সিলেটে শাহ আব্দুল করিম সাহিত্য উৎসব ২০১৭ সম্পন্ন।

 সিলনিউজ২৪.কমঃ শাহ আবদুল করিম সংগীতের মাধ্যমে মনুষ্যত্ত্ববোধকে জাগ্রত করেছেন।বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত কবি সাহিত্যিকদের মিলনমেলার মাধ্যমে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সিলেটে সম্পন্ন হয়ে গেল জালালাবাদ কবি ফোরাম আয়োজিত শাহ আব্দুল করিম সাহিত্য উৎসব ২০১৭।

উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি একুশে পদক প্রাপ্ত কবি আল মুজাহিদী। সিলেট সেন্ট্রাল উইমেন্স কলেজের অধ্যক্ষ কবি কালাম আজাদের সভাপতিত্বে শাহ আব্দুল করিম সাহিত্য উৎসব সিলেট কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য শহীদ সোলেমান হলে গত শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয়।

জালালাবাদ কবি ফোরামের সভাপতি কবি সিদ্দিক আহমদ ও কবি আনেয়ার মজিদের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচকের বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ কবি-কথা সাহিত্যিক ড. সৈয়দ রোকন। বিশেষ আলোচকের বক্তব্য রাখেন কবি-গবেষকমাহমুদুল হাসান নিজামী, নাট্যব্যক্তিত্ব কবি দৌলত মিজান, অভিনেতা কবি এবিএম সোহেল রশীদ, কবি-গবেষক মুকুল চৌধুরী, কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সহ সভাপতি গল্পকার সেলিম আউয়াল, কবি-গবেষক মুসা আল হাফিজ, কবি-গবেষক সিলেট কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য  সংসদের সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান মাহমুদ রাজা চৌধুরী, পানসী গ্রুপের চেয়ারম্যান কবি আবু বকর সিতু, কবি গোপাল চৌধুরী (ভারত), কবি-গবেষক সাদেক আহমদ, কবি ময়েজ মোহাম্মদ, ছড়াকার আব্দুস সাদেক লিপন, কবি ফয়জুর রহমান, কবি আনোয়ার হোসেন খান, কবি ভাস্কর চৌধুরী, কবি মাহবুব খান, অধ্যাপক কবি বাছিত ইবনে হাবীব। অনুষ্ঠান সকালথেকে শুরু হয়ে দুইটি পর্বে অনুষ্টিত হয়। সকালের পর্বে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত কবি-সাহিত্যিকরা রেজিস্ট্রেশন করেন। পরে সকলের অংশগ্রহণে এবংস্বরচিত কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমে অনুষ্ঠানের মধ্যে প্রাণবন্ততা চলে আসে।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় এবং মূল পর্ব বাদ জুম্মা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি আল মুজাহিদী বলেন, সর্বমানবিক বিশ্বাস এবং ঐতিহ্যেরচেতনাকে ধারণ করে সাহিত্য চর্চা করতে হবে। সাম্প্রতিক সময়ে রোহিঙ্গারা যেভাবে হত্যা এবং নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন তা আমাদের মনুষ্যত্ত্বকে জাগ্রত করে।মা ও মৃত্তিকাকে ভালোবেসে সাহিত্য চর্চা করে দেশের জন্য কাজ করতে হবে।বুদ্ধিবৃত্তিক এবং মুক্তবুদ্ধির চর্চায় নিজেদেরকে আরো সমৃদ্ধ করার প্রচেষ্টা চালাতেহবে। বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিম তাঁর গানের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে সাম্য, ন্যায়-সততা এবং মনুষ্যত্ত্ববোধ অর্জনের জন্য উৎসাহিত করেছেন। অসাম্প্রদায়িক চেতনায়সমৃদ্ধ শাহ আব্দুল করিম সংগীত সাধনার মাধ্যমে আধ্যাত্মিকতার জগতে উজ্জ্বল নক্ষত্রহয়ে আছেন। জীবন ও জগতের অনুধাবনে তাঁর সংগীত হৃদয়ে দীপশিখা জ্বালায়।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ কবি কালাম আজাদ বলেন, শাহ আবদুল করিম সংগীতের মাধ্যমে দৈনন্দিন জীবনের নানা দিক তুলে ধরেছেন আধ্যাত্মিকতার আবরণে। সে গুলো সঠিক ভাবে অনুধাবণ করলেই মানব জীবনের গূঢ় রহস্য উপলব্ধি সম্ভব।

অনুষ্ঠানে শাহ আব্দুল করিমকে নিয়ে স্মৃতি চারণ করেন তাঁর ছেলে শাহ নূর জালাল।অনুষ্ঠানে কবি ও অভিনেতা এবিএম সোহেল রশীদের জন্মদিন উপলক্ষে কেক কেটে তাঁরজন্ম দিন পালন করা হয়। আলোচনা পর্বে শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতির পর্বের আয়োজন করা হয়। এর আগে জাদু প্রদর্শন করেন বিশিষ্ট জাদুশিল্পী আর জেরোকনুজ্জামান এবং মেহেদী আহমদ। এর পরে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনকরা হয়।

এখানে সংগীত পরিবেশন করেন  সুলতান অব সিলেট ব্যান্ড এর ভোকাল শিল্পী রানা শেখ, শিল্পী এম এ মন্নাফ,শিল্পী অভিনাশ বাউল।

শাহ আবদুল করিম সাহিত্য উৎসবে সিলেটসহ সারা বাংলাদেশের বিভিন্ন কবি-
সাহিত্যিকরা তাদের স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করেন। অনুষ্ঠানে কবি রাবেয়া রুবীর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘মায়াবী শাড়ির আঁচল’’ মোড়ক উন্মোচন করেন অতিথিবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে পায়রা প্রকাশন, পানসী রেস্টুরেন্ট, অনলাইন পত্রিকা বঙ্গকণ্ঠ, সময় বিডিনিউজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সার্বিক ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা করেছে।

প্রধান আলোচকের বক্তব্যে শিক্ষাবিদ-কথাসাহিত্যিক ড. সৈয়দ রোকন বলেন, শাহআব্দুল করিম তাঁর সংগীতের মাধ্যমে যেমনি আধ্যাত্বিকতার প্রচার করেছেন তেমনি মানুষের প্রতি প্রেম-ভালোবাসার প্রকাশ করেছেন।

কবি সিদ্দিকী আহমদ এবং তাঁর জালালাবাদ কবি ফোরামকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি এমন একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করার জন্য। দেশের গুণীজনদের সম্মান প্রদর্শন করার মাধ্যমে নিজেদেরই সম্মান বৃদ্ধি পায়।স্মরণীয় ব্যক্তিদের জীবনী পর্যালোচনায় এমন আয়োজন ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেআমার প্রত্যাশা।

ফেসবুক মন্তব্য
xxx