নিউজটি পড়া হয়েছে 564

একজন স্কুল শিক্ষিকার জনপ্রতিনিধি হওয়ার স্বপ্ন।

উপমহাদেশের বিখ্যাত ভারতীয় বাঙালি ঔপন্যাসিক সমরেশ মজুমদার তার একটি উক্তিতে বলেছিলেন ‘চাকুরী তো সবাই করে কেউ কেউ স্বপ্নটাকে আকঁড়ে ধরে রাখে’। আমাদের সমাজের প্রায় প্রত্যেক মানুষই চাকুরী করেন এবং অধিকাংশ মানুষই জন্মলগ্ন থেকে চাকুরী পাওয়ার নেশায় মত্ত থাকেন। চাকুরী যেন আমাদের সুখের চাবিকাঠি। এটি যেন আমাদের মূল চালিকাশক্তি। এই চাকুরী দিয়েই আমরা কর্মময় জীবনের শুরু করি এবং জীবনের ইতি টানি। জীবন চলার পথে প্রতিটা মানুষের মধ্যে একটা বড় স্বপ্ন কাজ করে। আর এই স্বপ্ন দেখার পালা শুরু হয় what’s your aim in life? অথবা what’s your dream? এই প্রশ্ন দিয়ে। ছোট বেলা থেকেই সবাই ঠিক করে নেয় বড় হয়ে কে কী হবে। কেউ শিক্ষক, কেউ ডাক্তার, কেউ ইঞ্জিনিয়ার, কেউ খেলোয়ার, কেউ অভিনেতা, কেউ মডেলার, কেউ রাজনীতিবিদ, কেউ বিজ্ঞানী, কেউ বড় ব্যবসায়ী আরো কত কী। কেউ লক্ষ্য পূরণ করতে পারে আবার কেউ করতে পারে না। কিন্তুু স্বপ্ন ও লক্ষ্য পূরনের জন্য কাজ করতে হয়। পৃথিবীতে হাজারো সফল মানুষ আছেন যারা নিজেদের স্বপ্ন পূরণের জন্য দুঃখ, কষ্ট,যন্ত্রনা, আলোচনা-সমালোচনা, অপমান সব কিছু নিরবে সহ্য করেছেন। জীবনের তাগিতে হয়তো বিভিন্ন চাকুরী ও পেশার সাথে সম্পৃক্ত হয়েছেন। পরিবারের চাপে ও সামাজিক স্টেটাস রক্ষার্থে হয়তো বা চাকুরীর সাথে আলিঙ্গন করেছেন। কিন্তুু ছোট বেলা যে স্বপ্ন দেখেছিলেন সেই স্বপ্ন থেকে কখনো সরে দাঁড়ান নি। শত শত বাধা- বিপত্তি পেরিয়ে এগিয়ে গেছেন নিজের লক্ষ্য পূরণে। নিজের ভেতরের স্বপ্নটাকে আঁকড়ে ধরেছেন শক্তভাবে। তারা জানতো মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড় হয়। স্বপ্নই তাদেরকে সাফল্যের পথে নিয়ে যায়। আঁকড়ে ধরা স্বপ্নটাই তাদেরকে পৃথিবীতে স্মরণীয় করে রাখবে। ঠিক এমনই একজন স্বপ্ন আঁকড়ে ধরা মানুষের কথা বলবো। যিনি ছোট বেলা থেকেই স্বপ্ন দেখতেন বড় হয়ে তিনি মানুষের কল্যাণে,মানবতার কল্যাণে, সাধারন ও খেটে-খাওয়া পরিশ্রমী মানুষের জন্য কাজ করবেন। তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়াবেন ও দু:খ, কষ্টগুলো ভাগাভাগি করে নিবেন। তিনি হতে চেয়েছিলেন একজন সৎ ও স্বচ্ছ জনপ্রতিনিধি। তাই তো তিনি জীবনের প্রয়োজনে শিক্ষকতার মত মহান পেশার সাথে সম্পৃক্ত হলেও তিনি অন্তরে জনপ্রতিনিধি হওয়ার স্বপ্নটাকে লালন করছেন। তিনি বর্তমানে সিলেট সিটি মডেল স্কুল এন্ড উইমেন্স কলেজে একজন শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত আছেন। শুধু তাই নয় তিনি সামাজিক ও ধর্মীয় বিভিন্ন সংগঠনের সাথে যুক্ত আছেন। তিনি বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন সিলেট সদর উপজেলার মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকার দায়িত্ব পালন করছেন। মানুষের সাথে অান্তরিকতার সম্পর্ক গড়ে তোলাই তার নিরন্তর প্রচেষ্টা। তার চিন্তা -চেতনা,ধ্যান-ধারনা মানুষকে ঘিরে। তিনি ছিলেন রাষ্ট্র বিজ্ঞানের ছাএী। তাই রাষ্ট্র ও জনগন নিয়ে তার কৌতুহল একটু বেশি। দেশ ও মানুষের প্রতি তার প্রচন্ড রকম ভালবাসা কাজ করে। রাষ্ট্র বিজ্ঞান পড়তে গিয়েই মূলত তার জনগনের কাছাকাছি যাওয়ার স্বপ্নটা ঘনীভূত হয়। ছোট বেলার স্বপ্নটাকে পূরণ করার জন্য স্বামীর সহযোগীতায় সিন্ধান্ত নেন জনপ্রতিনিধি হওয়ার। তিনি ২০১৮ সালের সিলেট সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে একজন মহিলা কাউন্সিলর পদপার্থী হিসেবে অংশ গ্রহন করতে চান। তার নির্বাচনী এলাকা ৭,৮,৯ নং ওয়ার্ড। তিন ওয়ার্ডকে নিয়ে তার অনেক পরিকল্পনা রয়েছে। এই ওয়ার্ডগুলোকে তিনি মডেল ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তুলতে চান। গতানুগতিক রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি ওয়ার্ডবাসীর জন্য কাজ করতে চান না। তিনি নিজের সাথে নিজেই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ যে তিনি যা বলবেন তা সম্পূর্ণ পূরণ করার জন্য কাজ করবেন। প্রতিদিন নিজের কাজগুলোকে ছাড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবেন। জনগনের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণই তার চাহিদা। তিনি ওয়ার্ডবাসীকে যা উপহার দিতে চান তা হলো: ১) প্রত্যেক ওয়ার্ডের শিক্ষামূলক কার্যক্রমে সহযোগীতা ও ছিন্নমূল শিশুদের শিক্ষায় সম্পৃক্তকরণ। ২) তিন ওয়ার্ডের প্রতিবন্ধীদের স্বাবলম্বী হতে সহযোগীতা ৩) যুব সমাজকে নেশাগ্রস্থ, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের জীবন থেকে ফিরিয়ে আনার নানা উদ্দীপনামূলক কার্যক্রম গ্রহন ৪) সব ধর্মের ধর্মীয় কাজে সহযোগীতা ৫) খেলাধুলায় অনুপ্রেরণা ও বিভিন্ন টুর্নামেন্টের ব্যবস্থা করা ৬) তিন ওয়ার্ডে সিটি কর্পোরেশনের পাশাপাশি প্রতিনিয়ত নিজ উদ্যোগে পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্নতার কার্যক্রম গ্রহন ৭) সাধারন জনগনের সুবিধার্থে তিন ওয়ার্ডে তিনটি পাবলিক টয়লেট নির্মাণ ৮)বস্তিবাসীসহ অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো। ৯) সাপ্লাইয়ের পানি সরবরাহে নিয়মিত তদারকি ১০। রাস্তা প্রসস্থকরণ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার আরো উন্নয়ন ১১) নারীদের স্বাবলম্বী করতে বিভিন্ন ধরনের হাতের কাজ বিনামূল্যে শিখানোর ব্যবস্থা গ্রহন ১২) অসহায় ও গরীবদের জন্য বিভিন্ন ধরনের ভাতা নিশ্চিতকরণ। তার শয়নে-স্বপনে, চিন্তা-চেতনায় শুধুই কাজ করে জনগনের উন্নয়ন। তিনি মনে করেন, জনগনের সেবা করতে পারলেই দেশের সেবা করা হয়। আর দেশের সেবা মানেই ঈশ্বরের সেবা। তিনি তার জীবনকে জনগন ও মানবতার কল্যানে উৎসর্গ করতে চান। জনগনের ভালবাসা পাওয়াই তার মূল লক্ষ্য। তিনি নিজেকে জনগনের বিশ্বস্ত ও আস্থার মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে চান। ওয়ার্ডবাসী যেন তার কাছে এসে শান্তি পায় ও তাদের কাজগুলো ঝামেলা ছাড়া খুব সহজেই করতে পারে। তিনি একজন নিবেদিত জনপ্রতিনিধি হতে চান। তিনি আশা করেন ওয়ার্ডবাসী তাকে নির্বাচিত করলে তাদের সব দাবি-দাওয়া গুলো পূর্ণ করার চেষ্টা করবেন। তিন ওয়ার্ডকে সিটি কর্পোরেশনের সবচেয়ে সুন্দর ও আধুনিক ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তুলতে চান। স্বপ্নবাজ এই স্কুল শিক্ষিকার নাম শ্যামলী সরকার। তিনি ১৯৮২ সালের ১লা জানুয়ারি সিলেটের এক শিক্ষিত পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন। তিনি রাষ্ট্র বিজ্ঞান থেকে অর্নাস ও মাস্টার’স নিয়ে পড়াশোনা করেন । পারিবারিক জীবনে দুই সন্তান ও স্বামী নিয়ে তার সুখের সংসার। তার স্বামী একজন ব্যবসায়ী। স্বামীর সর্বাত্মক সহযোগীতার কারণেই তার স্বপ্ন পূরনের পথে অগ্রসর হওয়া। ওয়ার্ডবাসীর সহযোগীতায় পূরন হউক তার স্বপ্ন। আর সিটি কর্পোরেশন পাবে একজন শিক্ষিত, মার্জিত, বিনয়ী, সৎ, পরিশ্রমী ও জনগনের কল্যানে নিয়োজিত স্বপ্নবাজ মহিলা কাউন্সিলর। জয় হউক সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের, জয় হউক শ্যামলী সরকারের।
অমিতাভ চক্রবর্ত্তী রনি
লেখক, কলামিস্ট ও সাংবাদিক
১৫ এপ্রিল ২০১৭ 
ফেসবুক মন্তব্য
xxx