নিউজটি পড়া হয়েছে 76

জগন্নাথপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক তরুনের রহস্যজনক মৃত্যু: এলাকায় চাঞ্চল্য

জগন্নাথপুর(সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: জগন্নাথপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আলামিন (১৮) নামের এক তরুনের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। সে পৌর এলাকার হবিবপুর কাঁচিবিলেরপাড় গ্রামের বাসিন্দা দিনমজুর সামছুল হকের পুত্র।

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, আলামিন প্রতিদিনের ন্যায় গতকাল শুক্রবার সকাল ৭ ঘটিকায় পৌর শহরের ইকড়ছই এলাকায় বিদ্যুতের সাবস্টেশন থেকে অন্য বিদ্যুৎ কর্মীদের সাথে নিয়ে লাইনে কাজ করার জন্য মালামাল সামগ্রী আনার জন্য সাবস্টেশনে যায়।

বিদ্যুতের ৩৩ হাজার কেভি লাইন অন্যদিন মালামাল বের করার সময় বন্ধ রাখা হলেও গতকাল সংশ্লিষ্টদের অবহেলার কারনে লাইনটি চালু ছিল। এ সময় বিদ্যুতের লাইন মেরামতকারি প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদার আব্দুল হাই বিদ্যুৎ কর্মীদের মালামাল বের করার জন্য আলামিনকে বলেন, সহজ সরল দিনমজুর আলামিন একটি স্টিলমই বের করার সময় উপরে থাকা বিদ্যুতের ৩৩ হাজার কেভি লাইনের তারের সঙ্গে মইটি র্স্পশ করলে এতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আলামিন গুরুতর আহত হয়।

 

এ সময় তার সাথে থাকা একই গ্রামের আকলুছ আলীর ছেলে মক্কুছ আলী(১৬) নামের আরেক কর্মী গুরুতর আহত হয়। আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য  কমপ্লেক্স এ  নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আলামিনকে মৃত ঘোষণা করেন এবং আশংকাজনক অবস্থায় মক্কুছ আলীকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে।

ঘটনার পর আলামিনের মৃত্যুকে ধামাচাপা দিতে বিদ্যুত অফিসের কতিপয় কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তৎপর হয়ে উঠে এবং আলামিনের রহস্যজনক মৃত্যুকে ভিন্নখাতে প্রবাহের চেষ্টা চালায়। পরবর্তিতে একটি দালাল চক্রের মাধ্যমে বড় অংকের টাকার বিনিময়ে বিষয়টি ময়না তদন্ত ছাড়াই তাকে দাফন করা হয়েছে বলে প্রতিবেশি সূত্রে জানা গেছে।

আলামিনের মৃত্যুর ঘটনায় প্রথমে গনমাধ্যম ও প্রত্যক্ষদর্শীদের উপস্থিতিতে তার আত্মীয় স্বজন এ ঘটনা রহস্যজনক বলে এর বিচার দাবি করলেও পরবর্তিতে
তারা বিষয়টি এড়িয়ে যান।

প্রতিবেশিরা জানান, আলামিন একজন সহজসরল ও দিনমজুর ছেলে। তার মৃত্যু কর্তৃপক্ষের অবহেলায় এভাবে হবে আমরা আশা করিনি। শুনেছি অফিসের লোকজন ও কাজের ঠিকাদার টাকার বিনিময়ে বিষয়টি ধামাচাপা দিয়েছে। তার মৃত্যু আমরা রহস্যজনক বলে মনে করি। জগন্নাথপুর উপজেলা বিদ্যুৎ বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী পাবেল আহমদ বলেন, বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে সে (আলামিন) মারা গেছে। সে আমাদের কর্মচারীন য়। তার পরিবার অস্বচ্ছল বলে টাকার বিষয়ে আলাপ আলোচনা চলছে। তার পরিবারের লোকজন ময়না তদন্ত করাতে ইচ্ছুক নয়।এ ব্যাপারে বিদ্যুৎ লাইন মেরামতের ঠিকাদার আব্দুল হাইয়ের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এ ব্যাপারে জগন্নাথপুর থানার এসআই হাবিবুর রহমান (২) জানান,নিহতের পিতা কোন অভিযোগ দিতে রাজি হয়নি। বিষয়টি তারা নিজেদের মধ্যে সমাধান করে নিবে বলে ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়নি।আমরা তার পরিবারের নিকট লাশটি হস্তান্তর করেছি।

ফেসবুক মন্তব্য