নিউজটি পড়া হয়েছে 118

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় আজ।

সিলনিউজটুয়েন্টিফোরডটকম ::: জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা হওয়ার প্রায় ১০ বছর পর রায় ঘোষণা হচ্ছে আজ। বিচারকাজ চলেছে ২৩৬ কার্যদিবস এবং খালেদা জিয়া আদালতে বক্তব্য রেখেছেন ২৮ কার্যদিবস। এ মামলায় তার আইনজীবীরা যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেছেন ১৫ কার্যদিবসে।

দুর্নীতি, নাশকতা ও মানহানীর ৩৭ মামলার আসামি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। স্বামীর নামে গঠন করা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলাটি রায়ের অপেক্ষায়।

খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে, এতিমদের সহায়তার জন্য ১৯৯৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর গঠন করা হয় জিয়া অরফানেজ ট্রাষ্ট। ওই বছরের ১৩ই নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে জিয়া অরফানেজ ট্রাষ্টের নামে দেয়া হয় ২ কোটি ৩৩ লাখ ৩৩ হাজার ৫শ টাকা। সমপরিমাণ টাকা জিয়া মেমোরিয়াল ট্রাষ্টের নামেও দেয়া হয়। তবে, জিয়া মেমোরিয়াল ট্রাষ্টের নামে নেয়া টাকা নিয়ে কোন অভিযোগ নেই দুদকের। জিয়া অরফানেজ ট্রাষ্টের নামে নেয়া টাকার ব্যাপারে দুদক বলছে, রাষ্ট্রীয় ত্রাণ তহবিল থেকে বেআইনিভাবে ট্রাস্টে টাকা নেয়া হয়েছে।

ট্রাষ্ট গঠনে সমাজ কল্যাণ মন্ত্রনণালয়ের কোন নিয়ম মানা হয়নি। খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত ঠিকানাকে এতিমখানার ঠিকানা হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। এতিমখানায় ১০ জন এতিম থাকার কথা থাকলেও কার্যত এতিমখানারই অস্তিত্ব নেই। ট্রাষ্টের ২ কোটি ১০ লাখ ২৭৬ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয় জনকে আসামি করে মামলা করে দুদক।

আসামিপক্ষ বলছে, জিয়াউর রহমানের নামে ট্রাস্ট গঠনে টাকা দেয় কুয়েত সরকার। প্রমাণপত্র হিসেবে কুয়েত দূতাবাসের একটি চিঠিও আদালতে জমা দেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। ট্রাস্টের ২ কোটি ১০ লাখ ২৭৬ টাকা আত্মসাতের যে অভিযোগ করা হচ্ছে তা লাভসহ এখন ৬ কোটি ছাড়িয়ে গেছে ব্যাংকেই জমা আছে।

তবে দুদক বলছে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে এতিমদের জন্য সৌদি আরব থেকে টাকা এসেছিল। তার প্রমাণপত্রও আদালতে জমা দিয়েছেন দুদকের আইনজীবীরা।

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুটি ধারায় এ মামলায় অভিযোগ আনা হয়। দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় রয়েছে অপরাধজনিত বিশ্বাস ভঙ্গ। এ অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। আর ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ ধারার ২ উপধারার অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

এদিকে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাষ্ট দুর্নীতি মামলার বিচার কাজও শেষ পর্যায়ে। এ মামলাতেও দুদকের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ। চলছে আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন। যুক্তিতর্ক শেষ হলে এ মামলারও রায়ের দিন ঠিক হবে।

সুত্র: ইন্ডিপেনডেন্ট টিভি

ফেসবুক মন্তব্য
xxx