জগন্নাথপুরে বইয়ের মোড়ক উম্মোচন ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা মজমিল মিয়ার শোকসভা অনুষ্ঠিত।

জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধিঃঃ জগন্নাথপুরে ‘শহীদ গাজীর স্বীকৃতি চাই’ বইয়ের মোড়ক উম্মোচন ও সদ্য প্রয়াত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা মজমিল মিয়ার শোকসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার সকাল ১১টায় রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের রাণীগঞ্জ বাজারে এ সভার আয়োজন করা হয়। জগন্নাথপুরের সিনিয়র সাংবাদিক ও মানবাধিকার সংগঠক আলহাজ¦ কায়েস চেীধুরীর সভাপতিত্বে ও সাংবাদিক, মানবাধিকার সংগঠক মোঃ গোলাম সারোয়ারের পরিচালনায় শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন রানীগঞ্জ সিনিয়র মাদ্রাসার ছাত্র মোঃ জুয়েল আহমদ টিপু।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন ‘শহীদ গাজীর স্বীকৃতি চাই’ বইয়ের প্রকাশক সাংবাদিক আবুল কাশেম আকমল। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জাতীয় মানবাধিকার ইউনিটি জগন্নাথপুর উপজেলা শাখার সভাপতি আলহাজ্ব শাহ নুরুল করিম। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন জগন্নাথপুর উপজেলা শাখার সভাপতি ও জগন্নাথপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি জহিরুল ইসলাম লাল মিয়া, জগন্নাথপুর উপজেলা বিএনপির সহ সভাপতি এম. সামসুল ইসলাম, রানীগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডা. ছদরুল ইসলাম, রানীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোঃ মুক্তার মিয়া।

বক্তব্য রাখেন রানীগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী ডা. অতিন্দ্র সূত্রধর, জগন্নাথপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এম. মোতাহীর আলী, রানীগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আজমল হোসেন মিটু, রানীগঞ্জ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগের যুগ্ম-আহবায়ক হাজী এখলাছুর রহমান আখলই, দৈনিক ভোরের ডাক ও দৈনিক জালালাবাদ জগন্নাথপুর প্রতিনিধি আলী আছগর ইমন, রানীগঞ্জ ইউনিয়ন শ্রমিকলীগের সভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধার ছেলে মোঃ সাফি তালুকদার, রানীগঞ্জ ইউনিয়নের বিশিষ্ট কবি জামাল শহিদ প্রমুখ।

উপস্থিত ছিলেন রানীগঞ্জ বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বাবু ধনেশ চন্দ্র রায়, আজাদ মিয়া, মোঃ আঙ্গুর আলী, মোঃ ফারুক মিয়া,  মোঃ হাশিম মিয়া, মোঃ নছর মিয়া মোঃ আব্দুন নুর, হাজী আব্দুল রউফ, মোঃ আবদাল মিয়া, মোঃ মাহতাব মিয়া, মোঃ জিলানী আহমদ, সাংবাদিক বিপ্লব দেবনাথ, মোঃ ফখরুল ইসলাম, দুলন মিয়া, ছাত্রলীগ নেতা জাবের তালুকদার, ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান মিজান, রানীগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাবের সভাপতি সুলেমান মিয়া, রানীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম, বাজার ব্যবসায়ী মোঃ সুমন মিয়া,  মোঃ বাবুল মিয়া, মোঃ আব্দাল মিয়া, মোঃ আব্দুস সামাদ, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার ছেলে সাদ্দাম হোসেন মায়া, মোঃ মাছুম আহমেদ, ব্যবসায়ী মোঃ হারেছ মিয়া, মোঃ লিকছন মিয়া, মোঃ আলফু মিয়া, মোঃ আলীনুর মিয়া, মোঃ সেলিম মিয়া, আব্দুল হামিদ, ছাত্রদল নেতা সৈয়দ মমসাদ আহমদ, ছাত্রনেতা জাবের আল আদনান সহ বাজারের ব্যবসায়ীগন ও সকল শ্রেনী পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

সভাশেষে ‘শহীদ গাজীর স্বীকৃতি চাই’ বইয়ের মোড়ক উম্মোচন করেন অনুষ্টানের প্রধান অতিথিবৃন্দ। যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা মজমিল মিয়া গত ১৯ ডিসেম্বর নিজ বাসভবনে মৃত্যু বরণ করেন।

সভায় বক্তারা বলেন, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মজমিল মিয়া একাত্তরের পহেলা সেপ্টেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর মর্টার শেলের আঘাতে পঙ্গুত্ব বরণ করেন। পরে ডাক্তারগন তার ডান পা কেটে দিলেও তিনি অসুস্থ অবস্থায় জীবনযুদ্ধ চালিয়ে গেছেন।মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক সনদ ও নগদ ৫০০ টাকা পেয়েছিলেন, বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর অধিনায়ক কর্নেল আতাউল গণি ওসমানী ও হাসপাতালে তাকে দেখে আসেন। তিনি পঙ্গু ভাতা পেলেও তাঁর নাম ওঠেনি মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায়। তালিকাভুক্তির সময় সংশিষ্ট সকলের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোন ফলাফল পাননি। তালিকাভুক্তির আশ্বাসও পেয়েছিলেন তিনি কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই আশ্বাস আর বাস্তবে রূপ নেয়নি। বক্তারা বলেন বর্তমান সরকার মুক্তিযোদ্ধের সরকার তাই সকল মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে মজমিল মিয়ার নাম যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ঘোষনা দেয়ারও দাবি জানান।

সিলনিউজটুয়েন্টিফোরডটকম / বিপ্লব/২৩ডিসেম্বর২০১৭

ফেসবুক মন্তব্য
xxx