নিউজটি পড়া হয়েছে 70

সারাদেশে বজ্রপাতে ১৪ জনের মৃত্যু

সিলনিউজ অনলাইন ডেস্কঃ সারাদেশে বজ্রপাতে পিতা-পুত্রসহ ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। আজ রবিবার ভোর থেকে বিকাল পর্যন্ত বজ্রপাতে সিরাজগঞ্জে পাঁচ জন, মাগুরায় তিন জন, নোয়াখালী, গাজীপুর, নওগাঁ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, রাঙামাটি ও সুনামগঞ্জে এক জন করে মৃত্যুবরণ করেন।

সিরাজগঞ্জ : কাজিপুর, শাহজাদপুর ও কামারখন্দ উপজেলায় বজ্রপাতে পিতা-পুত্র ও কলেজ ছাত্রসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। আজ রবিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলার এ সকল উপজেলায় এ ঘটনাগুলি ঘটে। এ ঘটনায় আরো দুই জন আহত হয়েছে।

কাজিপুরের তেকানী চরে বজ্রপাতে পিতা ও পুত্র নিহত হয়েছে। নিহতদের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা জানায়, কাজিপুর উপজেলার তেকানী চরে সকালে সামছুল হক ও তার ছেলে আরফান (১৪) বাদাম ক্ষেতে কাজ করতে যায়। সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে হঠাৎ প্রচণ্ড ঝড়ের সময় বজ্রপাতে পিতা ও পুত্র ঘটনাস্থলেই নিহত হয়।

এদিকে শাহজাদপুর উপজেলায় বৃষ্টির সময় নাবিল খান (১৭) ও পলিং (১৭) নামের দুই যুবক উপজেলা ভূমি অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় বজ্রপাতে তাদের শরীর ঝলসে যায়। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে পোতাজিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

অপর দিকে উপজেলার বাজার অঞ্চলে বজ্রপাতে রিয়াজ হোসেন (১৮) ও সাব্বির আহত হয়েছে। আহত ও নিহতদের বাড়ি উপজেলার ছয়আনা গ্রামে।

অপর দিকে কামারখন্দের বেলা সাড়ে ১০টার দিকে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে আব্দুল কাদের (৩৭) নামের এক কৃষক নিহত হয়। সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে উপজেলার পুস্কুরিকুড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘট। নিহত কাদের হাসান উপজেলার জামতৈল ইউনিয়নের পুস্কুরিকুড়া গ্রামের মৃত আহের মন্ডলের ছেলে।

মাগুরা : পৃথক বজ্রপাতে তিনজন নিহত হয়েছেন। আজ রবিবার দুপুরে সদর উপজেলার অক্কুর পাড়া, রায়গ্রাম ও শালিখা উপজেলার বুনাগাতী গ্রামে বৃষ্টিপাতের সময় এ ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে সদর থানার এসআই আশরাফ হোসেন জানান, সদর উপজেলার অক্কুর পাড়ায় বজ্রপাতে নিহত ব্যক্তির নাম শামীম হোসেন (৪০)। তিনি পেশায় ভ্যান চালক। বজ্রপাতের সময় তিনি ভ্যান চালিয়ে মাগুরা থেকে শ্রীপুরের দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে কামারবাড়ি এলাকায় তিনি বজ্রপাতের শিকার হন।  

তিনি আরো জানান, সদরের রায়গ্রামে বজ্রপাতে নিহত অপর ব্যক্তির নাম আলম মিয়া (৩৫)। তিনি সদর উপজেলার বুলুগ্রামের আব্দুর রশিদের পুত্র। মাগুরা শহর থেকে বাড়ি ফেরার সময় তিনি বজ্রপাতের শিকার হন। অন্যদিকে শালিখা উপজেলার বুনাগাতী  এলাকায় একটি মোবাইল টাওয়ারে কাজ করার সময় মেহেদী  হোসেন (২৫) নামে এক যুবক বজ্রপাতের শিকার হন। পরে তাকে মাগুরা সদর হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তিনি জয়পুরহাট জেলার মনপুরা এলাকার আলম মিয়ার পুত্র।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া : আখাউড়া উপজেলায় ধান কাটার সময় বজ্রপাতে আব্দুর রহিম (৫০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের দরুইন গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। রহিমের বাড়ি মৌলভীবাজার জেলায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নোয়াখালী : সদর উপজেলায় স্কুল বন্ধ থাকায় সহপাঠীদের সঙ্গে ফুটবল খেলতে গিয়ে বজ্রাঘাতে পিয়াল (১৩) নামের এক ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। আজ রবিবার দুপুর ১২টার দিকে নোয়াখালী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষ্মীনারায়ণপুর গ্রামের বশিরার দোকানের পার্শ্ববর্তী একটি খেলার মাঠে এ বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে।

নওগাঁ : সাপাহারে বজ্রপাতে সোনাভান (২২) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তার স্বামীসহ আরো তিনজন আহত হয়েছেন। দুপুরে উপজেলার রামাশ্রম গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

গাজীপুর : কালিয়াকৈর উপজেলার মাটিকাটা এলাকায় বজ্রপাতে জাফরুল ইসলাম (২০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো পাঁচজন। তারা হলেন-শৌরভ, মনি সামান্ত, লতা, আলেয়া ও তাপসি। সকাল ৮টার দিকে মাটিকাটা এলাকায় ইনক্রেডিবল ফ্যাশন লিমিটেড কারখানার সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। জাফরুল গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থানার হরিনাথপুর এলাকার মো. আব্বাস আলীর ছেলে। তিনি ওই কারখানার চেকম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

রাঙামাটি : রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় বজ্রপাতে মানছুরা বেগম (৩৫) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। দুপুরে উপজেলার মারিশ্যা ইউনিয়নের মুসলিম ব্লক এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। মানছুরা ওই এলাকার অছির আহম্মেদের স্ত্রী।

সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামে বজ্রপাতে ললিত মিয়া (৩০) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। আজ রবিবার সকালে বাড়ির পাশের হাওরে কাজ করার সময় বজ্রাঘাতে মারা যান তিনি। ললিত মিয়া সৈয়দপুর গ্রামের গ্রামরে মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান মিয়ার ছেলে।

ফেসবুক মন্তব্য
xxx