নিউজটি পড়া হয়েছে 64

রোগের অজুহাতে আবারও হাসপাতালে ডেসটিনির রফিকুল।

সিলনিউজ অনলাইন ডেস্কঃ নানান রোগের ছুতোয় আবারও প্রায় আড়াই মাস ধরে হাসপাতালে ভর্তি আছেন ডেসটিনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল আমীন। পেটে ব্যথা নিয়ে কারাগার থেকে গত ১৮ জানুয়ারি বারডেম হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। এরপর বহুমূত্র রোগ, পিঠব্যথাসহ নানা অজুহাতে হাসপাতালের কেবিনে আছেন।

বারডেমের একজন চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যমকে বলেন, এই দফা হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাঁর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার মতো কোনো সমস্যা ধরা পড়েনি। এ কারণে কয়েক দিন পরপর তাঁর চিকিৎসক পরিবর্তন করা হয়ে থাকে। 

বারডেমের ৬০১ নম্বর কক্ষে ভর্তি আছেন রফিকুল আমীন। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় গিয়ে ওই কক্ষের সামনে কোনো পুলিশ সদস্য দেখা যায়নি, তবে রোববার সন্ধ্যায় একজন পুলিশ সদস্যকে দেখা গেছে। 

বারডেম সূত্রে জানা গেছে, পেটে ব্যথা নিয়ে আসায় রফিকুল আমীনের পেটের আলট্রাসনোগ্রাফি করা হয়। তাতে বড় কোনো সমস্যা ধরা পড়েনি। হৃদ্‌রোগ যাচাইয়ে ইসিজি করেও সমস্যা পাননি চিকিৎসকেরা। বিভিন্ন রক্ত পরীক্ষার ফলাফলও স্বাভাবিক এসেছে। সর্বশেষ পিএলআইডি-জনিত (লোয়ার ব্যাকপেইন) সমস্যার কথা বলা হলেও এ-সংক্রান্ত কিছু এখনো পরীক্ষা করা হয়নি। এ জন্য তাঁকে থেরাপি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। 

কেন তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করে রাখা হয়েছে—এই প্রশ্নের জবাবে রফিকুল আমীনের বর্তমান চিকিৎসক জামাল উদ্দিন আহমদ গণমাধ্যমকে জানান প্রশাসনিক বিধিনিষেধের কারণে তিনি এ-সংক্রান্ত কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে অপারগ। 

কারা উপমহাপরিদর্শক মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম জানান, রফিকুল আমীনের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সুস্থ হলে তাঁকে দ্রুত কারাগারে ফেরত আনার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। কেন্দ্রীয় কারাগারের নথিপত্র অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হওয়ার পর রোগী হিসেবে বেশির ভাগ সময়ই তিনি বারডেম হাসপাতালে ছিলেন। গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর তাঁকে কারাগারে ফেরত নেওয়া হলেও কিছুদিন পর তিনি আবার হাসপাতালে চলে আসেন। প্রতিবার কয়েক মাস করে ভর্তি থাকার রেকর্ড আছে তাঁর। প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে তিনিসহ ডেসটিনি গ্রুপের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলা বিচারাধীন রয়েছে। 

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের চিকিৎসক বিপ্লব কান্তি বিশ্বাস জানান কাছে দাবি করেন, প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে হৃদ্‌রোগ, বহুমূত্র রোগ, কিডনিসহ নানাবিধ সমস্যা থাকায় রফিকুল আমীনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এখন তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি নির্ভর করছে তাঁর বর্তমান চিকিৎসকদের ওপর। 
রফিকুল আমীনের আইনজীবী এম মঈনুল ইসলাম জানান কারাবিধি অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ তাঁকে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা নিয়েছে। তাঁকে দৈনিক পাঁচবার ইনসুলিন নিতে হয়। তাঁর সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য উচ্চ আদালতের নির্দেশনা আছে। 

তবে দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, রফিকুল আমীনকে হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দিতে হবে, তাঁরা জানা মতে আদালতের এমন কোনো নির্দেশনা নেই। 
বারডেম সূত্র জানায়, ২০১৩ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়ে বারডেম হাসপাতালে কোনো আসামি না পাঠানোর অনুরোধ করেছিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তারপরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সরকারি হাসপাতালের বদলে এখানেই রাখা হচ্ছে প্রভাবশালী কারাবন্দীদের। 

রফিকুল আমীনের মতো ইয়াবা ব্যবসায়ী আমিন হুদা ও যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী তোফায়েল আহমেদ জোসেফও কয়েক দিন পরপর বিভিন্ন রোগের অজুহাতে হাসপাতালে ভর্তি হন। গণমাধ্যমে খবর বের হলে আবার তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়। আমিন হুদা ও জোসেফকে সম্প্রতি আবারও হাসপাতালে আনা হয়। গণমাধ্যমে খবর বের হওয়ার পর গত বৃহস্পতিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে আমিন হুদাকে ফেরত নেওয়া হয়। গত শনিবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল থেকে জোসেফকে কারাগারে ফেরত নেওয়া হয়।

এ প্রসঙ্গে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এটা নিয়মিত ঘটনা হয়ে যাচ্ছে। দুর্নীতির দায়ে কারাগারে থাকার কথা থাকলেও প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে হাসপাতালে থাকছেন। কারা প্রশাসনের লোকদের যোগসাজশ ছাড়া এটা সম্ভব নয়। তাই সুবিধাভোগী অপরাধীর পাশাপাশি যাঁরা তাঁকে সুবিধা দেওয়ার সঙ্গে জড়িত, তাঁদের সবাইকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। 

এর আগে বিভিন্ন অজুহাতে আসামিদের দীর্ঘ সময় হাসপাতালে অবস্থান নিয়ে প্রথম আলোয় কয়েকটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনগুলো প্রকাশের পর ওই সময় রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে সব কারাবন্দীকে কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। এ ছাড়া ভবিষ্যতে এভাবে কয়েদিদের হাসপাতালে না রাখার জন্য কারা প্রশাসনকে নির্দেশ দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি হাসপাতালে ভর্তি থাকা বন্দীদের ব্যাপারে ১৫ দিন পরপর প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রতিবেদন নিয়মিত এলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি।

সূত্রঃ প্রথম আলো

ফেসবুক মন্তব্য
xxx