সিলেটের জল্লায় হচ্ছে ছড়া, ৫ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ সিসিকের

সিলনিউজ২৪.কম: সিলেটের মহাজনপট্টির পেছনেই বড় একটি জলাধার। স্থানীয়রা এটিকে ‘জল্লা’ বলেই চিনেন। এই জল্লায় বেশ কয়েকটি আবাসন কোম্পানির সাইনবোর্ড টানানো। কোথাও কোথাও হাউজিং কোম্পানির নামে চলছে মাটি ভরাটের কাজ। যে ভাবে পারছে জল্লার জমি দখলে নিচ্ছে। এই জল্লাটি এক সময় গভীর ছিল। কিন্তু ময়লা আবর্জনায় জল্লাটি ভরাট হয়ে গেছে। সিলেটের ধোপাদিঘী, পৌর বিপণি হয়ে যে বড় ছড়াটি নেমে গেছে সেটির শেষ স্থল হচ্ছে জল্লা। এটি পানিতে টুইটুম্বুর হয়ে গেলে আর পানি নিষ্কাশনের সুযোগ থাকে না। এ কারণে ময়লা-আবর্জনাময় পানি উপচে এলাকায় চলাচল দায় হয়ে পড়ে। সিলেটের অন্যতম ব্যবসাকেন্দ্র মহাজনপট্টিসহ ৫ এলাকার মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে ইতিমধ্যে কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে সিলেট সিটি করপোরেশন। প্রায় ১ হাজার মিটার দীর্ঘ একটি নতুন ছড়া নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। ওই ছড়া নির্মাণের কাজ গতকাল থেকে শুরু হয়েছে। এটি নির্মাণে ৫ কোটি টাকা ব্যয় হবে বলে জানিয়েছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা। জল্লার চার পাশে হচ্ছে কাস্টঘর, মহাজনপট্টি, কামালগড়, চালিবন্দর, ছড়ার পাড়। জল্লার অদূরে রয়েছে গোয়ালি ছড়া। নতুন করে নির্মিত হাজার মিটার ছড়ার সংযোগ দেয়া হবে গোয়ালি ছড়ার সঙ্গে। এতে করে পানি দ্রুত নিষ্কাশন হবে। স্থানীয় কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম মুনিম জানিয়েছেন, জল্লার পানি নিষ্কাশনের জন্য এতদিন কোনো ব্যবস্থা ছিল না। ফলে প্রায় ১৫ থেকে ২০টি এলাকার ময়লা দুর্গন্ধ পানি এসে জল্লায় পড়ে। আর বৃষ্টিতে পানি বাড়লে উপচে পার্শ্ববর্তী ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ বাসা-বাড়িতে সেটি আঘাত হানে। তিনি বলেন, জল্লা কার সেটি আমরা দেখছি না। এলাকার মানুষের সুবিধার জন্য আমরা নতুন একটি খাল নির্মাণ করছি। আর এই সেই খাল নির্মাণ হলে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে এলাকার মানুষ। স্থানীয়রা জানান, নগরীর ধোপাদিঘীর পাড় হয়ে পৌরবিপণির পাশ দিয়ে যে ছড়াটা ঢুকেছিল সেটির অস্তিত্ব বিলীন হয় জল্লায়। এ কারণে জল্লার পানি নিষ্কাশনের জন্য দাবি ছিল তাদের। এর প্রেক্ষিতে সিলেট সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে এই উদ্যোগ নেয়া হয়। ছড়াটির এক হাজার মিটারের মধ্যে প্রায় ৮০০ মিটার জমি ব্যক্তিমালিকানাধীন। আর ২০০ মিটার জমি সিটি করপোরেশনের। যে স্থান দিয়ে ছড়া নির্মাণ হচ্ছে সেটির উপরে রাস্তা নির্মাণ করা হবে। সিলেটের জল্লা পরিদর্শনের সময় মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে ছিলেন সিনিয়র কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ। তিনি গতকাল জানান- সিলেট নগরীর পানি নিষ্কাশনের জন্য বেশ কিছু প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এই প্রকল্পগুলো কাজ সমাপ্ত হলে নগরবাসী সুফল পাবে। তখন নগরবাসী বুঝবেন কেমন কাজ হচ্ছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আমরা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাবো যাতে বৃষ্টি শুরু হওয়ার আগেই কাজ শেষ হয়।

ফেসবুক মন্তব্য
xxx