নিজস্ব মেধা শক্তি এবং ক্ষমতার ওপর আস্থা রাখাতে হবে : রোকেয়া পদক-১৭ বিতরণকালে প্রধানমন্ত্রী

সিলনিউজটুয়েন্টিফোরডটকম ::: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজস্ব মেধা শক্তি এবং ক্ষমতার ওপর আস্থা রাখার জন্য দেশের নারী সমাজের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নারী ও পুরুষ উভয়ে মিলেই দেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই দেশের সকল নারী-পুরুষ দেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ করে তোলার জন্য আন্তরিকভাবে কাজ করবে। মেয়েদেরকেও সবসময় এটা ভাবতে হবে, যার যে মেধা যার যে শক্তি সে যেন সেটাকে বিকশিত করে।

প্রধানমন্ত্রী আজ সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে রোকেয়া দিবস ও রোকেয়া পদক-২০১৭ বিতরণ উপলক্ষ্যে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের নারীদের নিজের পায়ে দাঁড়িয়েই চলতে হবে। সেটা নিজেদের উদ্যোগে নিতে হবে, কারো মুখাপেক্ষী হয়ে নয়’। তিনি বলেন, চলার পথে নানা বাধা থাকে, বাধা আসবেই সেই বাধাকে অতিক্রম করে আমাদের নারীদের এগিয়ে যেতে হবে।

সকল মা-বোনদের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনা বলেন, সকলের উচিত আমাদের সমাজে যারা একেবারে অবহেলিত জনগোষ্ঠী তাঁদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের মাঝে আত্মবিশ্বাস তৈরি করা এবং তাদের সহযোগিতা করা।

সরকার প্রধান বলেন, সকলে মিলে কাজ করলে নিশ্চয়ই এই সমাজ গড়ে উঠবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি। এছাড়া, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসিমা বেগম অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা প্রদান করেন।

নারীর ক্ষমতায়ন ও উন্নয়নে তাঁর সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি-২০১১ প্রণয়ন করেছে। মাতৃত্বকালীন ছুটির মেয়াদ বেতনসহ ৪ মাস থেকে ৬ মাসে বর্ধিত করা হয়েছে। সন্তানের পরিচয়ের ক্ষেত্রে মায়ের নাম লেখা বাধ্যতামূলক এবং জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যের আসন সংখ্যা বৃদ্ধি করে ৫০ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী নারী উন্নয়নে তার সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন ২০১০ এবং পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) বিধিমালা ২০১৩ এর খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে। ২০১০- এ আইন আমরা প্রণয়ন করেছি।

তিনি বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে যুগব্যাপী জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (২০১৩-২০২৫) প্রণয়ন করা হয়েছে। বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৪ এর খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়েছে। যৌতুক নিরোধ আইন-১৯৮০ সংশোধন করে যৌতুক নিরোধ আইন-২০১৫ প্রণয়ন করা হয়েছে।

মহিলা উদ্যোক্তারা পুরুষদের থেকে ৫ থেকে ৬ শতাংশ কম সুদে ঋণ পাচ্ছেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দরিদ্র মা’র জন্য মাতৃত্বকালীন ভাতা মা ও শিশুর পুষ্টি নিশ্চিত করেছে। ল্যাকটেটিং মাদার সহায়তা তহবিল থেকে গার্মেন্টসে কর্মরত দুগ্ধদায়ী ও গর্ভবতী মা’কেও ভাতা প্রদান করা হচ্ছে।

মহিলা অধিদপ্তরের মাধ্যমে ১৭ হাজার ৬৩৯টি সমিতিতে সরকার অনুদান দিচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ৬৪টি জেলায় ৪৮৯টি উপজেলার ৪ হাজার ৫শ’৪৭টি ইউনিয়নে দুস্থ মহিলা উন্নয়ন (ভিজিডি) কর্মসূচি চালু রয়েছে।

নারী নির্যাতন প্রতিরোধে ওয়ান স্টপ সেন্টারের ভুমিকা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি) সেপ্টেম্বর, ২০১৫ পর্যন্ত ২৩ হাজার ৮শ’ ৮৮ জন নারীকে সেবা প্রদান করেছে। ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেল জানুয়ারি ২০১৩ সাল হতে সেপ্টেম্বর ২০১৫ পর্যন্ত ১৬ হাজার ১শ’ ৭৯ জন নির্যাতনের শিকার নারীকে সহায়তা দিয়েছে। দেশের ৮টি ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে প্রাক্তন ভিকটিমদের নিয়মিত মাসিক ফলোআপ সভা হচ্ছে।

শেখ হাসিনা বলেন, সেপ্টেম্বর ২০১৫ পর্যন্ত ন্যাশনাল ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরীতে মোট ৩ হাজার ২শ’ টি মামলার ডিএনএ পরীক্ষা হয়েছে। ন্যাশনাল হেল্পলাইন সেন্টার ১০ হাজার ৯শ’ ২১ যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও বাল্য বিবাহ বন্ধে কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। বাসস 

ফেসবুক মন্তব্য
xxx