২২ কোটি টাকা ব্যয়ে ধোপাদিঘীর সৌন্দর্যবর্ধন করছে’ সিসিক

সিলনিউজ২৪.কমঃ প্রায় ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে সিলেট নগরীর ধোপাদিঘীর  ‘সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ’ হাতে নিয়েছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)।নোংরা দুর্গন্ধময় পরিত্যক্ত এই দিঘীকে নান্দনিক সৌন্দর্য্যে রূপ দেওয়ার জন্যই সৌন্দয্যবর্ধনের কাজ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সিটি কর্পোরেশন সূত্র।

ধোপাদিঘীর ক্ষতি করে সৌন্দর্যবর্ধন করা হচ্ছে-গণমাধ্যমে এমন সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে সিলেট সিটি করপোরেশন। সমালোচনার মুখে সোমবার বিকেলে গণমাধ্যমে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়েছে সিসিক। সেখানে ধোপাদিঘীর সৌন্দর্যবর্ধন সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

সিটি করপোরেশন জানায়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে সিলেট মহানগরীর ধোপাদিঘীরপাড়ে অবস্থিত ধোপাদিঘীতে সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পের কাজ শুরু করেছে সিলেট সিটি করপোরশন। ভারতীয় সরকারের অনুদানে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পে মোট ব্যয় হবে ২১ কোটি ৮৫ লক্ষ ৬০ হাজার ৫শ’ টাকা।

এই প্রকল্পের আওতায় বর্তমানে দিঘীর খননকাজ শুর হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে দিঘীর চারদিকে ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হবে, বসার জন্য থাকবে বেঞ্চ, শিশুদের জন্য রাইডের জায়গা থাকবে, পুকুরে নামার জন্য থাকবে দুটি দৃষ্টিনন্দন ঘাট, পুকুরের নোংরা পানিকে পরিষ্কার করা হবে এবং সেই সাথে পুকুরে থাকবে প্যাডেল বোট, বৃক্ষপ্রেমীদের পরামর্শে সুদৃশ্যভাবে লাগানো হবে সবুজ বৃক্ষ, পুকুরের মধ্যখানে থাকবে নৌকার আদলে ভাসমান রেস্তোরাঁ।

এই প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ করা হবে একাধিক টয়লেট। এসব টয়লেট ও বর্জ্যের ব্যবস্থাপনার জন্য থাকবে আলাদা পাইপলাইন, যা পুকুরের পানির সাথে সংযুক্ত থাকবে না। সবার জন্য উন্মুক্ত এই জায়গাটির প্রবেশপথ থাকবে সিটি করপোরেশনের মসজিদের উত্তরপাশ দিয়ে এবং নগরবাসী সকাল, বিকেল কিংবা সন্ধ্যায় যাতে এখানে এসে হাঁটতে পারেন সে সুযোগ থাকার পাশাপাশি রাতের বেলা থাকবে আলোর ব্যবস্থা।

সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল শাখা জানায়, বর্তমানে ধোপাদিঘীটির আকার অনেক বড় থাকলেও দীর্ঘদিন থেকে আশেপাশের দোকানপাট গড়ে তোলার মাধ্যমে অনেকে এই দিঘীর জায়গাও অবৈধভাবে দখল করে আছেন। এই প্রকল্পের আওতায় এসব অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করে দিঘীতে পুরাতন অবয়বে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। 

সিসিকের নির্বাহী প্রকৌশলী আলী আকবর বলেন, ‘ভারতীয় সরকার যে তিনটি প্রকল্পে বরাদ্দ দিয়েছে তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ধোপাদিঘীরপাড় প্রকল্প। পরিবেশের উন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়েই সকল মন্ত্রণাালয়ের যাচাইবাছাই করে এই প্রকল্প অনুমোদন করেছে। চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই এই প্রকল্পের কাজ শেষ হলে এই এলাকার চেহারার আমূল পরিবর্তন হবে। নির্মল পরিবেশে কিছুটা সময় ব্যয় করার জন্য এই স্থানটি মহানগরবাসীর জন্য একটি আদর্শ জায়গা হয়ে উঠবে।’

এ ব্যাপারে সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘দীর্ঘদিন থেকে আমার একটি স্বপ্ন ছিল সিলেট মহানগরবাসীর হাঁটাচলার জন্য একটি নির্মল পরিবেশময় স্থান গড়ে তোলা, যেখানে নগরবাসী কিছুটা সময় নিরিবিলি প্রাকৃতিক পরিবেশে উপভোগ করবেন। ধোপাদিঘীকে কেন্দ্র করে এই রকম একটি আবহ তৈরী করা হচ্ছে।’

মেয়র আরিফ আরো বলেন, ‘আমি বিনয়ের সাথে সবাইকে আহবান জানাচ্ছি, যে কেউ বর্তমান দিঘীটির করুণ চিত্র গিয়ে দেখে আসতে পারেন। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে দিঘীটির পানি নোংরা হয়ে গেছে, চারিদিকে ময়লা আবর্জনার জঞ্জাল যা মশা তৈরীসহ পরিবেশ দূষণের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ‘দিঘীর সাথে আশেপাশের বিভিন্ন দোকানপাটের টয়লেটের সরাসরি সংযোগ দেওয়ার কারণে দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে বাস্তবায়িত প্রকল্পের মাধ্যমে এসব অপসারণ করা হবে, অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করা হবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পরিত্যক্ত এই দিঘীটির পুনরুজ্জীবন হবে বলেই আমি মনে করি।’

‘দিঘীর আকার কমবে না, বরং বাড়বে’ উল্লেখ করে মেয়র বলেন, ‘বর্তমানে ‘দিঘীটির মধ্যে পানির চারিধার আছে ৩.৪১ একর। দিঘীর দখলকৃত জায়গা উদ্ধারের পর প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে দিঘীর পানির চারিধার বৃদ্ধি পেয়ে কমপক্ষে ৩.৭৫ একরে উন্নীত হবে।’

ফেসবুক মন্তব্য