প্রথমবারের মতো রোহিঙ্গা শিবিরে যাচ্ছেন মায়ানমারের এক মন্ত্রী : পররাষ্ট্র সচিব

সিলনিউজ অনলাইন ঃঃ প্রথমবারের মতো কক্সবাজার রোহিঙ্গা শিবির যাচ্ছেন মায়ানমারের এক মন্ত্রী, জানালেন পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক। আর তিনি ঢাকা আসছেন চলতি মাসেই। পাশাপাশি আগামী বর্ষায় রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তায় সরকার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে এক আলোচনা এসব কথা জানানো হয়েছে।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় আশ্রয় শিবির এখন কক্সবাজারের কুতুপালং। মায়ানমারে সহিংসতায় পালিয়ে আসা প্রায় এগারো লাখ রোহিঙ্গা থাকছেন এখানে। এরই মধ্যে গাছ কাটায় ভূমি ধসসহ দেখা দিয়েছে পরিবেশ বিপর্যয়ের শঙ্কা। আগামী বর্ষায় এই বিপুল জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।

একশন এইডের আলোচনায় বিশ্লেষকদের মত, রোহিঙ্গা সংকট ও এর সমাধানে প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা, যা মায়ানমারের মধ্যে অনুপস্থিত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে রোহিঙ্গা ইস্যুটি আরও কঠোর ভাবে তুলতে হবে। কারন এটা আর এখন শুধু বাংলাদেশ ও মায়ানমারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। রাখাইন রাজ্য গণহত্যা হয়েছে, এখন এর বিচার আদায় করাটা সব সদস্যের দায়িত্ব।

প্রত্যাবাসনের পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের মানবাধিকারেও জোর দিচ্ছে বাংলাদেশ। তাই প্রত্যাবাসন শেষে বাংলাদেশ টাস্ক ফোর্সের রাখাইন সফরের প্রস্তাব দেয় ঢাকা। আন্তর্জাতিক চাপে সে প্রস্তাবে রাজি হয়েছে মায়ানমার। সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানে নেপিদোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক, বহুপাক্ষিক ও আন্তর্জাতিক প্লাটফর্মে আলোচনা চালাচ্ছে সরকার।

পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক বলেন, এ মাসেই মায়ানমারের একজন মন্ত্রী ঢাকা আসবেন। তখন তিনি কক্সবাজার শিবিরে গিয়ে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলবেন, জানতে চাইবেন কেন তারা দেশে ফিরতে চান না। এই প্রথম মায়ানমারের নীতিনির্ধারকদের একজন শিবিরে যেতে রাজি হয়েছে। এটা তাদের পক্ষ থেকে ইতিবাচক পদক্ষেপ।

এই ইস্যুতে ভারতের ভূমিকা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র সচিব জানান, দিল্লির সহায়তায় সন্তুষ্ট ঢাকা। চলতি মাসেই দেশটির নতুন পররাষ্ট্র সচিব বিজয় কেশব গোখালের সফরে এ নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হবে বলেও আশা তার। 

সূত্রঃ ইন্টিপেন্ডেন্ট

ফেসবুক মন্তব্য