আখলাকুর রহমানের কবিতা ‘দাঁড়িয়ে আছি আসা যাওয়ার পথের ধারে’

দাঁড়িয়ে আছি
আসা যাওয়ার পথের ধারে
—- আখলাকুর রহমান

মাঝে মাঝে শামীমরা এমন হাসি মাখা মুখ নিয়ে
আকস্মিক এ ভাবে এ রকম চলে যায় কেনো ?

কেনো তারা ক্রমধারা ভেঙে ভেঙে ডিঙিয়ে যায় ? 
মানুষ কেনো চলে যায়, বুঝি তা নিজেই সে জানে না
তবে এটা সে জানে একটা নির্দিষ্ট ধারাক্রম ধরেই
এখানে তারা এসেছে মনে এক গভীর বিশ্বাস নিয়ে
মননে সে সব সময় গেঁথে রাখে এক বর্ণিল প্রত্যাশা
যে সারিবদ্ধতা মেনে এসেছে তার অবস্থান থাকবে বহাল।

ভাবি ছেলের কাঁধে বাবার লাশ এটাই তো স্বাভাবিক
কিন্তু বাবার কাঁধে যদি ছেলের মৃতদেহ উঠে পড়ে
তখন পৃথিবী তোলপাড় করা এক ভুমিকম্প কি হয় ?

মানুষ চলে যায় কোথায় এবং তা যায় কেনো ?
সৃষ্টির এ সেরা জীব তার জীবনের অনেক প্রশ্নেরই
উত্তর সে জানে অথচ মরে যাওয়ার কারণটা জানেনা
কেনোই বা চলে যাওয়া এ প্রশ্নের উত্তর রয়ে গেলো অজানা
জীবনের শুরু থেকে শেষ সীমানা অবধি অনেক কিছুই তো
সে জেনে নিয়েছে কেবল জানে না নির্গমণের কারণটা।

হিপনোথেরাপিষ্টরা বলেছেন মানুষ স্পষ্টতই দেখে
চরম অনুভূতি প্রবণ তার আত্মাটা বেরিয়ে ছুটে যাচ্ছে
মায়াময় দেহটাকে কেমন অনাদরে পেছনে ফেলে
যে জীবনটা কেবল পৃথিবীতে আসা যাওয়ার দরজা
তা যেনো আকস্মিক ভাবে বন্ধ হয়ে যায়, তারপর তার
অবিনাশী আত্মাটা এ পরিচিত ঠিকানায় আর ফেরেনা।

মানুষের আত্মা তখন চলে যায় ইল্লিনে বা সিজ্জিনে
শামীমের আত্মা এখন সবুজ পাখি হয়ে উড়ে বেড়াক
সীমানা বিহীন এক আকাশে তারপর যেনো পৌঁছে যায়
নির্বাঁধায় কোনো এক চির শান্তির নীড়ে চিরতরে।

মানুষ পৃথিবীকে দেখতে পায় তার ত্রিমাত্রিক চোখে
তবে বিজ্ঞজনেরা এর সাথেই যোগ করে দিয়েছেন
আরেক চতুর্থ মাত্রা যার নাম হলো সময়ের মাত্রা
বস্তুুগত জগতের চেয়ে মহাজগতের অনেক মাত্রা আছে 
মানুষ কোনোভাবেই তার এই চার মাত্রার মগজ দিয়ে 
ত্রিমাত্রিক ভূবনের অবস্থান থেকে প্যারালাল জগতের
অসংখ্য মাত্রা গুলোকে বুঝে নিতে সক্ষম হয়ে উঠে না
অনেকেই এ কারণে বিশ্বাসবোধকে হারিয়ে বিভ্রান্ত হয়।

আমি কে ? মানুষের এ বোধটা কিন্তু তার উর্বর মস্তিষ্কে
অন্তত কুড়ি ওয়াট শক্তি সঞ্চালন করে দিতে পারে
বায়োসেন্ট্রিজম তত্ত্ব তাই মানুষকে বলেই দেয়
জীবন মৃত্যুর সংখ্যা সে অসীম বলে অবশ্যই তাই
আমার মতো জীবন মৃত্যুর মাঝিমাঝি নিশ্চুপ
এ আসা যাওয়ার পথের ধারা দাঁড়িয়ে থাকা মানুষকে
তা বিশ্বাস করতেই হয় আর তা’কে বুঝতে হয়
তার মস্তিষ্কের অনুরণন শক্তিটাই যে আসল।

কেমন অবস্থায় আছে মানুষের এই বর্তমান ? 
ধরুন আপনি কোথাও যেতে গাড়ি নিয়ে বেরিয়েছেন
পথিমধ্যে অগত্যা গাড়ির একটা চাকা চুপসে গেলো
আপনি সেখানে অসহায়ের মতো ঠায় দাঁড়িয়ে রইলেন
এ দিকে আপনার খোঁজে বাসায় এক স্বজন এসে 
বসে বসে ভাবছেন আপনি এখন গাড়িতে আছেন
আপনার গাড়িটাও রয়েছে নির্দিষ্ট গতিতে চলমান
ভাবুন এ ক্ষেত্রে দু’ জনের দু’ রকম ভাবনার ফলাফল ? 
তা হলো জীবন মৃত্যুর মাঝামাঝি, আর এ ভাবেই
একই ব্যক্তি কারো জীবিত আবার কারো কাছে মৃত ?

শামীমের মা অপেক্ষায় বসে আছেন আর ভাবছেন
তার ছেলে শহরে অসুখের চিকিৎসা করাতে গেছে
চিকিৎসার কাজ শেষ হলেই সে বাড়ি ফিরে আসবে
আর আমরা অন্যেরা নিশ্চিত ভাবে বুঝে নিয়েছি
শামীম গেছে না ফেরার দেশে তাই আর ফিরবে না !

অবিশ্বাসীরা অযথাই দোলাচলে পড়ে ভোগান্তিতে আছে
ঈশ্বর তো মোটিই জোর করে কারো কাছ থেকে 
আনুগত্য আদায় করেন না আর তিনিই তো মানুষকে
পাঁচ পাঁচটা জগত ঘুরে দেখার সুযোগ করেই দিয়েছেন
প্রথমেই সে আত্মার জগত থেকে আসে মাতৃগর্ভে
নির্দিষ্ট সময়ের পর সে চলে আসে এই বস্তুু জগতে
তারপর আচমকাই চলে যায় যবনিকা-পর্দার অন্তরালে
সেখানে এক এক করে যাবতীয় হিসাব নিকাশ 
বুঝিয়ে দেয়ার পরেই না স্থিত হয় এক অনন্ত জগতে ?

এই ঈশ্বর যে ভাবে যীশুকে জীবিত করেন
চল্লিশ দিন ধরে বস্তুু জগতে রেখে যীশুর স্ব-বর্ণনায়
জীবন মৃত্যুর বিবরণ ও প্রমাণ তৈরি করান
ফের তা’কে তার কাছে আকাশে উঠিয়ে নেন
আর মানুষ বহুকাল ধরে যীশুর ফিরে আসার
অপেক্ষায়ই কেবল পথ চেয়ে চেয়ে থাকে
আর মানুষের এ পথ চাওয়া বুঝি সহজে ফুরোয় না ?

হাডসন ব্যান্ড # অস্টিন, টেক্সাস, যুক্তরাষ্ট্র
তারিখঃ ২০ এপ্রিল, ২০১৮ খ্রিস্টাব্দ।

ফেসবুক মন্তব্য