নবীগঞ্জের টিএমএসএস ম্যানেজার শওকতের খুটির জোর কোথায়? ঘুষ দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের।

স্টাফ রিপোর্টার ॥ নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি বাজারে এনজিও সংস্থা টিএমএসএস ম্যানেজারের ঘুষ দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ঋন প্রদানের জন্য স্বাক্ষরসহ ৩শ টাকার ষ্ট্যাম্প ও রূপালী ব্যাংকের চেক বইয়ের পাতা রেখে ঋন না দিয়ে অফিস থেকে বের করে দেয় এবং জোর করে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়ায় হতাশায় ভুগছেন এক ঋণ গ্রহীতা।

৭/৮ বছর ধরে ঐ এনজিও সংস্থার নিয়মিত গ্রাহক হাওয়ারুন বেগম এর সদস্য পদ জব্ধ করে দেয়া হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। এতে হাওয়ারুন বেগম এর পুত্র তুহিনসহ তার পরিবারবর্গ অজানা আতংকে ভুগছেন। এলাকায় গ্রাহকদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে! অনেকেই বলেছেন, ম্যানেজার শওকত আলীর খুটির জোর কোথায়? নিয়মবর্হিভূত কার্যকলাপ ও তার ঘুষ দুর্নীতির বিরুদ্ধে কেউ কথা বলার সাহস না পেলেও ইদানিং ফুঁসে উঠছেন ভূক্তভূগী গ্রাহকরা।

অভিযোগে জানা যায়, নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের আউশকান্দি গ্রামের ফুরুক মিয়ার পুত্র মোঃ তুহিন আহমদ আউশকান্দি বাজারে গ্রীল ওয়ার্কসপ (রাজা মেটাল) নামীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দীঘদিন ধরে চালিয়ে আসছেন। ইদানিং তার আর্থিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় আউশকান্দিস্থ এনজিও টিএমএসএস সংস্থার ম্যানাজার এর সাথে ঋন আনতে কথা বলেন এবং উক্ত এনজিও সংস্থা কর্তৃপক্ষ তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তদন্ত করে ঋণ দিতে আশ্বাস দেন।

ম্যানেজারের আশ্বাসের ভিত্তিতে ব্যবসার টার্গেট নিয়ে এই এনজিও সংস্থার কর্তৃপক্ষের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করে গত ফেব্রুয়ারী মাসের ১২ তারিখ ঋণ আনতে টিএমএসএস এর অফিসে গেলে আলোচনার এক পর্যায়ে ম্যানেজার শওকত বলেন ১লক্ষ টাকা ঋন নিতে হলে তাকে সেলামী (ঘুষ) অগ্রীম ৫ হাজার টাকা দিতে হবে। অন্যতায় টাকা দেওয়া যাবেনা। ঘুষের টাকা দিয়ে ঋণ নিতে অপারগতা প্রকাশ করে উপস্থিত লোকজনকে ম্যানেজারের ঘুষ দুর্নীতির কথা বলা মাত্রই ম্যানেজারসহ টিএমএসএস এর লোকজন ব্যবসায়ী তুহিনকে নানা মিথ্যা অপবাদ দিয়ে খারাপ আচরন করে অফিস থেকে বের করে দেয়।

এ সময় উপস্থিত গ্রাহকসহ স্থানীয় জনতার মধ্যে চরম হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। এই ঘটনার বিচার চেয়ে তুহিন আহমদ বাদী হয়ে গত মার্চ মাসের ১৩ তারিখ নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্তকতা বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

এ ব্যাপারে তুহিন আহমদ জানান, তাকে ঋনের আশ্বাস দিয়ে তাদের অফিসে নিয়ে ম্যানেজার ১লক্ষ টাকায় ৫ হাজার টাকা ঘুষ চায়। এতে তিনি ঘুষ দিতে অপারগতা প্রকাশ করে স্থানীয় লোকজনকে অবগত করলে সাথে সাথে টিএমএসএস কর্তৃপক্ষ হৈ-হুল্লুড় করে তাদের অফিস থেকে তাকে বের করে দিয়ে নানা ধরনের হুমকি ধামকি দেয়। এক পর্যায়ে খবর পেয়ে ব্যবসায়ী তুহিনের মা টিএমএসএস অফিসে আসলে তাদেরকে ঋন দেবে বলে কৌশলে আশ্বাস দিয়ে তার মায়ের কাছ থেকে সাদা কাগজে দস্তখত রেখে হাওয়ারুন এর নামীয় রূপালী ব্যাংকের ৩ টি তারিখবিহীন খালি চেক পাতায় কৌশলে ফুসলিয়ে স্বাক্ষর নেয়।

এই মহিলা গ্রাহকের নামে ৭/৮ বছর যাবৎ ঐ এনজিও সংস্থায় একটি সঞ্চয়ী বীমা ছিল, সেই বীমা একাউন্টটিও বাতিল করে দেয় এবং ঋণ দেওয়ার নাম করে দেই দিচ্ছি বলে ৩ থেকে ৪ মাস অতিবাহিত করায় ব্যবসায়ী তুহিন অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন।

এ ব্যাপারে ম্যানেজার শওকত আলীর মোবাইল নং ০১৭২৩৩২৫৬২২ নাম্বারে যোগাযোগ করা হলে ম্যানেজার এ ব্যাপারে কোন তথ্য না দিয়ে বলেন, তুহিনকে নিয়ে আমার অফিসে চলে আসুন। এক পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয়া হয়েছে বলা হলে তিনি এ প্রতিনিধিকে বলেন, আউশকান্দি বাজারে এত সব লোক থাকতে আপনার কাছে যায় কেন? এ ব্যাপারে উপজেলা অফিস আমাকে চিঠি দিলে আমি তার উত্তর দেব আপনাকে নয়।

এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌহিদ বিন হাসান এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা এনামুল কবিরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অপরাধী যে হোক না কেন তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।

অনুসন্ধানে আরো জানাযায়, টিএমএসএস আউশকান্দির ঐ শাখায় এই দুর্নীতিবাজ ম্যানেজারের কারণে অনেকেই বর্তমানে ঋন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অপর দিকে গ্রাহকরা এক দিকে দিচ্ছেন ঋণের সুদ অন্য দিকে ম্যানেজারকে দিতে হচ্ছে মোটা অংকের ঘুষ।

অভিযোগকারী তুহিন বলেন, ম্যানেজারকে ঘুষ দেবো না তার প্রতিষ্ঠানকে ঋণের সুদ দেবো? এ যেন মরার উপর খাড়ার ঘা! এলাকার চিহ্নিত অনেক খারাপ লোকদের সাথে ম্যানেজারের সু-সম্পর্ক থাকায় তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে গেলে ঐ খারাপ লোকেরা এসে ম্যানেজারের পক্ষ জড়িয়ে পড়ে এবং যারা তাকে নিরবে ঘুষ দেয় তারাই ঋণ পায়।

বর্তমানে টিএমএসএস আউশকান্দি শাখার এই ম্যানেজার এর বিরুদ্ধে এলাকায় প্রতিবাদের ঝড় বইছে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই দূনীতিপরায়ন ম্যানাজার শওকতের বিরোদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জোর দাবী জানাচ্ছেন এলাকার সচেতন মহল।

সিলনিউজ/ন/প/৬এপ্রিল

ফেসবুক মন্তব্য
xxx