রনি গুন্ডা নাকি হিরো?

চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি ভাইকে কিছুদিন পুর্বে বিজ্ঞান কলেজের অধ্যক্ষকে চড় মারার পরে প্রথমে আমিও খারাপ বা গুন্ডা বলে সম্বোধন করেছি। এখন কিছু প্রমাণ হাতে পেয়ে, নিজের চোখে দেখে সেই ভূল ভেঙে গেছে। আমি কখনই নিজের দোষ অস্বীকার বা লুকানোর চেষ্ঠা করিনা। আমরা ছাত্রলীগ কর্মীরাও মানুষ, কোন ভীনগ্রহ থেকে আসা এলিয়েন নয়। মানুষ ভূল করবে সেটা স্বাভাবিক। এখন আমি সংক্ষেপে রনি ভাইয়ের আলোচিত দুটি ঘটনা বিশ্লেষন করবো।

ঘটনা-১ঃ বিজ্ঞান কলেজের অধ্যক্ষ’কে পিটিয়ে উনি ভূল করেছেন সেটা আমি স্বীকার করছি। ভূলটা ছিলো আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া। তবে আমি মনে করি মাঝেমধ্য এরকম আইন নিজের হাতে তুলে না নিলে অন্যায়কারীদের সঠিক বিচার হয় না।
কলেজ কতৃপক্ষ প্রথমে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অনৈতিকভাবে প্রচুর পরিমাণে ফি আদায় করে। রনি সেই অভিযোগ পেয়ে প্রতিবাদ করলে তারা ন্যায্য ফি রেখে বাকি টাকা ফেরত দিতে রাজী হয়। প্রথম দফায় কিছু টাকা ফেরত দিলেও পরবর্তীতে অধ্যক্ষ নোটিশ দেয় টাকা ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এর ফলে রনি ক্ষেপে গিয়ে অধ্যক্ষের গায়ে হাত তুলেন। ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হয়। রনির অঘোচরে টাকা ভাগ-ভাটোয়ারা হয়ে যায়। রনিকে বানানো হয় কালপ্রিট, চাঁদাবাজ। একজন মিডিয়াকর্মী হিসেবে আমি জানি, মিডিয়া চাইলে কি করতে পারে।
আমি আবারো বলছি, ‘রনি’ কলেজের অধ্যক্ষের গায়ে হাত তুলে যথেষ্ট ভুল করেছেন। তার অপরাধকে আমি অস্বীকার করছি না। তবে ভূলে গেলে চলবে না ঘটনার পুর্বেও ঘটনা থাকে। অধ্যক্ষ যদি পরিপূর্ন নির্দোষ হয়ে থাকে তবে তিনি কেনো প্রথমে এককালীন ৫ লক্ষ টাকা ফেরত দিলেন শিক্ষার্থীদের আর কেন-ই বা পরে হঠাৎ নোটিশ দিলেন টাকা ফেরতের প্রক্রিয়া বন্ধ থাকবে?  উনি এতই যদি সাধুবাবা তাহলে কেনো কলেজের শিক্ষার্থীরা এর প্রতিবাদ করলো না?

ঘটনা-২ঃ সম্প্রতি ইউনিএইড নামক একটি কোচিং সেন্টারের এমডি হাসান রাশেদ’কে তার নিজ অফিসকক্ষে চড় থাপ্পড় দিয়েছেন রনি। সিসিটিভির ফুটেজে সেই দৃশ্য দেখাও যায়। ঘটনার পরে তিনি রনির বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকা চাদা হিসেবে দাবী করার মামলা করেন। মামলার এজহারে তিনি উল্লেখ করেন, অনেকদিন থেকে রনি বিভিন্নভাবে ফোনে এবং সরাসরি তার কাছে চাদা দাবী করে। পরে ডেকে নিয়ে মারধোর করে। এবং তার বাসায় এসে নগদ ৩৫ হাজার টাকা ও তার স্ত্রীর পাসপোর্ট নিয়ে যায়।

পয়েন্টঃ
*  এখানে তিনি অফিস কক্ষে মারধোরের কথা উল্লেখ করেননি।
*  তার উল্লেখিত ঘটনার অনেকদিন পরে মামলা করার যে কারন ব্যাখ্যা করেন তা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়।
*  ফোনে যেহেতু চাঁদা দাবী করেছে সেহেতু নিশ্চিতভাবেই প্রমাণ থাকার কথা। কিন্তু তিনি কোন প্রমাণ দিতে পারেন নি। কোন স্ক্রিনশট, কল রেকর্ডিং পর্যন্ত না।

এরপরেও মেনে নিলাম তিনি যা বলছেন সত্য। এবার আসি ঘটনার অন্য প্রান্তে।
রনিও তার ফেসবুক প্রোফাইলে গিয়ে দেখা যায় তিনি ঘটনার পরে কয়েকটি পোষ্ট দিয়েছেন।

*  কেন্দ্রীয় ঘোষণার পূর্বেই তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। সে যদি চাঁদাবাজ হয়েই থাকে তাহলে ত তার ক্ষমতার দরকার। সে কেন স্বেচ্ছায় এই ক্ষমতা ত্যাগ করল? নাকি ধরে নিবো, সে এই পদে থাকলে বিশেষ কোন মহলের স্বার্থসিদ্ধি বাধাগ্রস্ত হচ্ছিলো?
* অপর একটি পোষ্ট এ দেখা যায় রনি একটি পোষ্ট এ অনেকগুলো স্ক্রিনশট দিয়েছেন। স্ক্রিনশটে দেখা যায়, ইউনিএইড এর এমডি বিভিন্ন সময় ব্যবসায়ীক কাজে রনির সাহায্য নিয়েছেন। রনির কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন ঋন হিসেবে। সেগুলো ফেরত দিতে না পারায় সময় চেয়েছেন, ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। ব্যবসায়ীক লাভ-ক্ষতির হিসেব কৌশলে এড়িয়ে গিয়েছেন।

এখন আসি মূলকথায়ঃ
আমি মেনে নিচ্ছি, রনি কোচিং সেন্টারের এমডিকে পিটিয়ে অবশ্যই অন্যায় করেছেন। কিন্তু রনিকে গুন্ডা বলার আগে রনির স্থানে একবার নিজেকে কল্পনা করুন। আপনি আপনার পরিবারের আয়ের উৎস থেকে অনেকগুলো টাকা একজনকে বিশ্বাস করে ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন। আপনি মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। যাকে বিশ্বাস করে টাকা দিলেন, সে আপনার বিশ্বাসের সুযোগ নিলো। আপনাকে ব্যবসায়ের লাভ-ক্ষতি কোন কিছুর-ই হিসেব দিচ্ছেনা। এমনকি টাকা ফেরত ও দিচ্ছেনা। বছরের পর বছর বিভিন্ন অযুহাতে পাশ কাটিয়ে যাচ্ছে। আপনি কি করবেন?
কি ভাবছেন, আপনি হলে অবশ্যই ঝামেলায় যেতেন। তার উপর আপনি যদি আবার একটি ক্ষমতাসীন দলের অনেক বড় পদের কেউ হতেন? তাহলে, রনির বেলায় তাকে গুন্ডা বলছেন কেন?

কতটা সৎসাহসী হলে একজন মহনগরীর সাধারণ সম্পাদক স্বীয় পদ থেকে পদত্যাগ করতে পারে? চিন্তা করেছেন কখনো?

সব ঘটনার পেছনে একটি ঘটনা থাকে। ঘটনা অবশ্য শুরু হয়ে গেছে, কারন আজ দেখলাম রনি’কে শিবিরের সাবেক সদস্য হিসেবে প্রমাণ করার চেষ্টা চলছে। ছাত্রলীগের প্রতি আমার একটা বিতৃষ্ণা এসে গেছে এখন। নিজেকে ছাত্রলীগকর্মী হিসেবে দাবী করতে ভয় হয়। দুঃখিত রনি, আমরা তোমাদের ধরে রাখতে পারি না। আমাদের কারনেই তোমরা হারিয়ে যাও। মাফ করো আমাদের।

পরিশেষেঃ আপনি, আমি খালি চোখে যা দেখি তার বাইরেও অনেক কিছুই ঘটে। আমার আপনার আশেপাশেই এমন অনেক মানুষ আছে যারা আপনার চোখে পীর কিন্তু আড়ালে বিভিন্ন ফুলের মধু খেয়ে বেড়ান।

লেখকঃ ফাহাদ আহমেদ।

(এটি লেখকের সম্পূর্ন ব্যক্তিগত অভিমত।)

ফেসবুক মন্তব্য
xxx