নিউজটি পড়া হয়েছে 163

ইরাককে আনুষ্ঠানিকভাবে আইএসমুক্ত ঘোষণা।

সিলনিউজটুয়েন্টিফোরডটকম ::: ইরাককে আনুষ্ঠানিকভাবে আইএসমুক্ত ঘোষণার পর বিজয় প্যারেডের আয়োজন করেছে সেদেশের সামরিক বাহিনী। রোববার বাগদাদে সেনা মহড়া উপভোগে প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল আবাদিও অনুষ্ঠানে যোগ দেন। একইদিন দেশটির বিভিন্ন জায়গায় বিজয় উল্লাসে মেতে ওঠে সাধারণ ইরাকিরা। এদিকে, উত্তরাঞ্চলীয় সিনজার পর্বতের দখল নিয়ে ইরাকের কেন্দ্রীয় সরকার ও কুর্দি বাহিনী নতুন করে সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

ইরাকে আনুষ্ঠানিকভাবে আইএস বিরোধী অভিযান সমাপ্তের ঘোষণার পরদিন রোববার বাগদাদে মনোমুগ্ধকর সামরিক কুচকাওয়াজের আয়োজন করা হয়। বিভিন্ন কসরত প্রদর্শনের পাশাপাশি নিজেদের সামরিক সক্ষমতা তুলে ধরেন সেনা সদস্যরা। প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল আবাদি এই প্যারেড উপভোগের পাশাপাশি আইএস বিরোধী লড়াই সফলভাবে শেষ করায় সামরিক বাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

একইদিন জাতীয় পতাকায় ছেয়ে যায় রাজধানী বাগদাদ। দেশ জঙ্গিমুক্ত হওয়ার খবরে উল্লসিত ইরাকিদের চোখে মুখে ছিল স্বস্তির ছাপ। আর কখনো যাতে ইরাক সন্ত্রাসীদের ঘাঁটি হতে না পারে, সেজন্য সরকারকে সদা সজাগ থাকার আহ্বান জানান ইরাকিরা। তারা বলেন, ‘এটা আমাদের জন্য অনেক বড় খবর যে, ইরাকে আইএসের দিন শেষ। আনবার এবং মসুলের বাসিন্দারা বহুদিন ধরে জঙ্গিদের শোষণ-নিষ্পেশনের শিকার হয়ে আসছিলো। শেষ পর্যন্ত আমাদের দেশের সেনারা তাদের পরাজিত করতে সক্ষম হয়েছে। জঙ্গিরা যাতে আর কখনো এদেশে ফিরতে না পারে, সেজন্য সতর্ক থাকতে হবে।

স্থানীয়রা আরো বলেন, ‘এখন আমরা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিশ্চিন্তে রাস্তায় চলাফেরা করতে পারবো। যে কোনো সময় মানুষের মৃত্যু হতে পারে, এটা হয়তো ঠিক, কিন্তু জঙ্গি হামলার শিকার মুহূর্তেই প্রাণহানির আশঙ্কা অন্তত থাকবে না।’ এটা আমাদের জন্য ঐতিহাসিক দিন। তবে শুধু আইএসের হাত থেকে মুক্তির খুশিতে মেতে না থেকে আমাদের সন্তানদের শিক্ষা-দীক্ষার দিকে নজর দিতে হবে। আইএস তরুণ-তরুণীদের ভুল বুঝিয়ে বিপথগামী করেছে। সেই অবস্থার উত্তরণ ঘটাতে হবে।

গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ইরাকের কুর্দিস্তানে স্বাধীনতা প্রশ্নে আয়োজিত গণভোটে ৯২ শতাংশ মানুষ এর পক্ষে রায় দিলেও, কেন্দ্রীয় সরকারের কঠোর প্রতিরোধে সে চেষ্টা ভেস্তে যায়। সেসময় কিরকুকে ইরাকি সেনা ও কুর্দি যোদ্ধাদের পাল্টাপাল্টি অবস্থানে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। শেষ পর্যন্ত অক্টোবরে কিরকুকে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় ইরাক সরকার। অন্যদিকে, গণভোটের ফলাফল অনুযায়ী ইরাক থেকে স্বাধীনতা লাভে ব্যর্থ হওয়ার পর দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেন স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ বারজানি। এ অবস্থায় উত্তরাঞ্চলীয় সিনজারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এই দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়তে। অঞ্চলটি বর্তমানে কুর্দিদের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, সেখানে বসবাসরত ইয়াজিদিরা তাদের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করেছে।

২০১৪ সালে ইরাকে আইএসের তাণ্ডব শুরুর পর বছর থেকে জঙ্গি বিরোধী সম্মিলিত অভিযানে নামে সরকারি বাহিনী। মার্কিন সমর্থিত কুর্দি বাহিনী ও ইয়াজিদি যোদ্ধারা সেই অভিযানে অংশ নিলেও, দেশটি আইএসমুক্ত হতে না হতেও এবার অন্তর্কোন্দেলে জড়িয়ে পড়ছে পক্ষগুলো।

সুত্রঃ সময় টিভি

ফেসবুক মন্তব্য