স্লোগানটা মনে আছেতো! শিক্ষা শান্তি প্রগতি

আগে ছাত্র তারপর ছাত্রলীগ। কারা আদর্শিক আর কারা পা চাটা তা প্রমাণের এর থেকে ভালো সময় ছাত্রলীগ আগে কখনো পায়নি। বিকালবেলা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে এসে যখন কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে টিয়ার শেল, রাবার বুলেট চালায় পুলিশ তখন শিক্ষার গায়েই বুলেট চালায় তারা। ছাত্র হিসেবে যা মেনে নেওয়াটাই অস্বাভাবিক। তাই স্বাভাবিকভাবেই ছাত্রদের ঢল নামে শাহবাগ ও টিএসসিতে।কারো মদদে কেউ সেখানে গেছে যদি কেউ বলে থাকেন তবে বলি, এখানে কেউ এতটা মেরুদন্ডহীনও নয়। সবাই নিজ পায়েই হেঁটে গিয়েছিলেন তাদের নিজেদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে, যারা লড়ে যাচ্ছেন অন্তত তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য। যার মধ্যে কমপক্ষে ৭০ ভাগ ছেলে ছাত্রলীগের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত এবং ছাত্রলীগের জন্য ঘাম ঝরিয়েছেন এমন সংখ্যা ৮০ ভাগের বেশি ছাড়া কম নয়। সন্ধ্যা থেকে ছাত্রদের এই জমায়েতের উপর কিছুক্ষণ পর পর দফায় দফায় টিয়ার শেল আর রাবার বুলেট ছুঁড়তে থাকে পুলিশ। প্রতিবার বুলেট নিক্ষেপের পর জমায়েত থেকে ৫-৬ জন করে আহত ছাত্রদের কোলে করে, রিক্সায় উঠিয়ে, ধরাধরি করে দৌড়ে ঢাকা মেডিকেলের দিকে ছুটছেন। এরপর ভুল করলো ছাত্ররাও। কয়েকটা গাড়ি ভাংচুর করলো রাস্তায়। এখানে কিছু কুচক্রীর আবির্ভাব ঘটেনি তা বলার সুযোগ নেই। এদের মধ্যেও ডুকে পড়ে সুযোগসন্ধানীরা। কারণ তারপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্নভাবে ছড়িয়ে পড়লো গুজব ‘একজন মারা গেছে’ এবং ‘আমার একভাই শহীদ হয়েছে’ এ ধরণের। স্বাভাবিকভাবেই সত্যতা যাচাই না করেই বেপরোয়া হয়ে গেলো ছাত্ররা। আর ছাত্রী হলের ছাত্রীরাও তখন সচেষ্ট হলের গেট ভেঙ্গে রাস্তায় নেমে আসতে। রোকেয়া হলের মেয়েরা টিয়ার শেলের ঝাঁঝালো ধোঁয়া থেকে নাক, চোখ বাঁচানোর জন্য ছাত্ররা যে আগুনের ধোঁয়া তৈরি করছিল তাতে সাহায্য করার জন্য গেটের ভিতর থেকে পত্রিকার কাগজ ছুঁড়ে দিয়ে ধোঁয়া তৈরির উপকরণ সরবরাহ করলো অনেকক্ষণ। এবং একসময় সব হলের মেয়েরা বের হয়ে গেলো হল থেকে এবং টিএসসি শাহবাগে এসে জড়ো হতে শুরু করলো। এতো কিছুর পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোথায়?  প্রক্টর স্যার ঘটনাস্থলে পুলিশ বেষ্টনীর ভিতর নিরাপদে দাঁড়িয়ে আছেন বলে অভিযোগ করলেন জমায়েতের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অনেকে। প্রশাসনের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলো ছাত্ররা। ভিসির ভবন, রেজিস্টার বিল্ডিং-এ ভাংচুর করলো ছাত্ররা। যার ফলাফল হিসেবে পুলিশের সাথে কিছু শিবির থেকে আগত শ্রেণীর কথিত ছাত্রলীগ যোগ দিলো আন্দোলনরত ছাত্রদের ছত্রভঙ্গ করতে।পুলিশের টিয়ার শেল আর রাবার বুলেটের পাশাপাশি এবার চললো বন্দুকের গুলি। আন্দোলনরত ছাত্ররা পিছু হটতে বাধ্য হলো। অনেকে আটকা পড়লো রেজিস্টার বিল্ডিং-এ, অনেকে টিএসসিতে, অনেকে সেন্ট্রাল ফিল্ডে।মেয়েদেরকে আটকে রাখা হলো টিএসসি ও সেন্ট্রাল ফিল্ডে। একসময় ক্যাম্পাসে লাইট অফ হয়ে গেলো।আবার বুলেটের শব্দ, পুলিশের শো-ডাউন, ছাত্ররা দৌড়ে পালায়, তারপর আবার ঘুরে দাঁড়ায়।এভাবেই চললো সারারাত, ঢাকা মেডিকেলে কমপক্ষে ১৫০ ছাত্র ট্রিটমেন্ট নিয়েছেন। সাবেক হল ছাত্রলীগ নেতাও গুরুতর আহত এবং দু’শোর ছাত্রের বেশি যারা নিজেরা ড্রেসিং করে ব্যথার ওষুধ খেয়ে বিছানায় গিয়েছেন গত ভোরে। তখন যেই কথাগুলো বাতাসে ভাসছিল, কি হচ্ছে এই দেশে? এই জন্যই কি স্বাধীনতার সুফল! এই দেশ আমাদের বাংলাদেশ! এই দেশে থাকবোনা। ভাই, কেন ছাত্রলীগ করি? কেনই বা এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে গর্ব করি? আমাদের ভুললে কি চলে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন আমার বাংলা বৈষম্যের ঠাই নাই। ৫২ ভাষা আন্দোলন, ৬৬ ছয় দফা, ৬৯ গণঅভ্যুত্থান, ৭০ এর সাধারণ নির্বাচন। আমাদের তো এই আন্দোলনগুলোর কথা ভুলে যাওয়ার কথা না। কোন ছাত্র আন্দোলন বিফলে যায়নি, এটা যাতে না যায় সেজন্য ছাত্রলীগ এর গুরু দায়িত্ব কি নয় এই আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ করে শান্ত ও সৃঙ্খলভাবে দেশের এবং বঙ্গবন্ধু কন্যার দেশকে শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালনা করতে সাহায্য করা?

লেখকঃ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

শিক্ষার্থী, সিলেট ল’কলেজ

৯ এপ্রিল ২০১৮

ফেসবুক মন্তব্য
xxx