নিউজটি পড়া হয়েছে 120

সংবাদ সম্মেলনের পরেই খোঁজ মিললো নিখোঁজ তাজিমের

নিজেস্ব প্রতিবেদকঃ মেহেদী হাসান তাজিম নিখোঁজের ঘটনায় জামরুল ইসলাম লিটনের সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করে  সিলেট প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন লিটনের  স্ত্রী নগরীর সুবিদবাজার বনকলাপাড়া এলাকার আসমা বেগম।

গতকাল শনিবার সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন তিনি। তিনি আরো দাবি করেন শুধুমাত্র হয়রানির উদ্দেশ্যেই তার স্বামী লিটনকে এ মামলায় জড়ানো হয়ছে।

লিখিত বক্তব্যে আসমা বেগম বলেন, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি গোয়াবাড়ি এলাকা থেকে মেহেদী হাসান তাজিম (১২) নামের এক কিশোর নিখোঁজের ঘটনায় তাজিমের মা রোকেয়া বেগম জালালাবাদ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। নিখোঁজের একমাস পর ১৭ মার্চ দেয়া অভিযোগে (নং ১৪) রোকেয়া বেগম তার মেয়ে সাবিকুন নাহার তানিয়ার তালাকপ্রাপ্ত স্বামী দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার দুর্গাপাশা গ্রামের মৃত জহুর আলীর পুত্র মো. আতাউর রহমানকে প্রধান আসামি করেন। ওই অভিযোগপত্রে ৪নং আসামির নাম মো. লিটন উল্লেখ করা হয়। পিতা এবং ঠিকানা অজ্ঞাত রাখা হয়। আসমা বেগম বলেন, গত ১৯ মার্চ রাতে সুবিদবাজার রাজু রেস্টুরেন্ট থেকে চা পানরত অবস্থায় তার স্বামীকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। ঘটনার সাথে কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা না থাকা সত্ত্বেও তার স্বামী দেড়মাস যাবত এ মামলায় জেলহাজতে রয়েছেন। তিনি বলেন, তার স্বামী লিটন স্নাতক পাশ করার পর গাড়ি চালাতেন। বর্তমানে তাদের নিজস্ব গাড়ি চালান লিটন। তাজিম নিখোঁজের ঘটনার সাথে তার স্বামীর কোনো অবস্থায় জড়িত নয়। সুবিদবাজারের স্ট্যান্ডের সবাই তার স্বামী সম্পর্কে অবগত রয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে আসমা বেগম লিখিত বক্তব্যে প্রশ্ন তুলেন তাজিম নিখোঁজের মামলার ৪নং আসামির নাম মোঃ লিটন। পিতা ও ঠিকানা অজ্ঞাত। সেখানে কিভাবে তার স্বামী জামরুল ইসলাম লিটনকে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। তাজিম ফিরে আসুক তিনিও চান। বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যোগে মোবাইল ট্র্যাকিং করে ঘটনার রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব উল্লেখ করে মামলায় উল্লেখিত মোবাইল নম্বরগুলোর সাথে তার স্বামীর কোনো সম্পৃক্ততা আছে কি না সেটাও বের করার দাবি জানান তিনি। তিনি বলেন, কেউ অপরাধী কি না তা নিশ্চিত না হয়ে মানব বন্ধনের মাধ্যমে শাস্তি দাবি করা কতটুকু যৌক্তিক? যেহেতু মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার আছে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেও তার সাথে কেউ জড়িত আছে কি না কিংবা মূল ঘটনা কি সেটাও জানা সম্ভব। পুলিশ এসব না করে তার নিরপরাধ স্বামীকে কেনো হয়রানি করছে তা বোধগম্য নয়। তিনি দাবি করেন, তার স্বামী লিটনের বিরুদ্ধে কোথাও কোনো অভিযোগ নেই। সংবাদ সম্মেলনে আসমা বেগম সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে ঘটনার রহস্য বের করে তার স্বামী জামরুল ইসলাম লিটনের মুক্তি দাবি করেন। এ সময় তার শিশুপুত্র আলভী ও মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুছ ছালাম উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলন বিভিন্ন গনমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর আজ নিখোঁজ মেহেদী হাসান তাজিমকে তার গোয়াবাড়ির বাসা থেকে উদ্ধার করে জালালাবাদ থানা পুলিশ।জালালাবাদ থানার ওসি শফিকুল ইসলামের সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।এবং বিস্তারিত পরে জানানো হবে বলে জানান।

 

ফেসবুক মন্তব্য