নিউজটি পড়া হয়েছে 164

কে সেই ভ্যালেন্টাইনস!

সিলনিউজটুয়েন্টিফোরডটকম ::: প্রতিটি দিনই ভালোবাসার দিন, ভালোবাসা প্রকাশের দিন। তবুও বছরের একটি বিশেষ দিনকে বেছে নেয়া হয়েছে ভালোবাসা দিবস হিসেবে। বলছি ১৪ ফেব্রুয়ারির কথা। ভালবাসা প্রকাশ করতে এ দিনে প্রিয়জনদের মধ্যে কার্ড, চকোলেট, ফুল এবং বিভিন্ন উপহার সামগ্রী বিনিময় হয়। ভালোবাসা দিবস বা ভ্যালেন্টাইনস ডে কবে থেকে, কিভাবে শুরু হলো তা নিয়ে প্রচলিত রয়েছে নানা গল্প। কিছু মত পার্থক্য থাকার পরও ভ্যালেন্টাইন নামক ক্যাথলিক ধর্মযাজককে নিয়ে কিছু গল্প প্রচলিত আছে, প্রতিটি গল্পেই একটি জায়গায় মিল রয়েছে, আর সেটি হচ্ছে ভালোবাসার কারণেই মৃত্যু হয় সেইন্ট ভ্যালেন্টাইনের।

এবার গল্পগুলোতে একটু চোখবুলিয়ে আসি:

প্রথম গল্প: প্রাচীন ইতিহাস মতে, যিশু খৃষ্টের জন্মের প্রায় ৩০০ বছর পরে রোমান সম্রাটের সময়ে সেইন্ট ভ্যালেন্টাইন নামে একজন ক্যাথলিক ধর্মযাজক ছিলেন। প্রাচীন রোমে তখনকার সম্রাট ক্লডিয়াস আইন করেন, তার সম্রাজ্যে কোন তরুণ যুবক বিয়ে করতে পারবেন না। তিনি যুবকদের রাজ দরবারে নিয়োগ করতেন। সম্রাট বিশ্বাস করতেন বিয়ে করলে যুবকরা দায়িত্বশীল ও সাহসী থাকতে পারবে এ কারণেই এই আইন। ফলে পুরো রাজ্যে সম্রাটের বিরুদ্ধে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। তবে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও সেই সময়ে ভালবাসাকে কেউ অস্বীকার করতে পারেনি। তখন সেইন্ট ভ্যালেন্টাইন সিদ্ধান্ত নিলেন, এই আইন তিনি মানবেন না। তিনি গোপনে প্রেমিক যুগলের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করলেন।

পরে যখন জানাজানি হওয়ার পর সম্রাট তাকে রাজ দরবারে ডেকে পাঠান এবং নির্দেশ অমান্য করায় কারাবন্দি করার নির্দেশ দেন। জেলে থাকাকালে ভ্যালেন্টাইনের সঙ্গে জেল রক্ষকের মেয়ের পরিচয় হয়। ভ্যালেন্টাইন কারাবন্দি থাকা অবস্থায় প্রায়ই জেলারের মেয়ে তার সাথে দেখা করতে আসতেন। এক সময় মেয়েটির সঙ্গে সেইন্ট ভ্যালেন্টাইনের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এ কথা জানতে পেরে রাজা রেগে গিয়ে ভ্যালেন্টাইনকে হত্যা করার নির্দেশ দেন। তখন ভ্যালেন্টাইন সেই মেয়েটির কাছে ভালবাসার চিরকুট পাঠান। যেখানে সবশেষে লেখা ছিল ‘ফ্রম ইউর ভ্যালেন্টাইন’। সেই থেকে প্রেমিক যুগলদের পাঠানো কার্ড ও চিঠিপত্রে এই লেখাটি ব্যবহার করা হয়।

দ্বিতীয় গল্প: রোমানদের একটি কারাগার ছিল যেখানে বন্দিদের মারাত্মক অত্যাচার-নির্যাতন করা হত। সেখানে সেন্ট ভ্যালেন্টাইন নামে একজন ধর্মযাজক ছিলেন যিনি সেই বন্দিখানা থেকে বন্দিদের পালাতে সাহায্য করতেন। সেখান থেকে তাকে অনেকে ভালোবাসতে শুরু করেন।

তৃতীয় গল্প: ভ্যালেন্টাইনকে নিয়ে একটি রোমান্টিক গল্প প্রচলিত ছিল। জেলারের মেয়ের সঙ্গে কারাবন্দী ভ্যালেন্টাইনের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। ভ্যালেন্টাইনের কারাবন্দীর সময়ে জেলারক্ষীর মেয়েটি প্রায়ই জেলখানায় আসত। এই মেয়েটির মতো অনেক প্রেমিক যুগল তার জন্য ফুল-কার্ড নিয়ে আসতো। তাকে সাহস যোগাতো।

যদিও এগুলো সবই প্রচলিত গল্প, তারপরও অনেকে ভ্যালেন্টাইনকে একজন সাহসী, সহানুভূতিশীল, দয়ালু এবং সর্বোপরি একজন রোমান্টিক ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। নিজের গুনাবলী এবং আধাত্মিক ক্ষমতার জন্য সেইন্ট ভ্যালেন্টাইন ফরাসি এবং ব্রিটিশ সম্রাজ্যে ব্যাপক জনপ্রিয় একজন ধর্মযাজক হয়ে উঠেছিলেন। অনেকে বিশ্বাস করেন, ২৭০ সালে ভ্যালেন্টাইনকে হত্যার এই দিনকে সম্মান জানানোর জন্য দিবসটি ধার্য্য করা হয়েছে।

প্রাচীন রোমে দেবতা ফানুয়াসকে উৎসর্গ করে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি একটি দিন ছুটি পালন করত। সেই ছুটিতে লুপারকালিয়া নামে একটি উৎসব হতো। এটা তখনকার সময়ে রোমানদের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ছিল। কারন উৎসবে তরুনরা লটারির মাধ্যমে তরুনীদের বেছে নিত এবং তারা সারা বছর প্রেমে মগ্ন থাকত। কখনো কখনো এই জুটির ভালবাসার চূড়ান্ত পরিনতি বিয়ে পর্যন্ত গড়াতো।

রোমান সম্রাজ্যের পতনের পর খৃষ্টানরা লুপারকালিয়া অনুষ্ঠানকে পুরোপুরি নিষিদ্ধ করে। পঞ্চম শতাব্দিতে পোপ গেলাসিয়াস রোমানদের পৌত্তলিক ছুটির পরিবর্তে অন্য একটি দিন ধার্য্য করেন যেটা ভ্যালেন্টাইনকে উৎসর্গ করা হয়। মানুষেরা সেখান থেকেই ১৪ই ফেব্রুয়ারিকে ভ্যালেন্টাইন দিবস হিসেবে পালন করা শুরু করেন। তবে এর মধ্যে কোনটি সত্য আর কোনটি অতিরঞ্জিত সেই রহস্যের সমাধানের ভার ইতিহাসবিদদের হাতেই ন্যাস্ত থাকুক।

সুত্র: ইন্ডিপেনডেন্ট টিভি

ফেসবুক মন্তব্য
xxx