নিউজটি পড়া হয়েছে 43

মায়ের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন সবার প্রিয় আনিসুল হক।

সিলনিউজটুয়েন্টিফোরডটকম ::: এ শহর মানুষকে কাঁদিয়ে শনিবার দুপুরে ঢাকা আসলেন নগর পিতা আনিসুল হক, আসলেন চিরবিদায় নিতে। মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর যান্ত্রিক এ শহরের মানুষকে নতুন করে স্বপ্ন দেখানো আনিসুল সকলকে কাঁদিয়ে চিরবিদায় নিয়ে বনানী কবরস্থানে মায়ের পাশে ছেলের কবরে চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন এদিন বিকেলেই। এরইমধ্যে জানানো হয়েছে তার কুলখানির বিষয়েও। ৬ ডিসেম্বর বুধবার গুলশানের আজাদ মসজিদে বাদ আসর তার কুলখানি অনুষ্ঠিত হবে।

আজ শনিবার বিকেল পাঁচটায় সাবেক এই নগরপিতাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করার পূর্বে তার দ্বিতীয় জানাজা সম্পন্ন হয় রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে। সেখানে জড়ো হন লাখো জনতা। দল-মত নির্বিশেষে সকলেই উপস্থিত ছিলেন আনিসুলের জানাজায়। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ছাড়াও বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, সংস্কৃতিকর্মী, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সবস্তরের জনতা উপস্থিত হন জানাজায়।

নগরপিতা হওয়ার দুই বছরের মধ্যেই সাধারণ মানুষকে স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন ঢাকাকে বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তোলার। তিনি চলে গেলেও রয়ে গেছে তার স্বপ্ন। আর সেই স্বপ্ন পূরণের মাধ্যমেই তার প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো হবে বলে মনে করেন প্রয়াত এই মেয়রের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে আসা সাধারণ মানুষ।

বিকেল তিনটার দিকে সবস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য যখন আনিসুল হকের মরদেহ আর্মি স্টেডিয়ামে নেয়া হয় তখন সেখানে তিল পরিমাণ ঠাঁই ছিল না স্টেডিয়ামে। সেখানে মানুষের উপস্থিতিই বলে দিয়েছে স্বপ্নের এই কারিগরের প্রতি মানুষের ভালোবাসা ঠিক কতটা। তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে ভিড় করেন লাখো জনতা। কানায় কানায় পূর্ণ স্টেডিয়ামে আনিসুল হককে শ্রদ্ধা জানাতে আসা আশরাফ সিফাত নামের এক ব্যক্তি কাঁদতে কাঁদতে বললেন, আনিসুল হক মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর আমরা নতুন করে স্বপ্ন দেখেছিলাম। কিছুদিনের মধ্যে সেই স্বপ্নের অনেকটাই বাস্তবায়ন করেছিলেন এই নেতা। ভবিষ্যতে নেতৃত্বে আসা মেয়র ও আমরা মিলে তার স্বপ্ন পূরণ করলেই এই নেতার প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো হবে।

তবে শহরের এই অভিভাবক সবাইকে ছেড়ে চলে গেলও তার স্বপ্ন বৃথা হতে না দেয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ঢাকা শহরকে গ্রিন অ্যান্ড ক্লিন করা আনিসুল হকের স্বপ্ন ছিল। তার সেই স্বপ্ন বৃথা যেতে দেব না। তার চলে যাওয়ার শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। এ রকম পরিশ্রমী মানুষ আমি কমই দেখেছি।

এর আগে শুক্রবার লন্ডনের রিজেন্ট পার্ক জামে মসজিদে প্রথম জানাজা শেষে শনিবার দুপুর ১টা ১০ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিয়ে আসা হয় আনিসুল হকের মরদেহ। এ সময় বিমানবন্দরে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরসহ বেশ কয়েকজন মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। আনিসুল হকের ছোট ভাই সেনাপ্রধান জেনারেল আবু বেলাল মো. শফিউল হকও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

আগে থেকেই হাসপাতালে ভর্তি থাকা আনিসুল হকের অসুস্থতা বেড়ে যাওয়ায় মঙ্গলবার লন্ডনের দ্য ওয়েলিংটন হাসপাতালের আইসিইউতে রাখা হয় ৬৫ বছর বয়সী আনিসুল হককে। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা ২৩ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। তখন তার স্ত্রী রুবানা হক ও সন্তানরা পাশে ছিলেন।

গেল ২৯ জুলাই নাতির জন্মদিন উপলক্ষে যুক্তরাজ্যে যান রুবানা হক ও আনিসুল হক। সেখানে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন আনিসুল হক। ১৩ আগস্ট তাকে লন্ডনের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার মস্তিষ্কে প্রদাহজনিত রোগ সেরিব্রাল ভাস্কুলাইটিস শনাক্ত করেন চিকিৎসকরা। এরপর তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল। অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে ৩১ অক্টোবর আইসিইউ থেকে রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়।

সূত্রঃ সময় টিভি

ফেসবুক মন্তব্য
Share Button