নিউজটি পড়া হয়েছে 33

নতুন প্রজন্মের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছড়িয়ে দিচ্ছে ‘থিয়েটার মুরারিচাঁদ’

সিলনিউজ অনলনাইন ডেস্কঃ সমাজের তৃণমূলে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখায় এ বছর ‘জয়বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছে দেশের তরুণ উদ্যোক্তাদের ৩০টি সংগঠন। ডিসেম্বর মাসজুড়ে, আলো ছড়ানো এ সংগঠনগুলোর গল্প প্রচার হয়েছে। অদম্য বাংলাদেশের গল্পে আজ থাকছে সিলেটের থিয়েটার মুরারিচাঁদের পথচলা।

নাটক সাংস্কৃতিক জাগরণের বৃহৎ মাধ্যম। আর এর মাধ্যমেই নতুন প্রজন্মের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছড়িয়ে দিচ্ছে ‘থিয়েটার মুরারিচাঁদ’। সকল বাধা পেরিয়ে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণে দৃঢ় প্রত্যয়ী এমসি কলেজের এ সাংস্কৃতিক সংগঠনটি।

১৮৯২ সালে সিলেটে প্রতিষ্ঠা হয় মুরারিচাঁদ কলেজ। শত বছরে উপ-মহাদেশের বহু খ্যাতিমান রাজনীতিবিদসহ অসংখ্য গুণীজনের প্রিয় প্রতিষ্ঠানটি সমাদৃত এমসি কলেজ নামে।
কিন্তু নানা কারণে, যুগ যুগ ধরে সাংস্কৃতিক দিক দিয়ে পিছিয়ে ছিলো এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তার কারণও ছিল যথেষ্ট। স্বাধীনতাবিরোধীরা বার বার থামিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছে সংস্কৃতি কর্মীদের।

অবশেষে ২০১৩ সালের ডিসেম্বর মাসে তৎকালীন অধ্যক্ষ ধীরেশ চন্দ্র, প্রগতিশীল কয়েকজন শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠন করেন থিয়েটার মুরারীচাঁদ। নাটক, নাচ, গান, আবৃত্তি এই চার বিভাগে কাজ শুরু করে সংগঠনটি।

থিয়েটার মুরারিচাঁদ-এর প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ইয়াকুব আলী বলেন, মানুষে মানুষে বাধুক জোট এসো সবাই মিলে বাদী জোট। অর্থাৎ আমরা সবাই মিলে বাংলাদেশকে গড়ে তুলি এবং সবাই মিলে বাঙালি জাতীয়তাবাদকে গড়ে তুলি। আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এই সংগঠনে পরিচালনা করি। আমরা চাই এদেশের সব মানুষ মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে তারা লালন করুক।

প্রতিষ্ঠার মাত্র চার বছরে মঞ্চ নাটক, পথনাটক ও আবৃত্তি প্রযোজনাসহ অসংখ্য সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় জঙ্গিবাদ, মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে মানুষের বোধ ও চিন্তা শক্তিকে জাগ্রত করছে সংগঠনটি। ছড়িয়ে দিচ্ছে মুক্তিযুদ্ধে চেতনা।

থিয়েটার মুরারিচাঁদ এর সদস্য সচিব ফাহমিদা এলাহী বৃষ্টি বলেন, একটা পথ নাটক নাম ছিল এ্যান্টিবায়টিক। আর এ নাটকটি জঙ্গিবাদ বিরোধী আন্দোলনে বিরুদ্ধে ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে।

সংগঠনের সদস্য ও সাধারণ শিক্ষার্থী জানান, ‘দেশের মানুষদেরকে ভাল কাজের দিকে নিয়ে আশার জন্য। সংস্কৃতির এ সংগঠনটি অনেক কাজ করে যাচ্ছে।’

এমসি কলেজের শিক্ষকরাও সন্তানের মতো আঁকড়ে রাখছেন থিয়েটারকে। লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অক্ষুণ্ণ রাখতে সদস্যদের উৎসাহ যোগানোর কারিগর তারাই।

মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে সংস্কৃতি চর্চা এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনা ছড়ানোর দৃঢ় প্রত্যয় সংগঠনের কর্মীদের। তাদের সাহসী কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি স্বরূপ এ বছর ‘জয়বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড’-এ সেরা দশে ঠাঁই মিলেছে ‘থিয়েটার মুরারিচাঁদের’।

 

সূত্রঃ সময় টিভি

ফেসবুক মন্তব্য
Share Button