নিউজটি পড়া হয়েছে 93

দিনেও জ্বলে সড়কবাতি।

সিলনিউজ২৪.কমঃ সিলেট নগরের কাজিরবাজার সেতুতে দিনেও জ্বলছে সড়কবাতি। প্রায় দিনই এমন ঘটনা ঘটছে। গত ১০ দিনে অন্তত ৬ দিনই এ দৃশ্য দেখা গেছে। নগরের সচেতন বাসিন্দাদের অভিমত, সন্ধ্যার পর নগরের পাড়া-মহল্লায় প্রায় সময়ই বিদ্যুৎ-বিভ্রাট দেখা দেয়। এ অবস্থায় দিনের বেলায় কাজিরবাজার সেতুতে সড়কবাতি জ্বলে থাকা রীতিমতো খামখেয়ালিপনার নজির।

নগরের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত সুরমা নদীর কাজিরবাজার অংশে কাজিরবাজার সেতুর অবস্থান। ২০১৫ সালের ৮ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ১২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটি উদ্বোধন করেন। চার লেনের এই সেতুর দৈর্ঘ্য ৩৯১ মিটার ও প্রস্থ প্রায় ১৯ মিটার। সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুটিতে ১২৬টি সড়কবাতি রয়েছে। চলতি মাসের প্রথম ১০ দিনের মধ্যে ১,৪, ৫,৬, ৮ ও ৯ ডিসেম্বর সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সেতুতে থাকা সড়কবাতিগুলো জ্বলতে দেখা গেছে। গত ১৩ নভেম্বরও একই দৃশ্য ছিল।
সেতুর দুই পাড়ের আটজন বাসিন্দা জানিয়েছেন, সন্ধ্যার পর সেতুর ওপর স্থাপিত সোডিয়াম বাতিগুলো জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। তখন আলোর রোশনাই ছড়িয়ে পড়লে সেতু এক মোহনীয় রূপ পায়। এটি দেখতে বিপুলসংখ্যক নগরবাসী সন্ধ্যার পর থেকেই সেতুতে ভিড় করেন। কিন্তু প্রায় সময়ই দিনের বেলা বাতিগুলো জ্বলতে থাকে। এতে করে বিদ্যুতের অপচয় হচ্ছে। অথচ চাহিদা অনুযায়ী নগরবাসীকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারছে না বিদ্যুৎ বিভাগ।
নাগরিক জোট সিলেটের সভাপতি হুমায়ূন চৌধুরী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘নগরবাসীকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দিতে পারছে না বিদ্যুৎ বিভাগ। এর মধ্যে কাজিরবাজার সেতুতে দিনের বেলাও প্রায় সময় বাতিগুলো জ্বলে থাকে। এটি সেতুটি তদারকি প্রতিষ্ঠান সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গাফিলতি ও খামখেয়ালিপনারই প্রকাশ।’ গত শনিবার দুপুরে সেতু দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন বিলপাড় এলাকার মনাফর আলী। তিনি জ্বলতে থাকা সড়কবাতিগুলো দেখিয়ে প্রশ্ন রাখেন, ‘এসব দেখার কি কেউ নেই?’
সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান বলেন, ‘দিনের বেলা সড়কবাতিগুলো জ্বলে থাকার কথা নয়। ভবিষ্যতে যেন এমনটি আর না হয়, সে জন্য সিটি করপোরেশনের বিদ্যুৎ শাখাকে অবহিত করা হবে।’ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের প্রধান প্রকৌশলী রতন কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘আমিও সেতুতে দিনের বেলা প্রায়ই সড়কবাতি জ্বলে থাকতে দেখে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের অবহিত করেছি। ওনাদের বলেছি, যেহেতু নিয়মিত ওনারা বৈদ্যুতিক বিলও জমা দিতে পারেন না, তাই অন্তত অপচয় যেন তাঁরা রোধ করেন।’
রতন কুমার বিশ্বাস আরও জানান, সিলেট নগরে ৮২ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে পুরো বিদ্যুৎই সরবরাহ করা হয়। মাঝেমধ্যে কোথাও ট্রান্সফরমার বিকল হলে কেবল সেখানে সাময়িক সময়ের জন্য বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকে। তবে কেউ যেন বিদ্যুৎ অপচয় না করেন, সে-সংক্রান্ত নির্দেশনাও নিয়মিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দেওয়া হয়ে থাকে।

সূত্রঃ প্রথম আলো

ফেসবুক মন্তব্য