রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অসংখ্য টিউবওয়েল, মারাত্মক হুমকির মুখে পরিবেশ।

সিলনিউজ২৪.কমঃ হাজার হাজার টিউবওয়েল বসানোর কারণে পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে রোহিঙ্গা ক্যাম্প অধ্যুষিত পাহাড়ি এলাকাগুলোতে। এছাড়া বেড়েছে দূষণের পরিমাণও। পরিবেশ ও পর্যটক কর্মীরা বলছেন, পানির স্তর মাত্রাতিরিক্ত নিচে নেমে যাওয়ায় এর প্রভাব পড়বে পরিবেশে। দূষিত পানির কারণে রোগজীবাণু যেন ছড়াতে না পারে সেজন্য ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানালেন সিভিল সার্জন।

আশপাশে কোন ঘর না থাকলেও টিউবওয়েল বসানো হয়েছে। আবার ক্যাম্পের কোন কোন জায়গায় পর পর টিউবওয়েল থাকলেও কোথাও একেবারেই অনুপস্থিত। গত তিনমাসে নতুন রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে প্রাথমিকভাবে স্থাপন করা কয়েক হাজার টিউবওয়েলের বেশিরভাগই এখন অকেজো। আবার কোন কোন টিউবওয়েল বসানো হয়েছে ল্যাট্রিনের পাশেই।

স্বাস্থ্যকর্মীরা বলেন, শুকনো মওসুমের সময়ে পানি নেয়ার সময় হলেই কষ্টটা বাড়বে। আর পানির লেয়ার তখন থাকবে নিচে। তাতে সমস্যার সৃষ্টি হবে।

ইউনিসেফ বলছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে বসানো নলকূপের ৬৫ শতাংশ দূষিত। আর যেখানে সেখানে নলকূপ বসানোর কারণে এই অঞ্চলের পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। তাতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বনায়ন। এই সব দূষিত নলকূপ সরানো না হলে রোগের প্রকোপ আবারো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা স্বাস্থ্যকর্মীদের।

ক্যাম্পগুলোতে যত্রতত্র টিউবওয়েল বসানো এনজিওগুলোর বাণিজ্যিক কারণে হলেও পরিবেশের জন্য হুমকি বলে মনে করেন এই পরিবেশ ও পর্যটন কর্মী।
তারা বলেন, প্রচুর পরিমাণ গাছ কাটার ফলে পানির স্তর নিচে নেমে গেছে। ফলে এক হাজারর ফুট ডিপ করলেও পানি পাওয়া যাবে না।

কক্সবাজারের সিভিল সার্জন জানান, এখন থেকে অপরিকল্পিতভাবে কোন শ্যালো টিউবওয়েল বসানো ছাড়পত্র দেয়া হবে না। তিনি বলেন, অস্থায়ী ভাবে কিছু ল্যাট্রিন করা হয়েছিল তার মাত্র ২০ ফুটের মাঝেই নলকূপ বসানো হয়েছে। এতে পানি দূষিত হয়ে গিয়েছিল।

একই সাথে যেসব নলকূপের পানি দূষিত হয়ে গেছে সেগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত বন্ধ করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

সূত্রঃ সময় টিভি

ফেসবুক মন্তব্য