নিউজটি পড়া হয়েছে 117

রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া ক্রমশ জটিল করছে মায়ানমার।

সিলনিউজটুয়েন্টিফোরডটকম :::: মায়ানমারের নানা কূটকৌশলের কারণে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া ক্রমশ জটিল থেকে জটিলতর হয়ে উঠছে। সবশেষ রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়ার ক্ষেত্রে যে চারটি শর্ত দেয়া হয়েছে তা মানতে গেলে ১০ শতাংশকেও ফেরত নেয়া সম্ভব হবে না বলে মনে করছেন রোহিঙ্গারা।

মায়ানমারের বাসিন্দা হিসাবে তাদের কোনো কাগজপত্র না থাকায় প্রথম দু’টি শর্তই তারা পালন করতে পারবে না। অন্যদিকে রোহিঙ্গারা পূর্ণ নাগরিক মর্যাদা ছাড়া মায়ানমারে ফিরতে রাজি নয়।

মায়ানমারের স্কুল শিক্ষক মোহাম্মদ ইয়াসির বলেন, ‘মায়ানমার সরকার যে কাগজপত্র চেয়েছে তার কিছুই আমাদের কাছে নেই।

বাংলাদেশে পালিয়ে আসা ৭ লাখ নতুন রোহিঙ্গাকে ফেরত নেয়ার ক্ষেত্রে মায়ানমার সরকারের দেয়া চারটি শর্তের কথা বলছিলেন ইয়াসির। তার মতো সব রোহিঙ্গাই মনে করে নিজ দেশে ফেরত যাওয়ার জন্য মায়ানমার সরকারের দেয়া চারটি শর্তের প্রথম দু’টিই তারা পালন করতে পারবেন না।

প্রথম শর্ত অনুযায়ী মায়ানমার সরকারের দেয়া কোনো বৈধ কাগজ’ই এখন তাদের কাছে নেই। ১৯৮২ সালের পর থেকে মায়ানমার সরকার একের পর এক আট ধরণের পরিচয় পত্র দিয়েছে। সবশেষ রিসিভ কার্ড নিয়ে তাদের মায়ানমার পুলিশ ক্লিয়ারেন্স-বা এম পি সি কার্ড নেয়ার কথা ছিলো।

কিন্তু রিসিভ কার্ড সে দেশের সরকারের কাছে জমা দিলেও এমপিসি কার্ড তারা গ্রহণ করেনি। এছাড়া সেনাবাহিনীর দেয়া আগুনে পুড়ে গেছে তাদের অন্যান্য সব বৈধ কাগজপত্র।

রোহিঙ্গারা বলেন, ‘আগুনে আমাদের ঘর-বাড়ির সাথে কাগজপত্র সব পুড়ে গেছে। রিসিভ কার্ড জমা দিলেও মায়ানমার থেকে আমরা এমপিসি কার্ড পাইনি।

প্রথম শর্তের মতো দ্বিতীয় শর্তেও রয়েছে জটিলতা। সেখানে তাদের নিকটাত্মীয় থাকতে হবে। কিন্তু ২৫শে আগস্ট মায়ানমারে সংঘাত সৃষ্টি হওয়ার পর থেকে রাখাইন রাজ্যে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের অধিকাংশই বাংলাদেশে চলে এসেছে। এ অবস্থায় মায়ানমারে আর কোনো আত্মীয়-স্বজন না থাকায় দ্বিতীয় শর্ত মেনে মায়ানমারে ফেরত যেতে পারবেনা তারা।

তারা বলেন, ‘আমাদের নাগরিকত্ব দিলে আমরা অবশ্যই মায়ানমারে ফিরে যাব। আমাদের সবার ঘরবাড়ি পুড়ে যাওয়ায় প্রায় সব আত্মীয় এদেশে চলে এসেছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মায়ানমার সরকারের এসব শর্তকে রোহিঙ্গাদের ফেরত না নেয়ার টালবাহানা হিসাবেই দেখছেন।

কক্সবাজার নিরাপত্তা বিশ্লেষক লে. কর্নেল অব. ফোরকান আহমেদ, ‘রোহিঙ্গাদের নিয়ে বিভিন্ন সংস্থা কাজ করছে। তারাইতো দেখছে। এখন মিয়ানমার যেটা করছে আমার মনে হচ্ছে স্বেচ্ছায় রোহিঙ্গাদের ফেরত না নেওয়ার একটা ফন্দি।

তবে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সিনিয়র সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আল আমিন বলেন, বাংলাদেশ সরকারের দেয়া রোহিঙ্গা নিবন্ধন কার্ড’ই রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে বড় ধরণের ভূমিকা রাখতে পারে।

১৯৭৮ সাল থেকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ শুরু হলেও ১৯৯১ সালে মিয়ানমার সরকার কিছু রোহিঙ্গাকে ফেরত নেয়। তবে ২০১২ সাল থেকে আবারো ব্যাপক আকারে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করে বাংলাদেশে। বর্তমানে কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ায় নতুন পুরাতন মিলিয়ে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা রয়েছে।

মানুষ মাত্রই স্বাধীনতাকামী। অন্যের দেশে পরবাসী হয়ে কেউই থাকতে চায় না। বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারাও তাই। তারা ফিরে যেতে চায় নিজ দেশ মিয়ানমারে। কিন্তু তার আগে চায় পূর্ণ নাগরিক অধিকার। এ অধিকার তারা কতটুকু পাবে তাই এখন প্রশ্ন বাংলাদেশে অবস্থানরত ৭ লাখ রোহিঙ্গার।

সুত্রঃ সময় টিভি

ফেসবুক মন্তব্য
xxx