বিচার বিভাগের স্বাধীনতা খর্ব হয়নি, বেড়েছে : আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক

সিলনিউজটুয়েন্টিফোরডটকম ::: অধস্তন আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আইনজীবীরা। আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেছেন, এই গেজেটে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা খর্ব তো হয়নি বরং বেড়েছে। সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদও মনে করেন দুই বিভাগের ভারসাম্য এনেছে এই গেজেট।

অপরদিকে সিনিয়র আইনজীবী এম আমীর উল ইসলাম মনে করেন, এ শৃঙ্খলাবিধিতে বিচারকদের সরকারী কর্মচারী বানানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট বার সভাপতির মতে, অধস্তন আদালতের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা বিচারবিভাগ নাকি নির্বাহী বিভাগের কাছে থাকবে এ নিয়ে টানাপড়েন চলছিলো গত দুই বছর ধরে।সবশেষ সোমবার বহুল আলোচিত বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধির গেজেট প্রকাশ করে সরকার। যেখানে বলা হয় সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ করবে রাষ্ট্রপতি ও আইন মন্ত্রণালয়।

গেজেটে সুপ্রিম কোর্টের সাথে পরামর্শ করে সব করার কথা বলা হলেও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা সরকার ও রাষ্ট্রপতির কাছে থাকা নিয়ে ভিন্নমত প্রকাশ করেছে সিনিয়র আইনজীবীরা।

আইনমন্ত্রী মনে করেন, এই শৃঙ্খলাবিধিতে বিচারবিভাগের স্বাধীনতা খর্ব হয়নি বরং বেড়েছে। আর অ্যাটর্নি জেনারেল বলছেন, বিচারবিভাগ এক ব্যক্তির শাসন থেকে রক্ষা পেয়েছে।

রাষ্ট্রের প্রধানআইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম বলেন, সাবেক প্রধান বিচারপতি চেয়েছিলেন সমস্ত ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের হাতে থাকবে। সেটাতো সংবিধান বিরোধী। আর সংবিধানে আছে রাষ্ট্রপতি করবেন; কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের সাথে পরামর্শ করবেন।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতির মতে, এ শৃঙ্খলাবিধির ফলে অধস্তন আদালতের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আর বিচারবিভাগ পৃথকীকরণ মামলার অন্যতম আইনজীবী এম আমীর উল ইসলাম মনে করেন, বিচারকদের সরকারি কর্মচারী বানিয়ে ফেলা হয়েছে।

ব্যারিস্টার এম আমিরুল উল ইসলাম বলেন, ‘তাদেরকে যদি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী বিধি-বিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সেটা হবে খুবই হবে দুর্ভাগ্যজনক।

সুপ্রিম কোর্টের সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদিন বলেন, মাসদার হোসেন মামলায় যে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে; এই গেজেট প্রকাশিত হওয়ার ফলে সেই স্বাধীনতা আর বিচার ভোগ করতে পারবে না।

যদিও ভিন্নমত পোষণ করেছেন সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ।তার মতে, এই শৃঙ্খলাবিধি দুই বিভাগের মধ্যে ভারসাম্য বিধান করেছে। এই গেজেট প্রকাশিত হওয়ার ফলে বিচারবিভাগের সঙ্গে বৈরিতা হয়নি। এছাড়াও এটা বলা যায় না যে আইনমন্ত্রণালয়ের বিরোধ দেখছি না।

বুধবার এই গেজেট আপিল বিভাগে দাখিল করবে অ্যাটর্নি জেনারেল। ঐদিন গেজেটের অসংগতি আদালতে তুলে ধরা হবে বলে জানান, সিনিয়র আইনজীবীরা।

সুত্রঃ সময় টিভি 

ফেসবুক মন্তব্য
xxx