শক্তিমান অভিনেতা শশী কাপুর মারা গেছেন।

সিলনিউজটুয়েন্টিফোরডটকম ::: ভারতের শক্তিমান অভিনেতা শশী কাপুর মারা গেছেন। ৭৯ বছর বয়সে মুম্বাইয়ের কোকিলাবেন হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। সোমবার বিকাল ৫ টা ২০ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

হিন্দি ছবির অভিনেতা মোহিত মারওয়াহ টুইটারের মাধ্যমে প্রথম সবাইকে জানান খবরটি। পরবর্তীতে হিন্দুস্তান টাইমসকে খবরটি নিশ্চিত করেন কোকিলাবেন হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী।

বলিউডের প্রভাবশালী কাপুর পরিবারের সদস্য শশী কাপুর ছিলেন পৃথ্বীরাজ কাপুরের সর্বকনিষ্ঠ পুত্র। তার বড় দুই ভাই রাজ কাপুর এবং শাম্মী কাপুরও ছিলেন হিন্দি সিনেমার বড় দুই দিকপাল। 

ষাট এবং সত্তরের দশকের এই জনপ্রিয় নায়ক ১৯৩৮ সালের ১৮ মার্চ ব্রিটিশ শাসনামলের ভারতের কলকাতা প্রেসিডেন্সিতে জন্মগ্রহণ করেন। শিশু অভিনেতা হিসেবে বড় পর্দায় অভিষেক হলেও ১৯৬১ সালের ‘ধর্মপুত্র’ সিনেমার মাধ্যমে পাদপ্রদীপের আলোয় আসেন শশী। অভিনেত্রী নন্দার বিপরীতে ‘যব যব ফুল খিলে’, ‘নিন্দ হামারি খোয়াব তুমহারে’, ‘রাজা সাব’ ও ‘রুঠা না করো’র মতো সিনেমা দিয়ে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে ওঠেন তিনি।

পরবর্তীতে জিনাত আমানের সঙ্গে ‘চোরি মেরা কাম’, ‘সত্যম শিবম সুন্দরম’, ‘রোটি কাপড়া অউর মাকান’-এর মতো দর্শকপ্রিয় সিনেমার উপহার দিয়েছেন শশী কাপুর। এছাড়াও সেসময়ের জনপ্রিয় নায়িকা ববিতা, শর্মীলা ঠাকুর, হেমা মালিনী ও রাখির সঙ্গে জুটি বেঁধে কাজ করেছিলেন শশী কাপুর। 

আশির দশকেও সক্রিয় ছিলেন শশী কাপুর। সেসময় তার অভিনীত জনপ্রিয় সিনেমাগুলো হলো, ‘শান’, ‘নমক হালাল’, ‘সিলসিলা’ ও ‘সওয়াল’।

ক্যারিয়ারের শুরুতে দুটি ইংরেজিভাষার সিনেমাতেও অভিনয় করেছিলেন শশী কাপুর। বিয়েও করেন এক বিদেশীনি জেনিফার কেন্ডালকে। তাদের ঘরে জন্ম নেয় কুনাল, সানজানা ও করণ নামের তিন সন্তান। 

নব্বইয়ের দশক থেকেই সিনেমায় সম্পৃক্ততা কমিয়ে দেন শশী কাপুর। ২০০০ পরবর্তী সময়ে তাকে পর্দায় সেভাবে আর দেখা যায়নি। ২০১১ তে ভারতের তৃতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পদক পদ্মভূষণে ভূষিত করা হয় তাকে।

বিগত বছরগুলোতে বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন তিনি। ৩ ডিসেম্বর বুকে ব্যাথা উঠলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই একদিন পর মৃত্যু হয় তার।

সুত্রঃ সময় টিভি

ফেসবুক মন্তব্য
xxx