জলকেলি উৎসবে মাতোয়ারা রাখাইন পল্লী

সিলনিউজ অনলাইন ডেস্কঃ ঐতিহ্যবাহী জলকেলি উৎসবে মেতে উঠেছে পর্যটন শহর কক্সবাজারের রাখাইন সম্প্রদায়। এ উৎসবকে ঘিরে রাখাইনদের পাশাপাশি আনন্দ-উল্লাসে মেতেছে দেশি-বিদেশি পর্যটকও। মঙ্গলবার শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী এ উৎসব শেষ হবে বৃহস্পতিবার। ১৩’শ ৮০ রাখাইন বর্ষকে স্বাগত জানাতে বর্ণিল এ আয়োজন পরিণত হয়েছে সার্বজনীন উৎসবে।

কোন ধর্মীয় উৎসব নয়, তবে সামাজিক রীতি অনুযায়ী আনন্দমুখর পরিবেশে ধুমধামের সাথে বর্ণাঢ্য রাখাইন নববর্ষকে বরণ করা হয়। এ উপলক্ষে সবচেয়ে বড় আয়োজনটির নাম ‘জলকেলি’ উৎসব। যার রাখাইন নাম ‘সাংগ্রেং পোয়ে’। রাখাইন সম্প্রদায়ের লোকজনের মতে, এটি শুভ্র ও পবিত্র হওয়ার উৎসব।

প্রতি বছরের মতো এবারও চলছে বর্ণিল আয়োজনে তিন দিনব্যাপী জলকেলি উৎসব। যাকে ঘিরে পর্যটন শহর কক্সবাজারের রাখাইন পল্লীতে তৈরি হয়েছে উৎসবের আমেজ। ছোট-বড় সবাই দল বেঁধে নেচে গেয়ে ঘুরছে রাখাইন পল্লীর এক প্যান্ডেল থেকে অন্য প্যান্ডেলে।

উৎসবে অংশ নেওয়া রাখাইনরা বলেন, ‘আজকের দিন আমাদের নতুন বছরের প্রথম দিন। এ উৎসবের জন্য আমরা প্রতিবছর অধির আগ্রহে অপেক্ষা করে থাকি। আমরা এখানে একে অপরকে পানি মারি।’

শুধু রাখাইন সম্প্রদায়ের মানুষই নন তাদের এই আয়োজনে স্থানীয়দের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি পর্যটকদের পদভারে মুখর রাখাইন পল্লী। তারাও আনন্দ আর উল্লাসে মেতে উঠেছেন এ উৎসবে।

রাখাইন সম্প্রদায়ের নেতা জানালেন, ঐহিত্যকে ধরে রাখার জন্য এ ধরণের আয়োজন। যা এখন সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে।

কক্সবাজারের রাখাইন ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের পরিচালক ক্য থিং অং বলেন, ‘এই উৎসব কক্সবাজারের লোক সংস্কৃতির অংশ হয়ে গেছে। এই উৎসবে আমরা নিজের দেশ ও জাতি, পরিবারের কল্যাণ প্রত্যাশা করে থাকি।’

কক্সবাজার শহরের রাখাইন পল্লীর ২০টি প্যান্ডেল ছাড়াও মহেশখালী, রামু, চকরিয়া ও টেকনাফ উপজেলার ৩০টি প্যান্ডেলে চলছে এ জলকেলি উৎসব।

ফেসবুক মন্তব্য