জগন্নাথপুরে হাওরে ধান কাঁটার শুরু।কৃষকদের মূখে হাসির ঝিঁলিক

Tramadol Online Buy http://approaches.gr/volume-6-2-2014 বিপ্লব দেব নাথ,জগন্নাথপুর(সুনামগঞ্জ)প্রতিনিধি: জগন্নাথপুরে চলতি বোরো মৌসুমে হাওরে ধান কাঁটার ধুম পড়েছে। ফলে কৃষক কৃষানীদের মনে আনন্দের দোলা দেখা দিয়েছে। বিগত ২টি মৌসুমে শিলা বৃষ্টিতে ও আগাম বন্যায় হাওরের ফসল রক্ষা বাধ ভেঙ্গে কাঁচা ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় উপজেলার সবক’টি হাওর থেকে কৃষকরা এক মুঠো ধান গোলায় তুলতে না পারলেও চলতি বোরো মৌসুমে হাওরে বাম্পার ফসল হওয়ায় এবার কৃষক কৃষানীদের মধ্যে হাসির ঝিলিক দেখা দিয়েছে ।

Tramadol Mastercard

http://cica.org.ck/wp-cron.php?doing_wp_cron=1562059866.6760630607604980468750 গত বোরো মৌসুমের শুরুতে ২০১৭ সালের ২এপ্রিল পাহাড়ী ঢল ও আগাম বন্যায় উপজেলার সবকটি হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে আধা পাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে যায়, ফলে কৃষক সহ লোকজন চরম ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়েন। সরকারের সর্বোচ্চ সহায়তায় ভিজিডি, ভিজিএফ চাল, নগদ অর্থ এবং কৃষি উপকরণ, সার বিজ, কৃষকদের প্রনোদনা সহ সকল প্রকার সহযোগিতা এখনো চলমান রয়েছে। এদিকে বোরো মৌসুমের শুরুতেই হাওর জুড়ে দেখা যাচ্ছে সবুজের সমারোহ। আগাম ফলনকৃত ধান পেঁকে যাওয়ায় কৃষকরা ধান কাঁটার যন্ত্র নিয়ে সকাল থেকেই হাওরের দিকে ছুটে যাচ্ছেন আর কৃষানীরা তাদের সোনালী ফসল গোলায় উঠাতে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন। ইতো মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রুপ বেধে কৃষি শ্রমিকরা আসতে শুরু করেছেন। এদিকে হাওর পাড়ের কৃষকরা জানান, ভূরাখালী, দাসনোয়াগাঁও, হরিনাকান্দি, মেঘাকান্দি, গাদিয়ালা, বেতাউকা চিলাউড়া সহ আশ পাশের গ্রামগুলো বোরো ফসলের উপর নির্ভরশীল। অনেকেই পণ করে রেখেছেন গোলায় ধান তোলার পর মেয়ের বিয়ে দিবেন, ছেলেকে বিয়ে করাবেন। এছাড়াও বিভিন্ন অনুষ্টান আয়োজনের দিন ক্ষনও ঠিক করে রেখেছেন। তবে যেভাবে প্রকৃতি অনুকূলে রয়েছে আশা করা যায় এবার সকলের আশা পূর্ণ হবে। রবিবার থেকে মইয়ার হাওরের একটি অংশ জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের ইছগাঁও নয়াবন্দ হাওরে ব্রি-২৮ এবং ব্রি-২৯ জাতের ধান কাঁটা শুরু হয়েছে। একই ভাবে উপজেলার একটি পৌরসভা ও ৮টি ইউনিয়নের সবক’টি হাওরে ব্রি-২৮ ও ব্রি-২৯ জাতের ধান কাটা শুরু হয়েছে। রবিবার সকালে ইছগাঁও নয়াবন্দ হাওরে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায় কৃষকরা মনের আনন্দে ধান কাটঁছেন। কথা হয় ইছগাঁও গ্রামের ষাটোর্ধ বয়সী কৃষক মিছির আলীর সাথে। তিনি জানান চলতি বোরো মৌসুমে এবার ৩৬ কেদার জমিতে ব্রি-২৮, ব্রি-২৯ ও হাইব্রিড জাতের ধানর আবাদ করেছি। ভালো ফলন হয়েছে। ইতোমধ্যে ধান কাঁটা শুরু করেছি। বিগত ২টি মৌসুমে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারনে এক মুঠো ধান গোলায় তুলতে পারিনি। তবে এবার বাম্পার ফলন হওয়ায় এবং সময় মতো ধান কাঁটতে পেরে আনন্দ লাগছে। কথা হয় ইছগাঁও গ্রামের পঞ্চাষোর্ধ কৃষক আব্দুল জলিলের সাথে তিনি জানান, এবার ৩০ কেদার জমিতে ধান রোপন করেছি। ভালো ফলন হওয়ায় মনে আনন্দ লাগছে। গত ২দিন থেকে ব্রি-২৮ ধান কাঁটা শুরু করেছি। কথা হয় কৃষি শ্রমিক ইছগাঁও গ্রামের আপ্তাব আলী,করিম উল্ল্যা, জলিল মিয়া সহ আরো অনেক কৃষি শ্রমিকদের সাথে তারা জানান, চলতি বোরো মৌসুমের শুরুতে হাওরে পাকা ধান কাটতে পেরে মহা খুশী। হাওর গুলোতে যে পরিমানের ফলন হয়েছে তাতে এবার বাম্পার ফসলের সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষি অফিস জানায়, চলতি বোরো মৌসুমে জগন্নাথপুর উপজেলার ৯টি হাওরে ১৪হাজার ৪শ ৭৫ হেক্টর এবং হাওর বহির্ভূত ৫হাজার ৮শ ৫৮ হেক্টরসহ মোট ২০হাজার ৩শ ৩৩ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে বৃহৎ নলুয়ার হাওরে ৪হাজার ২শ হেক্টর, বৃহৎ মইয়ার হাওরে ২হাজার ১শ ৫০ হেক্টর, জামাই কাঁটা হাওরে ১হাজার ৮শ হেক্টর, হাফাতি হাওরে ১হাজার ৫শ হেক্টর, পারুয়ার হাওরে ১হাজার ৬শ হেক্টর, বানাইর হাওরে ১হাজার হেক্টর, রাঙ্গারকিত্তা হাওরে ৫শ ৫৫ হেক্টর, ডলুয়ার হাওড়ে ৬শ ২০ হেক্টর এবং পিংলার হাওরে ১হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে এবং হাওর বহির্ভূত ৫হাজার ৮শ ৫৮ হেক্টর জমিতে ব্রি-২৮, ব্রি-২৯, ব্রি-৫০, ব্রি-৫৮, ব্রি-৫৫, বিআর-২৬সহ হাইব্রিড জাতের ধান চাষাবাদ করা হয়েছে। এবারে ৮১হাজার ৯শ ৩৫ মেট্রিকটন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যে নির্ধারন করা হয়েছে। তবে বাম্পার ফলন হওয়ায় ১লাখ মে: টন ধান উৎপাদন হওয়ায় সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে বেশী ফলনকৃত ব্রি-২৮,২৯ ও হাইব্রিড এবং হাইব্রিড সুপার ধান কাঁটা শুরু হয়েছে। আগামী ১০/১৫দিনের মধ্যে আগাম ফলনকৃত ধান কাঁটা সম্পন্ন হবে। প্রকৃতি অনূকূলে থাকলে আগামী ২০/২৫দিনের মধ্যেই প্রতিটি হাওরে সব জাতের ফলনকৃত ধান কাঁটা পুরোদমে শুরু হবে। এছাড়াও পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক উপজেলার সবক’টি হাওরে ফসল রক্ষা বাধ নির্মান কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

Buy Cheapest Tramadol Online

go উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ’র সুষ্টু তদারকীতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপজেলায় নিয়োজিত সহকারি প্রকৌশলী এবং অন্যন্য কর্মকর্তা কমিটির নেতৃবৃন্দ সহ জনপ্রতিনিধিরা গুরুত্বের সাথে হাওরের ফসল রক্ষা বাধ তদারকি করে যাচ্ছেন। সম্প্রতি ২/১দিন বৃষ্টিপাত হলেও বাধের ক্ষতি হয়নি। শুক্রবার বিকেল ৪টায় প্রচন্ড ঝড় ও শিলাবৃষ্টি হলে গাছ পালা কাচাঁ ঘরবাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হলেও ফসলের ক্ষতি হয়নি। এদিকে গত ৩দিন জগন্নাথপুর ও দক্ষিন সুনামগঞ্জের বিভিন্ন হাওর পরিদর্শন করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান। রবিবার বিকেল ৪টায় জগন্নাথপুর উপজেলা সদরে একটি অনুষ্টান শেষে জানান, হাওর গুলোতে ধান পাকতে শুরু করেছে। তিনি হাওরের ফসল রক্ষা বাধ প্রসঙ্গে বলেন, চলতি বছরে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক জেলার প্রতিটি উপজেলায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাধ নির্মান কাজ সম্পন্ন করেছে। এরকম ফসল রক্ষা বাঁধ আর কখনো হয়নি, যা ইতিহাস হয়ে থাকবে। তিনি আরো জানান, প্রকৃতি অনুকূলে থাকলে এবছর জেলায় সর্বোচ্ছ ধান উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রা অর্জিত হবে। আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা সিদ্দিক আহমদ জানান, এ পর্যন্ত বিভিন্ন হাওর ঘুরে দেখা গেছে সোনালী ফসলের সমারোহ। বিভিন্ন জাতের ধান পাঁকা শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন হাওরে কৃষকরা ধান কাটা শুরু করে দিয়েছেন। উপ-সহকারি উদ্ভিদ সংরক্ষন কর্মকর্তা তপন চন্দ্র শীল জানান, হাওরগুলোতে ব্রি-২৮ ও ২৯ জাতের ধান কাঁটা শুরু হয়েছে। তবে এ পর্যন্ত পোঁকা কিংবা অন্য কোন কারনে ধানের ক্ষতি হয়নি। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবছর ফসল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা চেয়ে বেশি হবে। 

Mastercard Tramadol
ফেসবুক মন্তব্য