নিউজটি পড়া হয়েছে 27

স্বীকৃতির অপেক্ষায় মুক্তিযুদ্ধে শহীদ পরিবারের স্বজনরা।

সিলনিউজটুয়েন্টিফোরডটকম ::: স্বাধীনতার স্বপক্ষে অবস্থান নেয়ায় একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে পাকবাহিনীর নির্মম নির্যাতনে প্রাণ হারান অনেক নিরীহ মানুষ। দেশ স্বাধীনের ৪৬ বছর পার হলেও রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের কোনো তালিকা করা হয়নি। আজও শহীদ পরিবারের স্বীকৃতির জন্য অপেক্ষা করছে স্বজনহারা পরিবারগুলো।

একই দিনে পৃথিবীতে আসেন কুশিলা ও কৌশলা। আবার একসঙ্গেই স্বামী হারিয়ে সিঁথির সিঁদুর মুছে ফেলতে হয় তাদের। শরীরে বিধবার কাপড় জড়াতে হয় যমজ দুই বোনকে। একাত্তরের জুনে কুশিলা ও কৌশলার স্বামীর মতো গাইবান্ধার পলাশবাড়ির রামচন্দ্রপুর গ্রামে শতাধিক মানুষকে কুপিয়ে হত্যা করে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। সেই থেকে সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষদের হারিয়ে বুকভরা কষ্ট আর যন্ত্রণা নিয়ে কাটছে তাদের প্রতিটা দিন।

স্বজন হারানো কয়েকজন বলেন,  খুব কষ্টে দিন কেটেছে আমাদের। অনেক সময় ভিক্ষা করেও দিন কাটাতে হয়েছে।

দেশ স্বাধীনের পর বঙ্গবন্ধুর দেয়া চিঠি আর দুই হাজার টাকা ছাড়া এই মানুষগুলোর ভাগ্যে তেমন কিছুই জোটেনি। সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ না করলেও স্বাধীনতার স্বপক্ষে অবস্থান নেয়ায় অসংখ্য মানুষের ধমনী থেকে রক্ত ঝরিয়েছে দেশদ্রোহীরা। এমনকি জীবন দিতে হয়েছে লাখো মানুষকে। বিজয় লাভের দীর্ঘদিন পর হলেও তাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবি স্বজনহারা পরিবার ও বিশিষ্টজনদের।

গাইবান্ধার ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সদস্য সচিব আমিনুর জামান রিংকু বলেন, পাকিস্তানি বাহিনী যাদের নির্মমভাবে হত্যা করেছে তাদের পরিবারকে শহীদ পরিবার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া উচিত।

গাইবান্ধার জেলা সংসদ উদীচীর সভাপতি জহুরুল কাইয়্যুম বলেন, তারা বঙ্গবন্ধু কর্তৃক স্বীকৃত শহীদ। রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের তালিকা হওয়া দরকার।

জেলা প্রশাসনের কাছে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের কোনো তালিকা বা সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই। তবে স্বাধীনতা যুদ্ধে স্বজনহারা মানুষদের স্বীকৃতির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নজরে আনার আশ্বাস দিয়েছেন গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক দৌতম চন্দ্র পাল।

তিনি বলেন, আমরা চেষ্টা করব এই তালিকা করার। এছাড়া তাদের কীভাবে স্বীকৃতি দেয়া যায় সে বিষয়ে আমি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করব।

গাইবান্ধা বধ্যভূমি সংরক্ষণ কমিটির তথ্য মতে, জেলায় ২৯টি বধ্যভূমি ও গণকবর রয়েছে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে রাজাকার-আলবদরদের সহায়তায় প্রায় ২০ হাজার মানুষকে হত্যার পর এসব বধ্যভূমি ও গণকবরে ফেলে দেয় পাকিস্তান সেনাবাহিনী।

সুত্রঃ সময় টিভি

ফেসবুক মন্তব্য
Share Button