নিউজটি পড়া হয়েছে 83

জগন্নাথপুরে শ্বশুর বাড়িতে স্বামীর চুরিকাঘাতে স্ত্রী আহত, ঘাতক দিলাল গ্রেফতার।

জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: জগন্নাথপুরে পারিবারিক কলহের জের ধরে শ্বশুর বাড়িতে স্বামী দিলাল মিয়ার উপর্যপরি ছুরিকাঘাতে ২সন্তানের জননী রোজিনা বেগম (২৮) গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে মুমুর্ষ অবস্থায় প্রথমে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।আজ (সোমবার) দুপুরে উপজেলার জগন্নাথপুর পৌর শহরের কেশবপুর উত্তরপাড়া এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটেছে।

জানা যায়, জগন্নাথপুর উপজেলার মীরপুর ইউনিয়নের আধুয়া গ্রামের ফজর আলীর পুত্র দিলাল মিয়ার সাথে জগন্নাথপুর পৌর শহরের কেশবপুর উত্তর পাড়া এলাকার বাসিন্দা ছবরু মিয়ার মেয়ে রোজিনা বেগমের বিয়ে হয়। দীর্ঘ সংসারে তাদের ২টি কন্যা সন্তান রয়েছে। আহত রোজিনা বেগমের ভাই রুমেন আহমদ জানান, দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে কলহের সৃষ্টি হয়।

আজ সকালে রোজিনা বেগম এবং তার স্বামী দিলাল মিয়া হঠাৎ করে কেশবপুরে আসেন। প্রায় ঘন্টা খানেক পর দিলাল মিয়া ও রোজিনার মধ্যে ঝগড়া হয়। সকাল অনুমান ১১টায় দিলাল মিয়া তার স্ত্রী রোজিনা বেগমকে কেশবপুর এলাকায় সড়কের পাশে ডেকে নিয়ে মাটিতে ফেলে গলায় ছোরা দিয়ে হত্যার চেষ্টা চালায়। এসময় রোজিনা বেগম বাচাঁর জন্য চিৎকার দিলে দিলাল মিয়া ছোরা দিয়ে রোজিনা বেগমের শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতারি আঘাত করে। লোকজনদের উপস্থিতি টের পেয়ে দিলাল মিয়া পালানোর চেষ্টা করে।

ঘটনাটি থানায় জানালে এস আই গোলাম ফাত্তাহ মুর্শেদ চৌধুরীর নেতৃত্বে পুলিশদল জগন্নাথপুর-বিশ্বনাথ সড়কের পৌর শহরের হবিবপুর এলাকায় একটি যাত্রীবাহি বাসে তল্লাশি চালিয়ে দিলাল মিয়াকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

এদিকে ছুরিকাঘাতে রোজিনা বেগমের গলা মূখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখম অবস্থায় প্রথমে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তার অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় দ্রুত সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আহত রোজিনা বেগম হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত দিলাল মিয়ার বিরুদ্ধে মাদক দ্রব্য আইনে দায়েরকৃত একটি মামলার সে পলাতক আসামী। তার স্ত্রী রোজিনা বেগমকে আঘাত করার ঘটনায় কোন মামলা দায়ের হয়নি। দিলাল মিয়াকে মাদকদ্রব্য আইনে দায়েরকৃত মামলায় পলাতক আসামী হিসেবে আদালতে পাঠানো হয়েছে।  

ফেসবুক মন্তব্য