ্টকর সময় মত শ্রমিক পাওয়া যেতনা। কিন্তু বর্তমানে ঝিলকার হাওরের চিত্র দেখা গেল ভিন্ন রকম, কম্বাইন্ড হারভেস্টার নামের ধান কাটার মেশিন এর উপর নির্ভরশীল হয়ে চলছে পুরু হাওরের ধান কাটা। এ মেশিন দিয়ে সহজে মাত্র দুই জন শ্রমিক দিয়ে ধান কেটে মাড়াই করে বস্তা বন্ধী করা যায়। প্রতিদিন একটি কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন দিয়ে প্রায় ১২ বিঘা জমির ধান কাটা সম্ভব। যেখানে ১২ বিঘা জমির ধান কাটতে প্রায় ৬০ জন শ্রমিকের প্রয়োজন হতো। সদর উপজেলার কৃষি অফিসার জানিয়েছেন সদর উপজেলার আওতাধীন হাওরগুলোর ধান কাটা শেষ পর্যায়ে রয়েছে, ঝিলকার হাওর, হাফারু হাওর, মেলান বিল, চেপ্টার বিল, চাতল হাওর, বাওয়ারকান্দি ও কুমার হাওর সহ ঐসব এলাকার প্রায় ৯৮ ভাগ ধান কাটা শেষ হয়েছে। কৃষকদের সাথে আলাপ কালে তারা জানিয়েছেন, সল্প মুল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি পেয়ে তারা সত্যিই আনন্দিত, এ ধরণের মেশিন দিয়ে বেশি কাজ করা যায়। কৃষকরা বিনামূল্যে সার বীজ ও বিভিন্ন উপকরণ কৃষি অফিস থেকে পাচ্ছেন। পূর্ব পুরুষদের রেখে যাওয়া ৩ শত বিঘা জমির মালিক ৭নং মোগলাগাও ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের মেম্বার মো. আশিক মিয়া জানান, আমরা আধুনিক যন্ত্রপাতি পেয়ে কৃষিকাজে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে, এখন কৃষিকাজে কোন শ্রমিক পাওয়া যায়না, এখন নতুন নতুন আধুনিক যন্ত্রপাতি পেয়ে শ্রমিক ছাড়া কাজ করা যায়, আগে আমি আমার ৩ শত বিঘা জমির কৃষি কাজ করতে শ্রমিকের অভাবে হিমশিম খেতাম, আর এখন মেশিন দিয়ে সব কাজ সহজে করা যায়। এই এলাকার মানুষ একটি মেশিন দিয়ে সহজে ধান কাটা, মাড়াই সহ বস্তাবন্ধী করা যায়। এই সরকার ভর্তুকি দিয়ে মেশিন এলাকার কৃষকদের দেওয়ায় কৃষিকাজে কৃষকরা সহজেই করতে পারছে। এর ফলে কৃষি কাজে আমাদের ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে।

যেসব কৃষি যন্ত্রপাতি ভর্তুকিতে দেওয়া হয় এগুলোর মধ্যে রয়েছে, কম্বাইন্ড হারভেস্টার, পাওয়ার থ্রেসার ও রিপারসিডার, রাইস ট্রান্স প্লান্টার। সিলেট সদর উপজেলার কৃষি অফিসার মোছা. কোহিনূর বেগম জানান, আমাদের দেশ কৃষি নির্ভরশীল দেশ, কৃষক বাচলে দেশ বাঁচবে এই শ্লোগানের সত্যতা উবলব্ধি করে বলেই সরকার কৃষকদের কৃষিকাজের উন্নয়নে বেশ কিছু পদক্ষেপ হাতে নেওয়া হয়েছে। আমার অফিস থেকে কৃষকদের সাথে প্রতিদিন যোগাযোগ অব্যাহত রাখছি, আমি সময় পেলেই মাঠে চলে যাই। সরকার প্রতিটি আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতির উপর ৭০% ভর্তুকি দিচ্ছে, যেমন কম্বাইন্ড হারভেস্টার, পাওয়ার থ্রেসার, রিপার, সিডার, রাইস ট্রান্স প্লান্টার, এই সব মেশিন গুলো সাধারণ কৃষক সহজে ভর্তুকিতে কিনতে পারছে। আগের তুলনায় এখন প্রতিটি কৃষক আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারে এগিয়ে এসেছে। দিন দিন এসব যন্ত্রপাতির চাহিদা বেড়েই যাচ্ছে। প্রতিটি গরিব অসহায় কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ, সার নগদ টাকা সহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণ দেওয়া হচ্ছে। যাতে করে কোন কৃষক কৃষি কাজ থেকে ঝড়ে না পড়ে। আমরা কৃষকদের উদ্বোদ করতে সরকারী খরছে বিভিন্ন পদর্শনী প্লট করি, তাদের মধ্যে সব ধরণের ধান, ভুট্রা চাষ, করলা, ডেরস, নতুন জাতের বিটি বেগুন, লতিরাজু কছু, মিষ্টি কুমড়া। আমাদের মুল লক্ষ হচ্ছে কৃষকদের কৃষি কাজে ফিরিয়ে আনা। সিলেট সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আশফাক আহমদের সাথে আলাপ কালে তিনি জানান, কৃষি বান্ধব সরকার কৃষকদের ভাগ্য উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে, কৃষকদের কৃষিকাজে মনোযোগী করতে বিভিন্ন ভাবে সহায়তা করে যাচ্ছে, এ উপজেলা থেকে সাধ্য মত কৃষকদের সব ধরণের সাহায্য করা হচ্ছে। ভর্তুকিতে যন্ত্রপাতি কৃষকদের দেওয়া এটা নজির স্থাপন করেছে সরকার, কোন সময় কৃষি যন্ত্রপাতির উপর এত ভর্তুকি দেওয়া হত না। বর্তমানে শেখ হাসিনার কৃষি বান্ধব সরকারই একমাত্র আধুনিক যন্ত্রপাতিতে বিশাল ভর্তুকি দিয়ে কৃষকদের পাশে এসে দাড়িয়েছে। কৃষকরা এসব আধুনিক যন্ত্রপাতি পেয়ে কৃষি কাজে অনেক পরিবর্তন এসেছে।উন্নতমানের বীজ আবিষ্কারের ফলে আগের তুলনায় কৃষি জমিতে এখন অনেক বেশি ধান পাওয়া যায়। কৃষকদের যে কোন সমস্যা লাঘব করতে কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে রয়েছে।ব্যাপক আকারে আরো বেশি আধুনিক কৃষি উপকরণ কৃষকদের হাতে পৌছে দিতে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

ফেসবুক মন্তব্য
xxx