অফিসের কেরানীকে জাতীয় কবি ভেবেছিলো পাকিস্থানিরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক ::: দেশের প্রথম শ্রেণীর যে কয়জন বুদ্ধিজীবি ছিলেন যুদ্ধকালীন সময়ে তাদের মধ্যে অন্যতম কাজী নজরুল ইসলাম। যিনি পরবর্তীতে তথা বাংলাদেশে স্বাধীন হওয়ার পর জাতীয় কবির মর্যাদা পেয়েছিলেন। সেই কবিকেই যুদ্ধকালীন সময়ে হন্য হয়ে খুঁজেছিলো পাকিস্থানি আর্মিরা। আর কবিকে না পেয়ে অফিসের কেরানীকে ধরে নিয়ে যায় তার। সাধারণ এক কর্মচারীকে কেন ধরে নিয়ে যায় আর্মিরা।

এমন রহস্য’কে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠে সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামছুল হকের উপন্যাস নীল দংশন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২তম নাট্য উৎসবের প্রথম দিনে গতকাল ১১ ডিসেম্বর টিএসপি অডিটেরিয়ামে মঞ্চস্থ হয়েছে নাটক নীল দংশন। যার দিকনির্দেশনা ছিলেন রিপন মজুমদার। নাটকে অভিনয় করেছেন তাওহিদুর রহমান, ওয়ালী হোসেন এমদাদ, দ্বিপা ও রুদ্রা। 

উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত এই মঞ্চ নাটক গভীরে প্রবেশ করেছে অফিসের কেরানী কাজী নজরুল’কে ঘিরে। যাকে আর্মিরা মনে করেছিলো কবি কাজী নজরুল ইসলাম। থাকে দিয়ে পাকিস্থানের পক্ষে কবিতা লেখার জন্য বারবার চাপ প্রয়োগ করা হয়। যাতে করে জনগণ পাকিস্থানের সমর্থন পুষ্ট হয়। কিন্তু অফিসের এই কেরানীর সাধ্য ছিলো না পাকিস্থানের পক্ষে কবিতা লিখার। এমনটি তিনি আর্মিদের বুঝাতে পারেন নি যে তিনি কবি নন। অবশ্যে চিত্রনাট্যের শেষের দিকে কেরানী নজরুল নিজের মধ্যে কবি নজরুলকে আবিষ্কার করেন এবং বিদ্রোহী হয়ে ওঠেন।

১২তম নাট্য উৎসবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগ অভিনেতা আলী জাকের’কে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করে। এছাড়া অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী দিনে চিফ গেস্ট হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর আখতারুজ্জামান, এডুকেশন প্র-ভিসি ড. নাসরিন আহমদে, আর্টস ফ্যাকালিটির ডিন প্রফেসর ড. আবু দেলোয়ান হোসেন এবং নাট্যকলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান আহমেদুল কবির প্রমূখ।

সিলনিউজটুয়েন্টিফোরডটকম/মিলাদ/১২ডিসেম্বর২০১৭

ফেসবুক মন্তব্য
xxx