নিউজটি পড়া হয়েছে 88

গাছের শিকড় ও লতাপাতার সাথে মিশে আছে জগন্নাথপুরের জমিদার বাড়ি

জগন্নাথপুর(সুনামগঞ্জ)প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে পাইলগাঁও ইউনিয়নে পাইলগাঁও গ্রামে বাস করতেন বাবু ব্রজনাথ চৌধুরী। ব্রজনাথ চৌধুরীর সন্তান রসময় চৌধুরী আর সূখময় চৌধুরী।

রায়বাহাদুর সূখময় চৌধুরী ছিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাজুয়েট, দায়িত্ব পালন করেছেন সিলেটের অনারারী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে ছিলেন সিলেট মিউনিসিপালিটির চেয়ারম্যান।১৯১৯ সালে তিনি পাইলগাঁও গ্রামে তার পিতার নামে প্রতিষ্ঠা করেন ব্রজনাথ হাইস্কুল যা সংক্ষেপে বি এন হাইস্কুল নামে পরিচিত।

 

স্কুলটি প্রথম থেকেই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভূক্ত ছিলো। স্কুলে ছিল একটি উন্নতমানের ছাত্রাবাস। তাই এলাকায় স্কুলটি তখনই বোর্ডিং স্কুল নামে পরিচিতি লাভ করে।রায় বাহাদুর ব্রজেন্দ্র নারায়ণ চৌধুরী ছিলেন রসময় চৌধুরীর ছেলে,সূখময় চৌধুরীর ভাতিজা ও ব্রজনাথ চৌধুরীর নাতি।

ব্রজেন্দ্র নারায়ণ চৌধুরী ছিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এম,এ. বি, এল। তিনি ছিলেন স্বদেশী আন্দোলনের নেতা,তৎকালীন বৃহত্তর সিলেট জেলা কংগ্রেসের সভাপতি এবং অবিভক্ত আসামের প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য। সিলেট শহরের দাড়িয়াপাড়ায় তিনি প্রতিষ্ঠা করেন তার পিতার নামে রসময় মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়।তাদের সিলেট শহরের বাড়িটি ছিল চৌহাট্রায়।

এই বাড়িতেই প্রতিষ্ঠিত হয় সিলেট মহিলা কলেজ। তাদের পরিবারের সবাই এখন কলকাতা এবং আমেরিকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। বাংলাদেশে তাদের কেউই নেই।রয়েছে জমিদার বাড়ির প্রাসাদের ধ্বংসাবশেষ।রয়ে গেছে জমিদারীর ভূ-সম্পত্তি।জমিদার বংশের শেষ জমিদার ব্রজেন্দ্রনারায়ন চৌধুরী মৃত্যু বরন করেন ১৯৭২ সালে। বিভিন্ন সূত্রে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

সরজমিনে গিয়ে স্থানীয় লোকদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, বাবুর বাড়ির সংক্ষিপ্ত ইতিহাস এই বাড়িটির বয়স আনুমানিক ৩০০ বছরের ও বেশী তৎকালীন প্রভাবশালী জমিদার ব্রজনাথ চৌধুরী এই বাড়িটি নিমার্ণ করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে বাড়িটি রাজেন্দ্রবাবুর বাড়ি নামে পরিচিত লাভ করে। এখন স্থানীয় সকলে বাবুর বাড়ী নামে পরিচিত। জমিদার ব্রজনাথ চৌধুরী বৃহত্তর সিলেট বিভাগের হলদিপুর,পাইলগাঁও,জগন্নাথপুর এবং বানিয়াচং এলাকা নিয়ে রাজেন্দ্রবাবুর বিশাল জমিদারী ছিল।এই বাড়ি থেকেই তিনি জমিদারী পরিচালনা করতেন।

এই বাড়িটি তৈরি করতে ১৩ বছর সময় লেগেছিল। এখানে মোট বাড়ির সংখ্যা আসলে তিনটি।প্রথমটি বৈঠকখানা,তারপরেই কাচারীঘর এবং একদম ভিতরে আনন্দরমহল। আন্দরমহলের পাশেই একটি জেলখানা রয়েছে। পুকুর রয়েছে দু’টি। একটি বৈঠকখানার বড়বাড়িটির সামনেই।

আরেকটি ভিতরে আন্দরমহলের পিছনদিকে। আন্দরমহলের পাশের রয়েছে রান্না করার জন্য সুবিশাল এক রান্নাঘর।বৈঠকখানার বড়বাড়িটি সামনে রয়েছে একটি মন্দির, অযন্ত আর অবহেলায় মন্দিরটি ঘন গাছপালায় ঢেকে গিয়েছে। এখানে এখন বড় বড় সাপ এবং অন্যান্য সরীসৃপের বসবাস।

স্থানীয় লোকদের সাথে আলাপ করে আরো জানা যায়, মাঝে মাঝে এই বাড়িতে নাটক করতে ও বাবুর বাড়ি দেখতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন আসেন। পরিত্যাক্ত এ বাড়িটিকে রক্ষায় কোন উদ্যোগ এখন পর্যন্ত নেওয়া হয়নি। ধুলো ময়লা আর জংগলে ভরে যাওয়া ইতিহাসের সাক্ষী বাবুর বাড়িটি রক্ষায় স্থানীয় সরকারের দায়িত্বশীদের দৃষ্টি আকর্ষন করেন প্রত্মতাত্বিক এ সম্পাদটিকে রক্ষায় তারা এগিয়ে আসবেন। তাদের দাবী বাড়িটি সংস্কার করে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে যুগে কুশিয়ারার নদীর পাড়ে পর্যটকদের মুগ্ধ করবে। এর মধ্যে প্রত্মতাত্বিক নির্দশন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পর্যটকদের নিয়ে যাবে প্রায় ৩০০ বছরের আগের ইতিহাসে।

ফেসবুক মন্তব্য